ঢাকা ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বরগুনায় বাড়ছে হামের প্রকোপ হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২৫:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 14

রাসেল হাওলাদার, বরগুনা প্রতিনিধি:    উপকূলীয় জেলা বরগুনায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। গত এক মাস ধরে চলা এই প্রকোপে জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে আসা ১৪৯ জনের মধ্যে ২৬ জনের শরীরে হাম এবং একজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কেবল শিশুরাই নয়, বরগুনা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে তিনজন বৃদ্ধসহ আরও বেশ কয়েকজন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। সংক্রমণের প্রকৃত মাত্রা ও ধরন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ৬২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মেহেদী পারভেজ জানান, প্রতিদিন বহিবির্ভাগে গড়ে অন্তত ২০ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে আসছেন। আক্রান্তদের মধ্যে তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশির পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট ও খাবারে অনীহা দেখা দিচ্ছে। অনেকের শরীরের লালচে ফুসকুড়ির পাশাপাশি মুখে ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে বা জটিলতা তৈরি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে রোগীর চাপ সামলাতে জেলায় বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা সদরসহ আমতলী, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২টি করে এবং বেতাগীতে ১টি করে বিশেষ শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৩০টির বেশি শয্যা প্রস্তুত থাকলেও আক্রান্তের ঊর্ধ্বমুখী হারের কারণে সেবাদান কার্যক্রম বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল। তিনি বলেন, “হাম একটি দ্রুত সংক্রমণশীল রোগ হলেও তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রাম পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে তিনি আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।”বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, “আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি আমরা নমুনা পরীক্ষা ও নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমকে আরও বেগবান করেছি।” শিশুদের নিয়মিত এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে টিকার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

নতুন প্রজন্মের অনলাইন টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বরগুনায় বাড়ছে হামের প্রকোপ হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ

আপডেট সময় : ০৪:২৫:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

রাসেল হাওলাদার, বরগুনা প্রতিনিধি:    উপকূলীয় জেলা বরগুনায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। গত এক মাস ধরে চলা এই প্রকোপে জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে আসা ১৪৯ জনের মধ্যে ২৬ জনের শরীরে হাম এবং একজনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কেবল শিশুরাই নয়, বরগুনা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে তিনজন বৃদ্ধসহ আরও বেশ কয়েকজন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। সংক্রমণের প্রকৃত মাত্রা ও ধরন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ৬২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মেহেদী পারভেজ জানান, প্রতিদিন বহিবির্ভাগে গড়ে অন্তত ২০ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে আসছেন। আক্রান্তদের মধ্যে তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশির পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট ও খাবারে অনীহা দেখা দিচ্ছে। অনেকের শরীরের লালচে ফুসকুড়ির পাশাপাশি মুখে ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে বা জটিলতা তৈরি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে রোগীর চাপ সামলাতে জেলায় বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা সদরসহ আমতলী, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২টি করে এবং বেতাগীতে ১টি করে বিশেষ শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৩০টির বেশি শয্যা প্রস্তুত থাকলেও আক্রান্তের ঊর্ধ্বমুখী হারের কারণে সেবাদান কার্যক্রম বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল। তিনি বলেন, “হাম একটি দ্রুত সংক্রমণশীল রোগ হলেও তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রাম পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে তিনি আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।”বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, “আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি আমরা নমুনা পরীক্ষা ও নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমকে আরও বেগবান করেছি।” শিশুদের নিয়মিত এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে টিকার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।