বিএনপির আসন সমঝোতায় ‘বিদ্রোহী’ কাঁটা, স্বস্তিতে কেবল সেলিম ও ববি
- আপডেট সময় : ১০:১১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 3
সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি ছেড়ে দেওয়া ১৪টি আসনের মধ্যে ছয়জন শরিক দলের প্রার্থী নিজ নিজ দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অপরদিকে, অন্য আটজন প্রার্থী নিজ নিজ দলের প্রতীকেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে বিএনপি দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে আসন সমঝোতার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। শুধু তা-ই নয়, শরিকদের সঙ্গে দলটির দীর্ঘদিনের যে রাজনৈতিক আস্থার সম্পর্ক, সেটিও দুর্বল হয়ে পড়বে। শরিক দলগুলোর পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠে এর রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে বিএনপিকেও
কাগজে-কলমে বিএনপি যে ১৪টি আসন ছেড়ে দিয়েছে তার মধ্যে মাত্র দুটি আসন বাদে বাকি সবগুলোতে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে শরিক দলগুলো কেবল নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় নয়, নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

শরিক দলগুলোর নেতারা বলছেন, দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে বিএনপি দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে আসন সমঝোতার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। শুধু তা-ই নয়, শরিকদের সঙ্গে দলটির দীর্ঘদিনের যে রাজনৈতিক আস্থার সম্পর্ক, সেটিও দুর্বল হয়ে পড়বে। শরিক দলগুলোর পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠে এর রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে বিএনপিকেও।
গত কয়েক দিনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন শরিক দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতা। তারা বলছেন, শরিকদের আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। কিন্তু যতটুকু আলোচনা হয়েছে, তাতে তারেক রহমানকে ইতিবাচক মনে হয়েছে। তিনি খুব শিগগিরই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বসে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
ঢাকা-১৮ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হওয়ায় সেখানে তার নির্বাচন করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই আসনে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী হিসেবে যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বগুড়া-২ আসনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মীর শাহে আলম। এই প্রেক্ষাপটে মাহমুদুর রহমান মান্না কোন আসন থেকে এবং কোন রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়
তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা গণতন্ত্র মঞ্চের একটি দলের শীর্ষ নেতা বলেন, শরিকদের আসনে বিএনপির যে সব বিদ্রোহী কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন, এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা তো হবেই। তবে, তারেক রহমান আমাদের বলেছেন— দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে তিনি শিগগিরই বসবেন। এটার একটা সমাধানের আশ্বাসও তিনি আমাদের দিয়েছেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি আমাদের জন্য বিব্রতকর, সমস্যাজনক ও অস্বস্তিকর। আমি আশা করি, অচিরেই অনেকেই সরে দাঁড়াবেন। বিএনপি আন্তরিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে।’

তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা ও শোক জানানোর জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তার পরিবার ও দল একটি কঠিন সময় পার করছে।’
‘একসঙ্গে বসার কারণে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে তারেক রহমানের পরিকল্পনা আমরা শুনেছি এবং আমাদের দিক থেকে অনেকগুলো বিষয় শেয়ার করার সুযোগ হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও শেয়ার করার সুযোগ হবে।’ সাকি বলেন, ‘আমরা একটা জাতীয় পুনর্গঠনের সময় পার করছি। ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ, নির্বাচন সম্পন্ন করা, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করা এবং তার বাস্তবায়ন আমাদের কর্তব্য। এর মধ্য দিয়ে এই জাতীয় পুনর্গঠনের কাল অতিক্রমের জন্য আমাদের যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ন্যূনতম জাতীয় ঐক্যমত্য রক্ষা করতে হবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণতন্ত্র মঞ্চের এক নেতা বলেন, ‘নির্বাচনী এলাকায় এমনিতে ভালো সমর্থন পাচ্ছি আমরা। বিদ্রোহী প্রার্থী সরে গেলে আশা করি অসুবিধা হবে না।’
সুবিধাজনক অবস্থানে সেলিম ও ববি
শাহাদাত হোসেন সেলিম নিজ দল ‘বাংলাদেশ এলডিপি’ বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে লক্ষ্মীপুর–১ আসন থেকে ধানের শীষে নির্বাচন করছেন। শুরুতে সেখানে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকলেও সেলিমকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হলে অন্যরা নির্বাচন থেকে সরে আসেন। ফলে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন তিনি।

