ব্যালট পেপার নিয়ে অনিয়ম ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ের সামনে সড়কে দুই ঘণ্টা ধরে বসে ‘ঘেরাও কর্মসূচি’ পালন করছে ছাত্রদল।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে বিএনপির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলছিল।
এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ১১টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইসি কার্যালয়ের সামনে এসে সড়কে বসে পড়েন।
মিরপুর থেকে আসা ছাত্রদল নেতা জুবায়ের রনি বলেন, একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী ছাত্র রাজনীতির নামে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে ফেলতে তারা নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের মদদেই নির্বাচন কমিশন ব্যালট পেপার নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এর প্রতিবাদ জানাতেই আমরা এখানে এসেছি।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ বিভিন্ন থানা ইউনিটের নেতাকর্মীরা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। প্রায় সব ইউনিটের প্রতিনিধিরাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সড়কে বসে পড়ায় নির্বাচন কমিশনের সামনের ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে পথচারীদের বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
এসময় রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, অনানুষ্ঠানিকভাবে গতকাল আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করার। ব্যালট পেপার ইস্যুসহ একাধিক বিষয় নিয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ওই গোষ্ঠীর নেতারা নিয়মিতভাবে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন এবং সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে অবাধ বিচরণ করছেন, যেখানে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক কাজ নেই।
রাকিব আরও বলেন, আমরা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এখানে এসেছি। যদি এই জবরদস্তিমূলক সিদ্ধান্ত ও বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বন্ধ না হয়, তাহলে ছাত্রদল আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
এদিকে ছাত্রদলের ঘেরাও কর্মসূচির কারণে ইসির সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকে পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ড, অবস্থান করলেও দুপুর ১টার পর সেনাবাহিনীও অবস্থান নিয়েছে।




















