ঢাকা ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে কেন যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে না চীন?

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • / 50

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর হরমুজ প্রণালিতে চীনের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বেইজিং থেকে পাওয়া বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, চীন এই অঞ্চলে সামরিক হস্তক্ষেপ বা যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে এখনই কোনো ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে না। এর পেছনে প্রধানত তিনটি কৌশলগত কারণ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রথমত, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অতীতে কখনোই মার্কিন চাপের মুখে নতি স্বীকার করার নজির দেখাননি। গত বছরের শুল্ক নিয়ে বিরোধের সময় যখন ট্রাম্প ১০০ শতাংশেরও বেশি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন, তখন বেইজিং সেই হুমকিকে উপেক্ষা করে পরিস্থিতিকে আরও বাড়তে দিয়েছিল। ফলে ট্রাম্পের বর্তমান প্রচ্ছন্ন হুমকির মুখে চীন তাদের সামরিক নীতি পরিবর্তন করবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

দ্বিতীয় কারণটি হলো চলমান যুদ্ধের শুরু থেকেই চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে আসছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বারবার সংঘাত নিরসনে আলোচনা ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছেন এবং স্পষ্ট জানিয়েছেন যে শক্তি প্রয়োগ কোনো সমাধান নয়। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে সামরিক তৎপরতায় অংশ নেওয়া বেইজিংয়ের বর্তমান অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী হবে।

সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণটি হলো ইরানের সাথে চীনের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। যদিও বিষয়টি দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত নয়, তবে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে যে চীনা জাহাজগুলো এখনো নির্বিঘ্নে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারছে। চীন যেহেতু ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা, তাই তেহরানের সাথে তাদের একটি বিশেষ বোঝাপড়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি চীনা জাহাজগুলো কোনো বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারে, তবে সেখানে বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো যৌক্তিক কারণ বেইজিংয়ের কাছে অবশিষ্ট থাকে না।

নতুন প্রজন্মের অনলাইন টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হরমুজ প্রণালিতে কেন যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে না চীন?

আপডেট সময় : ০৩:৩২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর হরমুজ প্রণালিতে চীনের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বেইজিং থেকে পাওয়া বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, চীন এই অঞ্চলে সামরিক হস্তক্ষেপ বা যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে এখনই কোনো ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে না। এর পেছনে প্রধানত তিনটি কৌশলগত কারণ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রথমত, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অতীতে কখনোই মার্কিন চাপের মুখে নতি স্বীকার করার নজির দেখাননি। গত বছরের শুল্ক নিয়ে বিরোধের সময় যখন ট্রাম্প ১০০ শতাংশেরও বেশি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন, তখন বেইজিং সেই হুমকিকে উপেক্ষা করে পরিস্থিতিকে আরও বাড়তে দিয়েছিল। ফলে ট্রাম্পের বর্তমান প্রচ্ছন্ন হুমকির মুখে চীন তাদের সামরিক নীতি পরিবর্তন করবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

দ্বিতীয় কারণটি হলো চলমান যুদ্ধের শুরু থেকেই চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে আসছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বারবার সংঘাত নিরসনে আলোচনা ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছেন এবং স্পষ্ট জানিয়েছেন যে শক্তি প্রয়োগ কোনো সমাধান নয়। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে সামরিক তৎপরতায় অংশ নেওয়া বেইজিংয়ের বর্তমান অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী হবে।

সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণটি হলো ইরানের সাথে চীনের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। যদিও বিষয়টি দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত নয়, তবে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে যে চীনা জাহাজগুলো এখনো নির্বিঘ্নে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারছে। চীন যেহেতু ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা, তাই তেহরানের সাথে তাদের একটি বিশেষ বোঝাপড়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি চীনা জাহাজগুলো কোনো বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারে, তবে সেখানে বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো যৌক্তিক কারণ বেইজিংয়ের কাছে অবশিষ্ট থাকে না।