Ritesh Beghi
২৩ জুন ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বেন গাভির একজন যুদ্ধাপরাধী, ইসরাইলকে কোনো মার্কিন সহায়তা দেওয়া উচিত নয়: বার্নি স্যান্ডার্স

লেবানন প্রসঙ্গে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। বেন গাভিরকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে স্যান্ডার্স সাফ জানিয়েছেন, জেরুজালেমের বর্তমান প্রশাসনকে আমেরিকার কোনো ধরনের সমর্থন বা সহায়তা দেওয়া উচিত নয়। 

দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর চার সেনা নিহতের খবর প্রকাশের পর গত শুক্রবার (১৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেন গাভির দাবি করেন, ‘পুরো লেবাননকে পুড়িয়ে ছাই করে দিতে হবে।’ তার এই উগ্র মন্তব্যের জবাবেই ভার্মন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।

এক বিবৃতিতে স্যান্ডার্স বলেন, ‘কোনো বড় রাষ্ট্রের একজন স্বাভাবিক ক্যাবিনেট সদস্যের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আসতে পারে না। ইসরাইলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী বেন গাভিরের এই মন্তব্যটি মূলত একজন যুদ্ধাপরাধীর বক্তব্য।’

আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে বেন গাভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তার উগ্র অবস্থানের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমেরিকানদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, ইসরাইলকে পুরো বিশ্বের কাছে এটি স্পষ্ট করতে হবে যে আমাদের সন্তানদের রক্ত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা কোনো ফেলনা জিনিস নয়।’ একই সঙ্গে তিনি তার আগের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘পুরো লেবাননকে অবশ্যই পুড়তে হবে।’

এদিকে লেবাননে ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য একটি ব্যবস্থা চালু করেছে ওয়াশিংটন। গত সোমবার একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মাধ্যমে এই সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা ১৮ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ আলোচনা শেষ হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতা করে। গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির অমীমাংসিত ধারাগুলো, বিশেষ করে সব ফ্রন্টে বৈরিতা ও যুদ্ধ বন্ধের বিষয়গুলো নিয়ে এই দুই দেশ বিস্তারিত আলোচনা করেছে।

এদিকে, লেবাননের সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলের সামরিক অভিযানে দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১২,০০০-এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা। এই ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যেই চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সপ্তাহান্তে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বর্ধিত আলোচনা সম্পন্ন হলো।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আর্জেন্টিনায় খেলা দেখার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু

যুদ্ধ কিংবা যুদ্ধবিরতিতে যাওয়া নিয়ে শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন মোজতবা : আরাগচি

সালমান খানের পর এবার কুনজরে আমির খান

তারেক রহমানের সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সেই সাহেদ আবারও গ্রেফতার

সাত সকালে পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল ইরান

মেসির বিশ্বকাপ রূপকথার করুণ সমাপ্তি, ফাইনালে ‘ভিলেন’ আর্জেন্টিনা

বাংলাদেশিদের কণ্ঠেও ‘ভামোস, এস্পানিয়া’

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপজয়ীরা পাবেন ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’

আন্দোলনস্থল থেকে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে সরিয়ে দিল দিল্লি পুলিশ

১০

মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণে নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

১১

ফাইনাল ম্যাচেই কি শেষ স্কালোনির আর্জেন্টিনা অধ্যায়?

১২

ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা ভোক্তা

১৩

ইয়ামাল ইতিহাস গড়বে, তবে এবার নয়: মেসি

১৪

১৯ বছর আগে নিজ হাতে গোসল করানো সেই শিশুই এবার মেসির প্রতিপক্ষ

১৫

মিয়ানমার উপকূলে নৌকাডুবি, পাঁচ শতাধিক মৃত্যুর শঙ্কা

১৬

হরমুজে মার্কিন হস্তক্ষেপ ‘নিষ্ক্রিয়’ করে দেওয়া হবে: ইরানের সেনাবাহিনী

১৭

বিশ্বকাপের ফাইনাল কবে-কোথায়-কখন

১৮

দাবানলের ধোঁয়ায় ঢেকেছে নিউজার্সির আকাশ, বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে উদ্বেগ

১৯

ফিফার বাড়তি সুবিধা পাওয়া নিয়ে যা বললেন মেসি

২০