বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত অন্তত ৫ হাজার, স্বীকার করলো ইরান
- আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 8
ইরানে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে প্রথমবারের মতো দেশটির সরকার স্বীকার করেছে। রোববার দেশটির আঞ্চলিক এক সরকারি কর্মকর্তা বিক্ষোভ সহিংসতায় হতাহতের শিকার লোকজনের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে কর্তৃপক্ষ এমন পরিসংখ্যান পেয়েছে বলে জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন, দেশে চলমান বিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য কর্তৃপক্ষ যাচাই করেছে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৫০০ সদস্য রয়েছেন। তিনি এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের দায়ী করে বলেছেন, তারা ‘‘নিরীহ ইরানিদের’’ হত্যা করেছে।
বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত ও সর্বাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
ওই অঞ্চলে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয় রয়েছেন এবং দেশটির অতীতের অস্থিতিশীলতার সময়ও সেখানে ভয়াবহ সহিংসতার রেকর্ড রয়েছে। দেশটির সরকারি ওই কর্মকর্তা বলেছেন, বিক্ষোভ-সহিংসতায় প্রাণহানির চূড়ান্ত সংখ্যায় বড় ধরনের উল্লম্ফনের সম্ভাবনা নেই।
একই সঙ্গে ইসরায়েল ও বিদেশে থাকা সশস্ত্র বিভিন্ন গোষ্ঠী রাস্তায় নামা লোকজনকে সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশটিতে বিভিন্ন সময়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য বিদেশি শত্রুদের দায়ী করে থাকে। এর মধ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কট্টর বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েলও রয়েছে।
গত বছরের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রও সাম্প্রতিক বিক্ষোভ-সহিংসতায় উসকানি ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
এদিকে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ বলেছে, ইরান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৩০৮ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া দেশটির নজিরবিহীন এই সংঘাতে আরও ৪ হাজার ৩৮২ জনের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। সংস্থাটি বলেছে, বিক্ষোভ চলাকালীন ইরানি কর্তৃপক্ষ ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে।
নরওয়ে-ভিত্তিক ইরানি কুর্দিপন্থীদের মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও বলেছে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা সবচেয়ে সহিংস আকারে ছড়িয়ে পড়ে উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায়।
অন্যদিকে, রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমসের এক প্রতিবেদনে ইরানি চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগের বয়স ৩০ বছরের কম এবং তরুণ। এছাড়া বিক্ষোভে আহত হয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। বেশিরভাগই মানুষ নিহত হয়েছেন দু’দিনের ব্যবধানে।
ইরানি-জার্মান চক্ষু চিকিৎসক প্রফেসর আমির পারাস্তা সানডে টাইমসকে বলেছেন, এটি অন্য মাত্রার নৃশংসতা। এবার তারা মিলিটারি গ্রেডের অস্ত্র ব্যবহার করেছে। আমরা মাথা, গলা, বুকে গুলি এবং শার্পনেলের আঘাত দেখতে পেয়েছি।
সানডে টাইমস বলছে, ইরানের বড় আটটি চক্ষু হাসপাতাল এবং ১৬টি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হতাহতের ওই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। চিকিৎসকরা সাধারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও নিষিদ্ধ স্টারলিংকের ইন্টারনেট ব্যবহার করে যোগাযোগ করতে সমর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেছে সানডে টাইমস।
আহতদের অনেকে চোখে আঘাত পেয়েছেন বলেও এ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর শটগান থেকে গুলিবর্ষণ করেছেন। গুলিতে প্রায় ৭০০ জন অন্ধ হয়ে গেছেন।
গত মাসের শেষ দিকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং গত ৭ ও ৮ জানুয়ারি তা সহিংস আকার ধারণ করে। ওই সময় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের শঙ্কাও তৈরি হয়। তবে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী কঠোর অবস্থানে যাওয়ায় বর্তমানে বিক্ষোভ প্রায় স্থিমিত হয়ে পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, সানডে টাইমস।





















