ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাসেমীর নির্বাচনী শিডিউলে ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাব, অথচ জানে না কর্তৃপক্ষ !

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৪২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 2

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি–জমিয়তে উলামায়ের জোট প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর নির্বাচনী প্রচারণা শিডিউল নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। নির্বাচনী প্রচারণার নামে মনগড়া পরিকল্পনা, মিথ্যা প্রচার ও সংগঠনের নাম অপব্যবহার—এবার এসব গুরুতর অভিযোগে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি।

ঘটা করে প্রচারিত নির্বাচনী শিডিউলে ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাবের নাম জুড়ে দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাব বলছে, তাদের কিছুই জানানো হয়নি, কোনো অনুমতিও নেয়া হয়নি।

প্রচারিত শিডিউল অনুযায়ী, ২৭ জানুয়ারি রাত ৯টায় শাহ ফতেহউল্লাহ কনভেনশন হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে “ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাবের” নাম ব্যবহার করা হয়, যা দেখে অনেকেই ধরে নেন—সভাটিতে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা যুক্ত থাকবেন। কিন্তু এই তথ্যে যে সত্যের লেশমাত্র নেই, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সহিদুল ইসলাম সহিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদেরকে কোনো কিছু না জানিয়েই আমাদের সংগঠনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। ২৭ তারিখের সাংবাদিক মতবিনিময় সভা সম্পর্কে মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর পক্ষ থেকে আমাদেরকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। নির্বাচনী শিডিউলে মনগড়া পরিকল্পনা করে অযথাই একটি সাংবাদিক সংগঠনের নাম যুক্ত করা কতটা যৌক্তিক তা জনগণই বিচার করুক। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

আরও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান প্রেস ক্লাবের সভাপতি এনামুল হক সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “আমাদের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো স্পষ্টতই অপরাধের শামিল। কোনো সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নিজের ইচ্ছেমতো নাম যুক্ত করে ভোটের মাঠে বিভ্রান্তি তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। কাসেমীর পক্ষ থেকে তৈরি করা এই ভুয়া শিডিউল প্রচারের আমরা নিন্দা, ধিক্কার ও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

স্থানীয় সাংবাদিক মহলে এ ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। অনেক সাংবাদিক বলছেন, নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে একটি স্বীকৃত প্রেস ক্লাবের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা শুধু অনৈতিক নয়, এটি গণমাধ্যমকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার নগ্ন চেষ্টা।

এমন ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—ভোট চাইতে গিয়ে যদি সত্য আড়াল করে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়, তবে সেই প্রার্থীর নৈতিক অবস্থান কোথায় দাঁড়ায়?

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মুফতি মনির হোসেন কাসেমী কিংবা তার নির্বাচনী শিবিরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা দুঃখপ্রকাশ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাংবাদিক সমাজে তীব্র আলোচনা চলছে।

নির্বাচনী মাঠ যত উত্তপ্ত হচ্ছে, ততই সামনে আসছে—প্রচারণার নামে দায়িত্বহীনতা ও বিভ্রান্তি তৈরির বাস্তব চিত্র। নির্বাচনী প্রচারণার নামে এমন দায়িত্বহীনতা আর কতদূর ?

নতুন প্রজন্মের অনলাইন টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কাসেমীর নির্বাচনী শিডিউলে ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাব, অথচ জানে না কর্তৃপক্ষ !

আপডেট সময় : ১০:৪২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি–জমিয়তে উলামায়ের জোট প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর নির্বাচনী প্রচারণা শিডিউল নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। নির্বাচনী প্রচারণার নামে মনগড়া পরিকল্পনা, মিথ্যা প্রচার ও সংগঠনের নাম অপব্যবহার—এবার এসব গুরুতর অভিযোগে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি।

ঘটা করে প্রচারিত নির্বাচনী শিডিউলে ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাবের নাম জুড়ে দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাব বলছে, তাদের কিছুই জানানো হয়নি, কোনো অনুমতিও নেয়া হয়নি।

প্রচারিত শিডিউল অনুযায়ী, ২৭ জানুয়ারি রাত ৯টায় শাহ ফতেহউল্লাহ কনভেনশন হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে “ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাবের” নাম ব্যবহার করা হয়, যা দেখে অনেকেই ধরে নেন—সভাটিতে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা যুক্ত থাকবেন। কিন্তু এই তথ্যে যে সত্যের লেশমাত্র নেই, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

ফতুল্লা মডেল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সহিদুল ইসলাম সহিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদেরকে কোনো কিছু না জানিয়েই আমাদের সংগঠনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। ২৭ তারিখের সাংবাদিক মতবিনিময় সভা সম্পর্কে মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর পক্ষ থেকে আমাদেরকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। নির্বাচনী শিডিউলে মনগড়া পরিকল্পনা করে অযথাই একটি সাংবাদিক সংগঠনের নাম যুক্ত করা কতটা যৌক্তিক তা জনগণই বিচার করুক। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

আরও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান প্রেস ক্লাবের সভাপতি এনামুল হক সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “আমাদের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো স্পষ্টতই অপরাধের শামিল। কোনো সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নিজের ইচ্ছেমতো নাম যুক্ত করে ভোটের মাঠে বিভ্রান্তি তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। কাসেমীর পক্ষ থেকে তৈরি করা এই ভুয়া শিডিউল প্রচারের আমরা নিন্দা, ধিক্কার ও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

স্থানীয় সাংবাদিক মহলে এ ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। অনেক সাংবাদিক বলছেন, নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে একটি স্বীকৃত প্রেস ক্লাবের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা শুধু অনৈতিক নয়, এটি গণমাধ্যমকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার নগ্ন চেষ্টা।

এমন ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—ভোট চাইতে গিয়ে যদি সত্য আড়াল করে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়, তবে সেই প্রার্থীর নৈতিক অবস্থান কোথায় দাঁড়ায়?

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মুফতি মনির হোসেন কাসেমী কিংবা তার নির্বাচনী শিবিরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা দুঃখপ্রকাশ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাংবাদিক সমাজে তীব্র আলোচনা চলছে।

নির্বাচনী মাঠ যত উত্তপ্ত হচ্ছে, ততই সামনে আসছে—প্রচারণার নামে দায়িত্বহীনতা ও বিভ্রান্তি তৈরির বাস্তব চিত্র। নির্বাচনী প্রচারণার নামে এমন দায়িত্বহীনতা আর কতদূর ?