ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এপস্টেইন ফাইলে এবার মোদির নাম, ভারতের প্রতিক্রিয়া

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 4
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত আরো নতুন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। গত শুক্রবার প্রকাশিত নতুন নথিতে এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম উঠে এসেছে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে মোদির নাম আসার বিষয়টিকে ‘ভিত্তিহীন ও নিন্দনীয়’ বলা হয়েছে।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা তথাকথিত এপস্টেইন ফাইলে একটি ই–মেইল বার্তার কথা দেখেছি।

সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদি আর তাঁর ইসরায়েল সফরের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে থাকা ২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির ইসরায়েলে সরকারি সফরের তথ্য ছাড়া বাকি সব দাবিই “চরম অবজ্ঞার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যানযোগ্য’।২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফর ছিল ঐতিহাসিক। ১৯৯২ সালে ভারত ও ইসরায়েলের পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর এটিই ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর।

এদিকে এই ঘটনায় সরাসরি মোদির কাছ থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছেন ভারতের কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘‘এপস্টেইন লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি তার ‘‘পরামর্শ’’ নিয়েছিলেন এবং ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্বার্থে’’ ইসরায়েলে নেচে-গেয়ে অনুষ্ঠান করেছেন।

শেষে ‘এটা কাজ করেছে!’ বলেও নথিতে উল্লেখ আছে। এই বিষয়টি ভারতের ‘জাতীয় মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক সুনামকে’ প্রভাবিত করেছে।’যুক্তরাষ্ট্রের উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানান, সর্বশেষ প্রকাশনায় তিন মিলিয়নের বেশি নথি, দুই হাজারেরও বেশি ভিডিও এবং এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এসব নথির মধ্যে এমন অনেক উপাদান রয়েছে, যা কর্মকর্তাদের মতে গত ডিসেম্বরের প্রাথমিক প্রকাশে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর আওতায় এসব তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কয়েক মাসের রাজনৈতিক ও জনচাপের পর আইনটি প্রণীত হয়। এই আইনে শুধু এপস্টেইন নয়, তার দীর্ঘদিনের সহযোগী ও সাবেক বান্ধবী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সম্পর্কিত নথিও প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। ফেডারেল যৌন পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার এক মাস পর তার মৃত্যু ঘটে, যা কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করে।

নতুন প্রজন্মের অনলাইন টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এপস্টেইন ফাইলে এবার মোদির নাম, ভারতের প্রতিক্রিয়া

আপডেট সময় : ১১:২০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত আরো নতুন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। গত শুক্রবার প্রকাশিত নতুন নথিতে এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম উঠে এসেছে। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে মোদির নাম আসার বিষয়টিকে ‘ভিত্তিহীন ও নিন্দনীয়’ বলা হয়েছে।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা তথাকথিত এপস্টেইন ফাইলে একটি ই–মেইল বার্তার কথা দেখেছি।

সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদি আর তাঁর ইসরায়েল সফরের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে থাকা ২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির ইসরায়েলে সরকারি সফরের তথ্য ছাড়া বাকি সব দাবিই “চরম অবজ্ঞার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যানযোগ্য’।২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফর ছিল ঐতিহাসিক। ১৯৯২ সালে ভারত ও ইসরায়েলের পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর এটিই ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর।

এদিকে এই ঘটনায় সরাসরি মোদির কাছ থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছেন ভারতের কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘‘এপস্টেইন লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি তার ‘‘পরামর্শ’’ নিয়েছিলেন এবং ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্বার্থে’’ ইসরায়েলে নেচে-গেয়ে অনুষ্ঠান করেছেন।

শেষে ‘এটা কাজ করেছে!’ বলেও নথিতে উল্লেখ আছে। এই বিষয়টি ভারতের ‘জাতীয় মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক সুনামকে’ প্রভাবিত করেছে।’যুক্তরাষ্ট্রের উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ জানান, সর্বশেষ প্রকাশনায় তিন মিলিয়নের বেশি নথি, দুই হাজারেরও বেশি ভিডিও এবং এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এসব নথির মধ্যে এমন অনেক উপাদান রয়েছে, যা কর্মকর্তাদের মতে গত ডিসেম্বরের প্রাথমিক প্রকাশে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর আওতায় এসব তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কয়েক মাসের রাজনৈতিক ও জনচাপের পর আইনটি প্রণীত হয়। এই আইনে শুধু এপস্টেইন নয়, তার দীর্ঘদিনের সহযোগী ও সাবেক বান্ধবী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সম্পর্কিত নথিও প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। ফেডারেল যৌন পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার এক মাস পর তার মৃত্যু ঘটে, যা কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করে।