প্রাথমিক চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘কোনো অর্থ খরচ’ করবে না। তিনি এ ধরনের দাবিকে হাস্যকর এবং গুজব বলে অভিহিত করেছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চুক্তিকে যথার্থ এবং দারুণ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, গত সপ্তাহে আমি তাদের ওপর হামলা করতে চাইনি। কিন্তু আমাদের হামলা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বৈরুতে ইসরায়েলের হামলাকে পছন্দ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আমি তাদের জানিয়ে দিয়েছি। আমি ওটা মোটেও পছন্দ করিনি।
লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অনেক দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করছে। এতে অত্যধিক মানুষ মারা যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, কাউকে খোঁজার জন্য আপনাদের প্রতিবার একটি করে অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ ওই ভবনগুলোতে অনেক মানুষ থাকে। তারা সবাই হিজবুল্লাহর সঙ্গে জড়িত হয়।
ট্রাম্প বলেন, আমি হিজবুল্লাহকে সামলানোর বিষয়টি সিরিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে ইসরায়েলকে পরামর্শ দিয়েছি। কারণ সত্য বলতে আমার মনে হয় তারা এটি আরও ভালোভাবে করতে পারবে।
ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালালেও চুক্তি টিকে থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, টিকে থাকবে। কারণ আমি সেটিকে একটি ছোটোখাটো যুদ্ধ মনে করি। ইরান হলো বড় বিষয়, তবে আমাদের জন্য সেখানে একটা ছোট কাঁটার মতো বিষয় রয়েছে। এটি বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। আর সেটি হলো হিজবুল্লাহ।
এর আগে শান্তি চুক্তি ঘোষণার পর বোরবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চুক্তি সই হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে, তেলবাহী অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে আসছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা নিশ্চিত করেছেন। ইরানি গণমাধ্যম এই চুক্তিকে ইরানের বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে। ঘারিভাবাদি বলেন, কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে এই প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে।
ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাদের কাছে পরাজয় ও আত্মসমর্পণ মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো পথ নেই।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের এখনও গভীর অবিশ্বাস রয়েছে। চুক্তিটি কেবল ‘উত্তেজনা কমানোর একটি পদক্ষেপ মাত্র।’
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য করুন