শাহাদাত সেলিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে আমি তৃণমূল বিএনপির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এখানে একাধিক প্রার্থী থাকার পরও প্রত্যেকে আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং আমার নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। আশা করছি, ধানের শীষের বিশাল বিজয় হবে।’
নির্বাচনে জয়ের কৌশল হিসেবে নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। তিনি ঢাকা-১৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এই আসনে বিএনপির কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম থেকেই আমরা ছিলাম। দেশব্যাপী বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী ঘরানার নেতারা জানেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ববি হাজ্জাজের দল কী ধরনের অবদান রেখেছে।’
‘যখন ঢাকা-১৩ আসন থেকে আমার নির্বাচন করার কথা চলছিল, তখন থেকেই বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতা পেয়ে আসছি। শুরুতে কয়েকজন সিনিয়র নেতা মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। চূড়ান্তভাবে আমি মনোনয়ন পাওয়ার পর তারা আমার সঙ্গে এসেছেন এবং পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। তাই শুরু থেকে আমি বড় কোনো প্রতিকূলতার মধ্যে পড়িনি।’
মান্নার সমাধান কোন পথে
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্যাংকের ৩৬ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বিষয়টি শুরুতে প্রশ্ন তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে সেই আইনি বাধা আপাতত দূর হয়েছে।

আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি তাকে বগুড়া-২ আসন ছেড়ে দিলেও বাস্তবতা আসলে ভিন্ন। দাখিল করা হলফনামায় বিভিন্ন অসংগতির কারণে ওই আসনে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। যদিও তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন, তবে এখনও চূড়ান্ত কোনো রায় না আসায় অনিশ্চয়তা কাটেনি।
অন্যদিকে, ঢাকা-১৮ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হওয়ায় সেখানে তার নির্বাচন করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই আসনে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী হিসেবে যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বগুড়া-২ আসনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মীর শাহে আলম। এই প্রেক্ষাপটে মাহমুদুর রহমান মান্না কোন আসন থেকে এবং কোন রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এ প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকা পোস্টকে জানান, তিনি বগুড়া-২ আসনের প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছেন। যদিও এ বিষয়ে তিনি এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাননি।
বিএনপিতে আসা ৪ প্রার্থীকেও লড়তে হচ্ছে বিদ্রোহীদের সঙ্গে
বাংলাদেশ এলডিপির শাহাদাত সেলিম ও এনডিএম-এর ববি হাজ্জাজের মতো আরও ছয়টি দলের নেতারা আগামী সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বিএনপিতে যোগ দিয়ে নড়াইল-২ আসন থেকে ধানের শীষে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু ফরহাদ বিএনপিতে যোগ দেওয়ার আগে ওই আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছিল নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলামকে। পরে দলের মনোনয়ন না পেলেও মনিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন এবং তার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।
ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে— বিদ্রোহী প্রার্থীকে বসিয়ে দেওয়া হবে। তবে, শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ালে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। তার সঙ্গে যারা কাজ করবেন, তাদেরও বহিষ্কার করা হবে।’
এলডিপি থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে ধানের শীষে মনোনয়ন পেয়েছেন ড. রেদোয়ান আহমেদ। অন্যদিকে, এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম।
অন্যদিকে, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঝিনাইদহ-৪ থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পান। কিন্তু এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।
রাশেদ খাঁন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ হলো— ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। যারা প্রকৃত বিএনপি করেন তারা অবশ্যই তারেক রহমানের নির্দেশনা মানবেন। ঝিনাইদহ-৪ আসনে আমাকে তারেক রহমানই পাঠিয়েছেন। এখানে যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, তাদের অভিমান থাকা স্বাভাবিক। আশা করি, শেষ পর্যন্ত কেউ দলের বিদ্রোহী হবেন না।’
সৈয়দ এহসানুল হুদা নিজ দল ‘বাংলাদেশ জাতীয় দল’ বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পান। কিন্তু তার আগে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। চূড়ান্তভাবে দলের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেও তা বাতিল হয়। আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলে এই আসনেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকছে।

