জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন : জুলাই ঐক্য
- আপডেট সময় : ০২:১৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / 7
জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাড়া কিছুই নয় বলে মন্তব্য করেছেন জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ। তিনি বলেন, সুতরাং যাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই। যারা এই জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল, এনডিএফ ফ্যাসিবাদের সহযোগী যেসব ব্যক্তি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছে এবং যাদের নির্বাচন করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, তাদের প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ভবনের কাছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সামনে ‘মার্চ টু ইলেকশন কমিশন’ কর্মসূচি পুলিশের বাধায় আটকে গেলে সেখানে বিক্ষোভ করে এসব কথা বলেন মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ। বিক্ষোভ শেষে তিনিসহ কয়েকজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে যান।
বিক্ষোভে মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, আমাদের সুস্পষ্ট কথা, জাতীয় পার্টির মতো কোনো বাকশালীদের নির্বাচন করার কোনো সুযোগ বাংলাদেশে দেওয়া হবে না। আমরা হুঁশিয়ারি করে বলে দিতে চাই, যারা বাকশালীদের পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছেন, আপনারা সাবধান হোন, হাসিনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। আপনাদের একই পরিণতি হতে সময় লাগবে না। আপনারা যদি খুনি হাসিনার পথ অনুসরণ করতে চান, ছাত্রজনতা আপনাদের ঠিক একইভাবে খুনি হাসিনার পথে পাঠিয়ে দিতে সক্ষম আছে।

তিনি বলেন, যখন আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল এবং গণহত্যার সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন করেছিলাম, সেই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা দিয়েছিল আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ তাদের সব সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ।
নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি করে জুলাই ঐক্যের এই অন্যতম সংগঠক বলেন, এখনো সময় আছে, জনতার চোখের ভাষাকে বোঝার চেষ্টা করুন। যদি জনতার চোখের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হন, তাহলে আগের নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে যে আচরণ হয়েছে, ঠিক একই আচরণ ও একই পরিণতি আপনার বরণ করতে সময় লাগবে না। আমরা চাই ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় নির্বাচন কমিশন জনগণের নির্বাচন কমিশন হবে। আমরা চাই ৫ আগস্ট পরবর্তী নির্বাচন কমিশন শুধু ন্যায় ও ইনসাফের কথা চিন্তা করবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি এই নির্বাচন কমিশন ফ্যাসিবাদী আচরণ পরিচালনা করার চেষ্টা করছে।
মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, জনগণের সিদ্ধান্তের বাইরে জাতীয় পার্টি, ১৪ দল ও এনডিএফ জঙ্গি লীগের স্বতন্ত্র ক্যান্ডিডেটদের সুযোগ দেওয়া ফ্যাসিবাদী আচরণ ছাড়া আর কিছু নয়। জনতার ভাষা বুঝুন, জনগণের ও ছাত্রজনতার দাবি মেনে নিন। আমাদের রিটে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে, তাই রায় না আসা পর্যন্ত জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের সব মনোনয়ন স্থগিত রাখতে হবে। নির্বাচন কমিশনের দ্বিমাত্রিক আচরণ বন্ধ করে সবার সঙ্গে ন্যায্যতার ভিত্তিতে আচরণ এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাই।
তিনি বলেন, একইসঙ্গে আমরা সেই সব মিডিয়াকে সতর্ক করছি যারা জুলাই গণহত্যার পক্ষে বয়ান দিয়েছে ও এখনো প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে– ফ্যাসিবাদী আচরণ পরিহার করে সত্যকে সত্যভাবে উপস্থাপন করুন। সাংবাদিকদের নয়, মালিকদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। পাশাপাশি যেসব ডিসি ও ইউএনও নিরপেক্ষতা হারিয়েছে, তাদের অপসারণ করে সেখানে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানাই।

























