ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এখন বড় চ্যালেঞ্জ নির্বাচনের মাধ্যমে পিসফুল ট্রানজিশন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / 3

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে পুরো বিশ্ব এই সিগন্যাল পাবে যে দেশ আসলে স্থিতিশীল হবে কি না; দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ট্রানজিশনটা ‘পিসফুল ওয়ে’তে হচ্ছে কি না। আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে পিসফুলি এই ট্রানজিশনটা ঘটানো। যদি আমরা এটা পিসফুলি করতে না পারি অস্থীতিশীলতা কিন্তু থেকে যাবে।

আজ (শনিবার) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনীতি সম্মেলন ২০২৫’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অনেকে শিক্ষা খাতের সংস্কারের কথা বলছেন এবং আমি এটার সাথে একমত। আমি মনে করি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। আমাদের গত ১৬ বছর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, অর্থনৈতিক খাতে আমরা রাতারাতি সেটা পরিবর্তন করতে পারব না। সেটা করার চেষ্টাও করা উচিত না। আমার কাছে মনে হয় না সেটা এক বছর, দেড় বছর বা ১৮ মাসে সম্ভব। এটার জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা লাগবে।

তিনি আরও বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পেছনে জনগণ এবং বিশেষত তরুণরা যে রাজপথে নেমে এসেছিল… কোন অর্থনৈতিক অনুপ্রেরণা এবং আকাঙ্ক্ষা এবং লক্ষ্যের ভিত্তিতে তারা নেমে এসেছিল, আমরা যদি এর অনুসন্ধান করতে পারি এবং সেই সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারি তাহলে পরবর্তী ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে আমাদের যে অর্থনৈতিক সংস্কার, সেটা আমরা সম্পন্ন করতে পারব।

নাহিদ বলেন, তরুণরা প্রথম বিদ্রোহ করল ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয়ত ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ’২৪-এর আন্দোলনটা প্রথমে শুরু হয়েছিল ’১৮ সালের আন্দোলনের স্পৃহায়। সেখানেও মূলত চাকরির আন্দোলন, কর্মসংস্থানের আন্দোলন এবং সেই সময় কোটার একটা সুরাহা করা হয়েছিল এবং ওই বছরই আরেকটি বড় আন্দোলন হয়, যেটাকে আমরা কিশোর বিদ্রোহ হিসেবে আখ্যায়িত করি, সেটা হচ্ছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন।

তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনটা মূলত হচ্ছে নগর পরিকল্পনার প্রশ্ন। অর্থাৎ আমরা ঢাকা শহরে এবং পুরো দেশে আমাদের মেট্রোপলিটন সিটিগুলোতে যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই মানুষের জীবন-জীবিকাটা কী রকম? আমাদের শহরে বায়ুদূষণ, পরিবেশদূষণ, ট্রাফিক জ্যাম, দ্রব্যমূলের ঊর্ধগতি এবং কর্মসংস্থানহীনতা, বাসাভাড়া অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এই পুরো ইকোনমিক সিস্টেমের মধ্য দিয়ে কিন্তু ঢাকা শহরের মধ্যবিত্তকে নিম্নবিত্তকে জীবনযাপন করতে হয়। ফলে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনটা ছিল সেই একদম নগর পরিকল্পনার গোড়ার প্রশ্নটা, যেই নগরকে আমরা আমাদের মতো সজ্জিত করতে পারিনি। এই ধরনের শহরে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না। তরুণরা বেঁচে থাকতে পারে না। সেই প্রশ্নটাই কিন্তু নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসার চেষ্টা হয়েছিল।

নতুন প্রজন্মের অনলাইন টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এখন বড় চ্যালেঞ্জ নির্বাচনের মাধ্যমে পিসফুল ট্রানজিশন

আপডেট সময় : ০৮:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে পুরো বিশ্ব এই সিগন্যাল পাবে যে দেশ আসলে স্থিতিশীল হবে কি না; দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ট্রানজিশনটা ‘পিসফুল ওয়ে’তে হচ্ছে কি না। আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে পিসফুলি এই ট্রানজিশনটা ঘটানো। যদি আমরা এটা পিসফুলি করতে না পারি অস্থীতিশীলতা কিন্তু থেকে যাবে।

আজ (শনিবার) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনীতি সম্মেলন ২০২৫’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অনেকে শিক্ষা খাতের সংস্কারের কথা বলছেন এবং আমি এটার সাথে একমত। আমি মনে করি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। আমাদের গত ১৬ বছর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, অর্থনৈতিক খাতে আমরা রাতারাতি সেটা পরিবর্তন করতে পারব না। সেটা করার চেষ্টাও করা উচিত না। আমার কাছে মনে হয় না সেটা এক বছর, দেড় বছর বা ১৮ মাসে সম্ভব। এটার জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা লাগবে।

তিনি আরও বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পেছনে জনগণ এবং বিশেষত তরুণরা যে রাজপথে নেমে এসেছিল… কোন অর্থনৈতিক অনুপ্রেরণা এবং আকাঙ্ক্ষা এবং লক্ষ্যের ভিত্তিতে তারা নেমে এসেছিল, আমরা যদি এর অনুসন্ধান করতে পারি এবং সেই সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারি তাহলে পরবর্তী ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে আমাদের যে অর্থনৈতিক সংস্কার, সেটা আমরা সম্পন্ন করতে পারব।

নাহিদ বলেন, তরুণরা প্রথম বিদ্রোহ করল ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয়ত ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ’২৪-এর আন্দোলনটা প্রথমে শুরু হয়েছিল ’১৮ সালের আন্দোলনের স্পৃহায়। সেখানেও মূলত চাকরির আন্দোলন, কর্মসংস্থানের আন্দোলন এবং সেই সময় কোটার একটা সুরাহা করা হয়েছিল এবং ওই বছরই আরেকটি বড় আন্দোলন হয়, যেটাকে আমরা কিশোর বিদ্রোহ হিসেবে আখ্যায়িত করি, সেটা হচ্ছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন।

তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনটা মূলত হচ্ছে নগর পরিকল্পনার প্রশ্ন। অর্থাৎ আমরা ঢাকা শহরে এবং পুরো দেশে আমাদের মেট্রোপলিটন সিটিগুলোতে যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই মানুষের জীবন-জীবিকাটা কী রকম? আমাদের শহরে বায়ুদূষণ, পরিবেশদূষণ, ট্রাফিক জ্যাম, দ্রব্যমূলের ঊর্ধগতি এবং কর্মসংস্থানহীনতা, বাসাভাড়া অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এই পুরো ইকোনমিক সিস্টেমের মধ্য দিয়ে কিন্তু ঢাকা শহরের মধ্যবিত্তকে নিম্নবিত্তকে জীবনযাপন করতে হয়। ফলে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনটা ছিল সেই একদম নগর পরিকল্পনার গোড়ার প্রশ্নটা, যেই নগরকে আমরা আমাদের মতো সজ্জিত করতে পারিনি। এই ধরনের শহরে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না। তরুণরা বেঁচে থাকতে পারে না। সেই প্রশ্নটাই কিন্তু নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসার চেষ্টা হয়েছিল।