ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • / 4

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পরবর্তী সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তেল উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এসব অঞ্চলের রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় বুধবার (৪ মার্চ) বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১ ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ব্রেন্ট তেলের দাম ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৮২ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের পর সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৭৫ দশমিক ৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার ইসরায়ইলি ও মার্কিন বাহিনী ইরান জুড়ে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এ হামলার কারণে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে ক্ষতি হয়, যা বিশ্বব্যাপী তেল উৎপাদনের এক তৃতীয়াংশেরও কম।

পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী ইরাক উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। মজুদের সীমাবদ্ধতা এবং রপ্তানি রুট বন্ধ থাকায় দৈনিক প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন কমেছে, যা দেশটির উৎপাদনের অর্ধেক। যদি রপ্তানি পুনরায় শুরু না হয়, তবে কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৩ মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন বন্ধ করতে হতে পারে। রয়টার্সকে কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।

ইরান হরমুজ প্রণালিতেও ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ব তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রবাহিত হয়। পাঁচটি জাহাজে হামলার পর চতুর্থ দিনের জন্য প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকে।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ট্যাঙ্কারগুলিকে এসকর্ট করতে পারে, যা অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার উপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনতে পারে। তিনি মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থ করপোরেশনকে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা এবং আর্থিক গ্যারান্টি প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে জাহাজ মালিক ও বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, সামরিক এসকর্ট ও বীমা কি বিশ্ববাজারে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট হবে? দেশ এবং কোম্পানিগুলি বিকল্প রুট ও সরবরাহ খুঁজছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া নতুন জ্বালানি উৎস খুঁজছে, আবার কিছু চীনা শোধনাগার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

সৌদি তেল জায়ান্ট আরামকো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের মধ্য দিয়ে কিছু রফতানি রুট পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল বেড়েছে, যা বিশ্লেষকদের অনুমান ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেলকে অনেক বেশি। সরকারি পরিসংখ্যান বুধবার পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন প্রজন্মের অনলাইন টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার পরবর্তী সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তেল উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এসব অঞ্চলের রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় বুধবার (৪ মার্চ) বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১ ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ব্রেন্ট তেলের দাম ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৮২ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের পর সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৭৫ দশমিক ৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার ইসরায়ইলি ও মার্কিন বাহিনী ইরান জুড়ে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এ হামলার কারণে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে ক্ষতি হয়, যা বিশ্বব্যাপী তেল উৎপাদনের এক তৃতীয়াংশেরও কম।

পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী ইরাক উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। মজুদের সীমাবদ্ধতা এবং রপ্তানি রুট বন্ধ থাকায় দৈনিক প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন কমেছে, যা দেশটির উৎপাদনের অর্ধেক। যদি রপ্তানি পুনরায় শুরু না হয়, তবে কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৩ মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন বন্ধ করতে হতে পারে। রয়টার্সকে কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।

ইরান হরমুজ প্রণালিতেও ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ব তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রবাহিত হয়। পাঁচটি জাহাজে হামলার পর চতুর্থ দিনের জন্য প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকে।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ট্যাঙ্কারগুলিকে এসকর্ট করতে পারে, যা অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার উপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনতে পারে। তিনি মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থ করপোরেশনকে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা এবং আর্থিক গ্যারান্টি প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে জাহাজ মালিক ও বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, সামরিক এসকর্ট ও বীমা কি বিশ্ববাজারে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট হবে? দেশ এবং কোম্পানিগুলি বিকল্প রুট ও সরবরাহ খুঁজছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া নতুন জ্বালানি উৎস খুঁজছে, আবার কিছু চীনা শোধনাগার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

সৌদি তেল জায়ান্ট আরামকো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের মধ্য দিয়ে কিছু রফতানি রুট পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল বেড়েছে, যা বিশ্লেষকদের অনুমান ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেলকে অনেক বেশি। সরকারি পরিসংখ্যান বুধবার পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।