মানুষ নির্বাচনের ব্যাপারে উন্মুখ হয়ে আছে : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
- আপডেট সময় : ১২:৫৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
- / 8
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও নাগরিক প্লাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনের ব্যাপারে উন্মুখ হয়ে আছে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমলাতন্ত্রের ভেতরে যে অস্বস্তি তা কাটানোর জন্য নির্বাচন চাওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন নিয়ে একই রকম পরিস্থিতি।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে রংপুর নগরীর আরডিআরএস বাংলাদেশ ভবনের বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে নাগরিক প্লাটফর্মের প্রাক নির্বাচনী উদ্যোগ ‘আঞ্চলিক পরামর্শ’ সভায় তিনি এ কথা বলেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষ আস্থা পাচ্ছে না। নির্বাচনের পথে সহিংসতা বাড়ার শংঙ্কা ও নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, নির্বাচনের মাঠ সমতল নয়। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আস্থার ঘাটতি রয়েছে।
তিনি বলেন, আপনারা মনে করেন, নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ হাতে নিতে পারেনি। স্থানীয় পর্যায়ে এ কথা আরও বেশি বেশি আলোচিত হচ্ছে। এমনকি মিডিয়াও তা বলছে। এমন পরিস্থিতি কতদিনে কাটবে তা এখন দেখার বিষয়।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমরা নাগরিকদের প্রত্যাশা ও রাজনীতিবিদদের প্রতিশ্রুতিকে কাছাকাছি আনতে চাচ্ছি। এতে জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া অব্যহত থাকবে। আগামী সংসদে এসব প্রতিশ্রুতি কিভাবে প্রতিপালন করা হবে, তা নিয়ে রাজনীতিবিদদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীদের কাছে ‘আগামী নির্বাচনে আপনি কি প্রত্যাশায় ভোট দেবেন’ এবং ‘নবনির্বাচিত সরকারের কাছে আপনার প্রধান দাবি কি’? এ বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন তিনি। এ দুটি প্রশ্নের জবাবে বেশির ভাগ নাগরিক আগামী সরকারের কাছে সুশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ হয়ে দায়িত্ব পালনের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নির্বাচনের পর জনগণ কী চায়, সেই বিষয়ে নাগরিক ইশতেহার তৈরি করা হবে। ডিসেম্বরের শেষে জাতীয় নেতাদের কাছে তা তুলে ধরা হবে।
সভায় সমাপনী বক্তব্যে সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পরিবর্তন সম্ভব, সেটা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা দেখেছি। রাজনীতিবিদরাও এ আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। জনগণের মধ্যে যে সচেতনতা এসেছে, তা একটি বড় শক্তি। এই শক্তিই আগামীতে নির্বাচিতদের জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় আনতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, বাকস্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতারও একটি সম্পর্ক রয়েছে। সচেতন জনগণই গণতন্ত্রের মূল শক্তি। স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সচেতনতাকে জাগিয়ে রাখতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, জেলা সুজনের সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু, মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বুলেট, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তানজিউল ইসলাম, তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারা ইসলাম রানী প্রমুখ।
এর আগে, নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রাক-নির্বাচনী উদ্যোগের অংশ হিসেবে সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল এবং ময়মনসিংহে এই পরামর্শ সভা হয়েছে।

























