ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত অনুমোদন দিল উপদেষ্টা পরিষদ
অনলাইন ডেস্ক
- আপডেট সময় : ১১:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 12
দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনে থাকা সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মূল দাবি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলেজগুলোকে আলাদা করে একটি পৃথক, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং সে লক্ষ্যে দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করা। শিক্ষার্থীরা প্রস্তাবিত ডিসিইউ-এর কাঠামো নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন এবং তাদের ঐতিহ্য, শিক্ষার মান ও প্রশাসনিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার জোরালো দাবি তুলে ধরেন।
এই দাবির পক্ষে শিক্ষার্থীরা দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সড়ক অবরোধ, অবস্থান কর্মসূচিসহ ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য ছিল, অসম্পূর্ণ কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সংকট আরও বাড়বে।
উপদেষ্টা পরিষদের আজকের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছাল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই অধ্যাদেশ জারির প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে এবং এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই আন্দোলনস্থল ও বিভিন্ন কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল বের করেন। দীর্ঘ আন্দোলনের সফলতায় অনেক শিক্ষার্থী আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আনন্দ, স্বস্তি ও উচ্ছ্বাসে পুরো পরিবেশ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
আনন্দ মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের সময় রাজধানীতে নগরবাসীর ভোগান্তির জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান। তারা বলেন, দাবি আদায়ের পথে সাধারণ মানুষের যে দুর্ভোগ হয়েছে, তার দায় তারা স্বীকার করেন এবং এজন্য নগরবাসীর সহানুভূতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এ সময় আন্দোলনের এক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত এক দুধ বিক্রেতার বিষয়টিও তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, নষ্ট হওয়া দুধ ও ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলনে সহযোগিতা ও পাশে থাকার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণেই তাদের দাবি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন রাজপথে ছিলাম। আজকের সিদ্ধান্ত আমাদের ন্যায্য আন্দোলনের স্বীকৃতি। আমরা দ্রুত অধ্যাদেশ জারি এবং শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো বাস্তবায়নের আশা করছি।
সব মিলিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি, আনন্দ ও আবেগের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি একটি দায়িত্বশীল, মানসম্মত ও স্বতন্ত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে।




















