Ritesh Beghi
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মেটার ২০০ কোটি ডলারের চুক্তি আটকে দিল চীন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই স্টার্টআপ ‘মানুস’ (Manus)-কে ২০০ কোটি ডলারে কিনে নেওয়ার যে পরিকল্পনা মেটা করেছিল, তাতে বাদ সেধেছে বেইজিং। দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মার্কিন বিনিয়োগের লাগাম টেনে ধরার অংশ হিসেবে এ অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আটকে দিল চীন।

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা গত বছরের ডিসেম্বরে এআই এজেন্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘মানুস’ অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে সোমবার চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সংস্থা ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন (এনডিআরসি) এ চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেয়।

এক বিবৃতিতে এনডিআরসি জানিয়েছে, তারা ‘মানুস’ প্রকল্পের অধিগ্রহণে বিদেশি বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এ লেনদেন প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এখন থেকে শীর্ষস্থানীয় এআই স্টার্টআপসহ যে কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া মার্কিন বিনিয়োগ গ্রহণ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে। মূলত মানুস-মেটা চুক্তির প্রেক্ষাপটেই এ কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, বেইজিংয়ের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যেন তারা কোনো মার্কিন তহবিল গ্রহণ না করে।

বেইজিংয়ে যাত্রা শুরু করা ‘মানুস’ বর্তমানে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। তারা এ চুক্তিকে জেনারেল এআই এজেন্টের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রণী কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বর্ণনা করেছিল। এআই এজেন্ট মূলত মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই ভ্রমণ পরিকল্পনা, গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা গবেষণাপত্র তৈরির মতো একাধিক কাজ করতে সক্ষম। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রম সাশ্রয়ী প্রযুক্তি হিসেবে একে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।

মেটা তাদের এআই বিভাগকে শক্তিশালী করতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে তারা কোটি কোটি মানুষের কাছে উন্নত এআই প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে চায়।

বর্তমানে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ ২০টি সেরা এআই মডেলের সবগুলোই এই দুই দেশের কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানের তৈরি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে দাবি করেছিলেন, এআই লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে। হোয়াইট হাউসও এই প্রতিযোগিতাকে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান প্রযুক্তি যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে চীনা এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক বাজারে প্রসারের পথ আরও সংকুচিত হতে পারে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ধর্ম নয়, সবার বড় পরিচয় বাংলাদেশি : তারেক রহমান

১

অর্থনীতি স্থিতিশীল হতে দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী

২

চলতি মাসেই বাড়তি বেতন পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

৩

আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু

৪

ইরান যুদ্ধে ‘গুরুতর ব্যর্থতা’ স্বীকার জেডি ভ্যান্সের

৫

ক্যালিফোর্নিয়ায় বিধ্বংসী দাবানল, পুড়ল শত শত একর জমি

৬

প্রশাসনে বড় রদবদল: সাত সচিবের দপ্তর বদল

৭

পুলিশ প্রশাসনে রদবদল: ১১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি

৮

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বন্দরে ‘বাংলাদেশ সনাতন সংঘ’র গীতা দান

৯

বাপার সিদ্ধিরগঞ্জ আঞ্চলিক সমন্বয় কমিটি গঠন

১০

ইউরিয়া সার কারখানা স্কুল এন্ড কলেজের পুনর্মিলনী-২০২৬: অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু

১১

বিরোধীরা না থাকলেও বাস্তবায়িত হবে ‘জুলাই সনদ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১২

বিএনপির মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ : হাসনাত আবদুল্লাহ

১৩

এখন কেমন আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যা জানালেন সফরসঙ্গী

১৪

ইতালিতে কর্মী নিতে ঢাকায় বিশেষ আয়োজন, কবে— সরকারকে জানালেন রাষ্ট্রদূত

১৫

ইসরাইলের সহায়তার প্রস্তাবে যা জানালেন সৌদি যুবরাজ

১৬

বিরোধী দলের নেতাদের চায়ের আমন্ত্রণ রাহুল গান্ধীর

১৭

বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চায় বাংলাদেশ

১৮

ইউনূসকে হেনস্তার সম্পূর্ণ দায় শেখ হাসিনার : জামায়াত আমির

১৯

নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষা, পরে মিলল মৃত্যুর খবর—কাশ্মীরে হাহাকার

২০