ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পথে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি

- আপডেট সময় : ১১:৪৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫ ১৬ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোয় ২০১৫ সালের চুক্তির অধীনে প্রত্যাহারকৃত জাতিসংঘের প্রধান নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি।
এই পদক্ষেপে সক্রিয় হবে তথাকথিত স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম, যার ফলে ৩০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা আবার কার্যকর হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
চুক্তির তিন পক্ষ – যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি (ই৩ – দুই সপ্তাহ আগে সতর্ক করেছিল যে, ইরান যদি আগস্টের শেষে ‘কূটনৈতিক সমাধান’-এ রাজি না হয় তবে তারা এই প্রক্রিয়া শুরু করবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা জুন থেকে স্থগিত রয়েছে, যখন মার্কিন বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায় এবং ইরান জাতিসংঘ-সমর্থিত পরিদর্শকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে।
২০১৫ সালের চুক্তির মধ্যেই স্ন্যাপব্যাক ধারা রাখা হয়েছিল। এতে বলা আছে, কোনো পক্ষ যদি মনে করে ইরান তার অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে, তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে জানিয়ে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা সম্ভব।
‘ই-৩’ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো চিঠিতে জানিয়েছে, ইরানের অঙ্গীকার ভঙ্গ ‘স্পষ্ট ও উদ্দেশ্যমূলক’। তারা অভিযোগ করেছে, ইরানের অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ – যা সামরিক গ্রেডের কাছাকাছি – এর কোনো বেসামরিক ব্যাখ্যা নেই এবং এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ‘স্পষ্ট হুমকি’।
পরবর্তী ৩০ দিন তারা ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইরান সতর্ক করেছে, স্ন্যাপব্যাক চালু হলে তার প্রতিক্রিয়া হবে।
২০১৫ সালের জাতিসংঘ-সমর্থিত চুক্তির অধীনে ইরানের ওপর বছরের পর বছর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল, বিনিময়ে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিকে ত্রুটিপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়ে ২০১৮ সালে সরে যান এবং নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করেন। এর জবাবে ইরানও তার কর্মসূচি বাড়িয়ে দেয়।
পাশ্চাত্য শক্তি ও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বলছে, ইরানের কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ কিনা তা তারা নিশ্চিত নয়। তবে ইরান জোর দিয়ে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবলমাত্র বেসামরিক এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না।