news desk
২৪ অক্টোবর ২০১৯, ৮:৩৩ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে ১৬ আসামির ফাঁসির আদেশ

ফেনী প্রতিনিধি : ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদরাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

রায়ে বলা হয়, নারীর প্রতি সহিংসতা ও মৃত্যুর ঘটনায় ১৬ আসামির অংশগ্রহণ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়।

মামলার ৮০৮ পৃষ্ঠার রায়ে তৎকালিন পুলিশের এসপি ও ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

এ ঘটনায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

নুসরাত হত্যা মামলায় পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ২১ জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করে। পরে ২৯ মে ১৬ জনকে আসামি করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই। সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় নূর হোসেন, আলা উদ্দিন, কেফায়েত উল্যাহ জনি, সাইদুল ও আরিফুল ইসলামের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেয়া হয়।

৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ১০ জুন আদালত মামলাটি আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত। ২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়। এরপর ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ

চলে গেলেন বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার

১০ জেলায় ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরেও সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির খবর ভিত্তিহীন: ইরান

৩২ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে গেল ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে

ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

টিকিটের চওড়া দাম, ছোট স্টেডিয়ামেও গ্যালারি ভরাতে পারছে না ফিফা

শর্ত না মানলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবারও হামলা

আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

নতুন বাজেটে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় সুখবর

১০

বিশ্বকাপে মেসি-রোনালদো কি এখনো বড় আকর্ষণ, নাকি এমবাপ্পে? পরিসংখ্যানে কে এগিয়ে

১১

দুপুরের মধ্যে ৭ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

১২

কথা বলতে পারছেন না ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নির্মাতা অমি

১৩

বাংলাদেশের সড়কে চলছে ‘আর্জেন্টিনা বাস’

১৪

বিশ্বকাপে ফ্রিতে যা বিলাচ্ছে মেক্সিকো ও কানাডা

১৫

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটদাতাদের নিয়ে ফোরাম করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে

১৬

বোমা হামলা বন্ধ করতে ফোন করেছিল ইরান: ট্রাম্পের দাবি

১৭

দেশে স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন

১৮

দেশে স্বর্ণের দামে ধস

১৯

সংবিধান ও দেশ রক্ষায় ঐক্যের ডাক রাহুল গান্ধীর

২০