ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

থার্টিফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ফোটানোর বিরুদ্ধে সোচ্চার তামিমরা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৩৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 4

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। এই সময়ে ঢাকা মহানগরে আতশবাজি ফোটানো, ডিজে পার্টি করা বা ফানুস ওড়ানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। তবে সে নিষেধাজ্ঞা না মেনেই গত রাতে রাজধানীর বহু এলাকায় আতশবাজি ফোটানোর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন তামিম ইকবাল, অ-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার তানজিদ হাসান তামিম, প্রান্তিক নওরোজ নাবিল, আমিনুল ইসলাম বিপ্লবসহ আরও অনেকে।

থার্টিফার্স্ট নাইটে বা বিদায়ী বছরের শেষ রাত উদযাপন করতে গিয়ে আতশবাজি ফোটানোর পরিণতি রাজধানী ঢাকা বহুদিন ধরেই ভোগ করছে। শেষ কয়েক বছরে আতশবাজি থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড আর এর শব্দে শিশু-বয়োবৃদ্ধদের মৃত্যুর খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। এছাড়া ঢাকার পাখিদের দিকভ্রান্ত হয়ে মাঝরাতে উড়তে থাকার দৃশ্যও বহুবার ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যার ফলে এর সমালোচনা চলছিল আগে থেকেই। এবার যেন এমন কিছু না হয়, সেজন্যে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এ নিয়ে জনসচেতনতাও গড়ে তুলছিলেন।

প্রান্তিক নওরোজ নাবিলও যোগ দিয়েছিলেন সে দলে। সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন ফেসবুক পোস্ট দিয়ে। তিনি বলেছিলেন, ‘আপনার ১০ সেকেন্ডের আনন্দ যেন কারো কান্নার কারণ না হয়। গত বছরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর পরও যদি এ বছর আপনি আতশবাজি, বোমা ইত্যাদি ফোটান; তাহলে সেটাকে আর মানুষি আচরণ বলা যায় না। নতুন বছর শুরু হোক অনেকদিন কথা হয় না এমন বন্ধুকে একটা ফোন দিয়ে, আপনার কারণে কষ্ট পাওয়া কারো কাছে ক্ষমা চেয়ে, পরিবার ও প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটিয়ে, কিংবা কোনো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে। এমন কিছু করবেন না, যা অন্যের কষ্টের কারণ হয়। দেশটা এমনিতেই কঠিন সময় পার করছে। আপনাদের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ। আজ দেশের আকাশ হোক শব্দহীন, আর শুরুটা হোক কাছের মানুষদের নিয়ে: শান্ত, সুন্দরভাবে। আপনি চাইলে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে পারেন; এর চেয়ে সুন্দর শুরু আর কী হতে পারে।’

তবে সেসব উপেক্ষা করেই গত রাতে আতশবাজি ফোটানোর ঘটনা ঘটেছে। যার সমালোচনায় তামিম ইকবাল বলেছেন, ‘দেশে এখন রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। গোটা দেশ শোকে কাতর। সরকার থেকেও নিষেধ করা হয়েছে এ বছর আতশবাজি, পটকা না ফোটাতে, ফানুস না ওড়াতে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখলাম, এবারও পটকার শব্দে কেঁপে উঠছে চারপাশ।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এরপরই তার আকুল আবেদন, সবার প্রতি অনুরোধ, দয়া করে এসব থেকে বিরত থাকুন। মানুষকে স্বস্তি দিন। রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি অনুগত থাকুন। এমন কীর্তিমান একজন মানুষকে আমরা হারিয়েছি, তার প্রতি অন্তত সম্মান জানান।’

তানজিদ হাসান তামিম অবশ্য বিষয়টাকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন, ‘আমরা পাখি দেখতে ভালোবাসি, অথচ নিজেরাই তাদের ভয় পাইয়ে তাড়িয়ে দিই। আমরা নির্মল বাতাসের জন্য আকুল হই, অথচ সেই বাতাসই নিজের হাতে দূষিত করি। আমাদের প্রিয় কেউ অসুস্থ হলে আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই, কিন্তু এই শব্দদূষণের কারণে হাসপাতালে নীরবে কষ্ট পাওয়া রোগীদের কথা ভুলে যাই। আমরা কথা বলি অনেক, কিন্তু আমাদের কাজগুলো থেকে যায় নীরব। আল্লাহ যেন আমাদের সত্যিকার অর্থে আরও ভালো মানুষ হয়ে ওঠার সুযোগ দেন। ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বরকত ও হেফাজত করুন।’

লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব খানিকটা ঝাঁঝাল সুরে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার কথা ভুইলা গেলেন? শহীদ ওসমান হাদীর কথা ভুইলা গেলেন? কয়দিন আগে যে ভুমিকম্প হইলো ঐটাও ভুইলা গেলেন? আবার বইলেন আল্লাহ গজব দিওনা।’

