ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • / 6

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের মধ্যাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে সাতটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন দিনে আরও কয়েকটি নদীর পানি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে হাওর অঞ্চলে আগে থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং নতুন কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবার (৪ মে) নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে কেন্দ্র জানায়, সুনামগঞ্জের নালজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে নেত্রকোনার বাউলাই নদী খালিয়াজুড়ি পয়েন্টের পানি ৮, ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জইল পয়েন্টের পানি ৬৭, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টের পানি ৫০, মগরা নদী নেত্রকোনা পয়েন্টের পানি ৭৯ ও আটপাড়া পয়েন্টের পানি ২৭ এবং হবিগঞ্জ জেলার কালনি-কুশিয়ারা নদী আজমেরিগঞ্জ পয়েন্টের পাঞ্জ ১০, সুতাং নদী সুতাং-রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে ভুগাই-কংস নদীগুলোর পানি কমেছে।

আরও বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওড় অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। দ্বিতীয় দিন কুশিয়ারা নদীর কোথাও কোথাও পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওরের আশেপাশের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীগুলোর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস অববাহিকার হাওরের আশেপাশের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীগুলোর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে, এ অববাহিকার হাওড়ের আশেপাশের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এছাড়া মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীগুলোর পানি আগামী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং তৃতীয় দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। জুড়ি নদীর পানি আগামী ৭২ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সর্তকসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। সুতাং নদীর পানি আগামী একদিন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন কমতে পারে এবং বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় হবিগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে আজ সকাল নয়টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও বরিশাল বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

আজ দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে হাতিয়ায় ১২৪ মিলিমিটার। এর বাইরে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে এমন এলাকার মধ্যে নেত্রকোনায় ৭১, মাইজদীকোর্টে ৪৮, রাঙ্গামাটিতে ৪৬, সিলেটে ৪৩, চট্টগ্রামে ৪১, ভোলায় ৩৬ শ্রীমঙ্গল ও তেঁতুলিয়ায় ৩৪, নিকলিতে ৩২, মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

নতুন প্রজন্মের অনলাইন টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের মধ্যাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে সাতটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন দিনে আরও কয়েকটি নদীর পানি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে হাওর অঞ্চলে আগে থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং নতুন কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবার (৪ মে) নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে কেন্দ্র জানায়, সুনামগঞ্জের নালজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে নেত্রকোনার বাউলাই নদী খালিয়াজুড়ি পয়েন্টের পানি ৮, ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জইল পয়েন্টের পানি ৬৭, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টের পানি ৫০, মগরা নদী নেত্রকোনা পয়েন্টের পানি ৭৯ ও আটপাড়া পয়েন্টের পানি ২৭ এবং হবিগঞ্জ জেলার কালনি-কুশিয়ারা নদী আজমেরিগঞ্জ পয়েন্টের পাঞ্জ ১০, সুতাং নদী সুতাং-রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে ভুগাই-কংস নদীগুলোর পানি কমেছে।

আরও বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওড় অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। দ্বিতীয় দিন কুশিয়ারা নদীর কোথাও কোথাও পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওরের আশেপাশের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীগুলোর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস অববাহিকার হাওরের আশেপাশের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীগুলোর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে, এ অববাহিকার হাওড়ের আশেপাশের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এছাড়া মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীগুলোর পানি আগামী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং তৃতীয় দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। জুড়ি নদীর পানি আগামী ৭২ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সর্তকসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। সুতাং নদীর পানি আগামী একদিন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন কমতে পারে এবং বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় হবিগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে আজ সকাল নয়টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও বরিশাল বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

আজ দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে হাতিয়ায় ১২৪ মিলিমিটার। এর বাইরে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে এমন এলাকার মধ্যে নেত্রকোনায় ৭১, মাইজদীকোর্টে ৪৮, রাঙ্গামাটিতে ৪৬, সিলেটে ৪৩, চট্টগ্রামে ৪১, ভোলায় ৩৬ শ্রীমঙ্গল ও তেঁতুলিয়ায় ৩৪, নিকলিতে ৩২, মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।