সমঝোতা নিয়ে ভেঙেছে গণতন্ত্র মঞ্চ; আসন পাওয়া ৩ প্রার্থীর সঙ্গেই আছে বিদ্রোহী
বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা না হওয়া এবং শরিকদের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় গত ২৫ নভেম্বর গণতন্ত্র মঞ্চ থেকে বেরিয়ে যায় ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলন’। এরপর আসন না পেয়ে গত ২৬ ডিসেম্বর এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেয় জেএসডি। এই জোটের বাকি তিন দলের শীর্ষ নেতা বিএনপির কাছ থেকে আসন ছাড় পেলেও তাদের তিনটি আসনে এখন পর্যন্ত বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়ে গেছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ঢাকা-১২ আসনে ছাড় পেয়েছেন। কিন্তু এই আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাইফুল আলম নীরব। চূড়ান্ত মনোনয়ন না পেয়ে তিনি এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ইতোমধ্যে বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।
অন্যদিকে, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে ছাড় দেয় বিএনপি। কিন্তু এখানে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক এমপি আবদুল খালেক, শাহ মুর্তজা আলী ও মেহেদী হাছান। এরই মধ্যে আবদুল খালেক ও মেহেদী হাসান পলাশকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
এছাড়া, মাহমুদুর রহমান মান্নার বগুড়া-২ ও ঢাকা-১৮, উভয় আসনেই বিএনপির প্রার্থী এখন পর্যন্ত বহাল রয়েছেন।

আসন ছাড় পাওয়া অন্যান্য আসনেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী
আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের (একাংশ) প্রার্থী মো. মঞ্জুরুল ইসলামকে নীলফামারী-১ আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি। এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন খালেদা জিয়ার বড় বোন সেলিনা ইসলামের ছেলে শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। তিনি প্রার্থী না হলেও তার পিতা রফিকুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তা বাতিল হয়ে যায়।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাসেমীকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি। কিন্তু এখানে বিএনপির মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ইতোমধ্যে দুইজনকেই দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
সিলেট-৫ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে ছাড় দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু এখানে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ। তাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন ছেড়ে দেওয়া হয়। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন বহিষ্কৃত বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি। আমার ভোটাররা আমার সঙ্গে আছেন।’
বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সঙ্গী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন। দল থেকে তিনি নিজেই অব্যাহতি চেয়েছেন এবং দলও তাকে বহিষ্কার করেছে।
বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা একটি স্থিতিশীল সরকারের জন্য আসন সমঝোতা করে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন করছি। যতটুকু জানি, শরিকদের ছেড়ে দেওয়া ১২টি আসনের বেশিরভাগেই বিদ্রোহী প্রার্থী আছে। আমরা বিষয়টি হাই কমান্ডকে জানিয়েছি।’
গত ১ ডিসেম্বর বিএনপিতে যোগ দেন আমজনতার দলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া। বিএনপি তাকে হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী করে। কিন্তু তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া।
অন্যদিকে, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ প্রথমে ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। কিন্তু তারেক রহমান দেশে ফেরার পর দৃশ্যপট পাল্টে যায়। তারেক রহমান নিজে ওই আসনে প্রার্থী হন। পার্থকে ভোলা-১ আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি। কিন্তু এই আসনে আগে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া গোলাম নবী আলমগীর এখনও দলের প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় আছেন।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, আমরা তো যেখানে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনিই দল বা জোটের একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। এখন যেসব জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন, তাদের সঙ্গে সময়-সুযোগ করে বসব। আসলে মাত্র তো নির্বাচনের আবহাওয়া শুরু হয়েছে। আশা করছি, শেষ পর্যন্ত শরিকদের আসনে খুব বেশি বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না।






