নতুন প্রজন্মের অনলাইন টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

থার্টিফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ফোটানোর বিরুদ্ধে সোচ্চার তামিমরা

আপডেট সময় : ১০:৩৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। এই সময়ে ঢাকা মহানগরে আতশবাজি ফোটানো, ডিজে পার্টি করা বা ফানুস ওড়ানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। তবে সে নিষেধাজ্ঞা না মেনেই গত রাতে রাজধানীর বহু এলাকায় আতশবাজি ফোটানোর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন তামিম ইকবাল, অ-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার তানজিদ হাসান তামিম, প্রান্তিক নওরোজ নাবিল, আমিনুল ইসলাম বিপ্লবসহ আরও অনেকে।

থার্টিফার্স্ট নাইটে বা বিদায়ী বছরের শেষ রাত উদযাপন করতে গিয়ে আতশবাজি ফোটানোর পরিণতি রাজধানী ঢাকা বহুদিন ধরেই ভোগ করছে। শেষ কয়েক বছরে আতশবাজি থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড আর এর শব্দে শিশু-বয়োবৃদ্ধদের মৃত্যুর খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। এছাড়া ঢাকার পাখিদের দিকভ্রান্ত হয়ে মাঝরাতে উড়তে থাকার দৃশ্যও বহুবার ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যার ফলে এর সমালোচনা চলছিল আগে থেকেই। এবার যেন এমন কিছু না হয়, সেজন্যে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এ নিয়ে জনসচেতনতাও গড়ে তুলছিলেন।

প্রান্তিক নওরোজ নাবিলও যোগ দিয়েছিলেন সে দলে। সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন ফেসবুক পোস্ট দিয়ে। তিনি বলেছিলেন, ‘আপনার ১০ সেকেন্ডের আনন্দ যেন কারো কান্নার কারণ না হয়। গত বছরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর পরও যদি এ বছর আপনি আতশবাজি, বোমা ইত্যাদি ফোটান; তাহলে সেটাকে আর মানুষি আচরণ বলা যায় না। নতুন বছর শুরু হোক অনেকদিন কথা হয় না এমন বন্ধুকে একটা ফোন দিয়ে, আপনার কারণে কষ্ট পাওয়া কারো কাছে ক্ষমা চেয়ে, পরিবার ও প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটিয়ে, কিংবা কোনো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে। এমন কিছু করবেন না, যা অন্যের কষ্টের কারণ হয়। দেশটা এমনিতেই কঠিন সময় পার করছে। আপনাদের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ। আজ দেশের আকাশ হোক শব্দহীন, আর শুরুটা হোক কাছের মানুষদের নিয়ে: শান্ত, সুন্দরভাবে। আপনি চাইলে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে পারেন; এর চেয়ে সুন্দর শুরু আর কী হতে পারে।’

তবে সেসব উপেক্ষা করেই গত রাতে আতশবাজি ফোটানোর ঘটনা ঘটেছে। যার সমালোচনায় তামিম ইকবাল বলেছেন, ‘দেশে এখন রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। গোটা দেশ শোকে কাতর। সরকার থেকেও নিষেধ করা হয়েছে এ বছর আতশবাজি, পটকা না ফোটাতে, ফানুস না ওড়াতে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখলাম, এবারও পটকার শব্দে কেঁপে উঠছে চারপাশ।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এরপরই তার আকুল আবেদন, সবার প্রতি অনুরোধ, দয়া করে এসব থেকে বিরত থাকুন। মানুষকে স্বস্তি দিন। রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি অনুগত থাকুন। এমন কীর্তিমান একজন মানুষকে আমরা হারিয়েছি, তার প্রতি অন্তত সম্মান জানান।’

তানজিদ হাসান তামিম অবশ্য বিষয়টাকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন, ‘আমরা পাখি দেখতে ভালোবাসি, অথচ নিজেরাই তাদের ভয় পাইয়ে তাড়িয়ে দিই। আমরা নির্মল বাতাসের জন্য আকুল হই, অথচ সেই বাতাসই নিজের হাতে দূষিত করি। আমাদের প্রিয় কেউ অসুস্থ হলে আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই, কিন্তু এই শব্দদূষণের কারণে হাসপাতালে নীরবে কষ্ট পাওয়া রোগীদের কথা ভুলে যাই। আমরা কথা বলি অনেক, কিন্তু আমাদের কাজগুলো থেকে যায় নীরব। আল্লাহ যেন আমাদের সত্যিকার অর্থে আরও ভালো মানুষ হয়ে ওঠার সুযোগ দেন। ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বরকত ও হেফাজত করুন।’

লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব খানিকটা ঝাঁঝাল সুরে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার কথা ভুইলা গেলেন? শহীদ ওসমান হাদীর কথা ভুইলা গেলেন? কয়দিন আগে যে ভুমিকম্প হইলো ঐটাও ভুইলা গেলেন? আবার বইলেন আল্লাহ গজব দিওনা।’