বাবা-ছেলের মনোনয়ন বৈধ, যৌথবাহিনীর অভিযান দাবি হান্নান মাসউদের
- আপডেট সময় : ১০:৪১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / 4
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ ও তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
জানা গেছে, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন না থাকায় রুহুল আমিন হাওলাদার মনোনীত জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী নাসিম উদ্দিন মো. বায়েজিদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল আমিন ও শামীমা আজিমের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে আব্দুল হান্নান মাসউদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মো. মাহবুবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ ফজলুল আজিম ও তানভীর উদ্দিন রাজিব।
এ ছাড়াও জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে এ. টি. এম. নবী উল্যাহ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব, গণঅধিকার পরিষদ থেকে মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে মোহাম্মদ আবুল হোসেন এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) থেকে আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
বাবা ও ছেলে দুজনই প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনী মাঠে সৃষ্টি হয়েছে ভিন্নমাত্রার আলোচনা। দুজনের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবার তুলনায় হান্নান মাসউদের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮ গুণ বেশি। জেলা রিটার্নিং কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, হান্নান মাসউদের হাতে বর্তমানে নগদ রয়েছে ৩৫ লাখ টাকা।
অন্যদিকে তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের কাছে নগদ টাকার পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। সে হিসেবে ছেলের কাছে বাবার তুলনায় ১৮ গুণের বেশি নগদ অর্থ রয়েছে।
হলফনামায় হান্নান মাসউদ নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি আলিম (উচ্চমাধ্যমিক সমমান) পাস। তিনি ঢাকার ‘ডিজিল্যান্ট গ্লোবাল’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক বলে উল্লেখ করেছেন। তার বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার নামে বন্ড ও ঋণপত্রে রয়েছে ১ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ৮ লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্র ১ লাখ টাকার।
অন্যদিকে বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের আয়ের প্রধান খাত কৃষি। হলফনামা অনুযায়ী, তার ইলেকট্রিক সামগ্রীর মূল্য ২৫ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ৭৫ হাজার টাকা।
এদিকে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, এনসিপি সর্বপ্রথম হাতিয়ায় জয়ী হবে। তবে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমরা শঙ্কা প্রকাশ করছি। প্রশাসনকে অস্ত্র উদ্ধারের কথা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসলেও তারা এখনো কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যৌথবাহিনীর অভিযান প্রয়োজন। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। যেহেতু হাতিয়া একটি ভিন্ন ভৌগোলিক এলাকা, তাই এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি আরও বেশি প্রয়োজন। তারা যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে চায়, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। নাহলে আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হবো। প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করবো।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ৪৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়নি। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বা কারও মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে অন্য কোনো প্রার্থী সংক্ষুব্ধ হলে, নির্বাচন কমিশনে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপিল করতে হবে। আপিলের রায় অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় নোয়াখালী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তাহের ও মো. আরিফ হোসেন, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলামসহ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত ছিলেন।

























