রাজধানীর কলাবাগান এলাকার কাঁঠালবাগানের একটি বাসায় জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জামাতা হৃদয় ওরফে শিপনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কলাবাগান থানার ওসি ফজলে আশিক জানিয়েছেন, রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ‘পারিবারিক কলহের জের’ ধরে এই ঘটনা ঘটে। শিপনের স্ত্রীর নাম ফারজানা আকতার রাত্রি (২০) এবং শাশুড়ি ফিরোজা বেগম (৩৮)।
পুলিশ ও নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। নিহত ফারজানার বাবা মো. ফারুক হোসেন বলেন, গত শুক্রবারের আগের শুক্রবার তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম ও মেয়ে ফারজানা শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে গ্রামের বাড়িতে যান। গত শুক্রবার তাদের এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হৃদয় ওরফে শিপনও সেখানে যান। তবে বিয়ের দিন সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে শিপন না খেয়েই ঢাকায় ফিরে আসেন।
ফারুক হোসেন জানান, শনিবার রাতে তিনি, তার স্ত্রী ও মেয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরে কাঁঠালবাগানের বাসায় ওঠেন। রোববার (২ আগস্ট) সকালে তিনি বাসার বাইরে ছিলেন। এ সময় আগের বিরোধের জের ধরে আবারও শিপনের সঙ্গে ফারজানার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ফিরোজা বেগম মেয়ের পক্ষ নিয়ে ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরে শিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে স্ত্রী ফারজানার ওপর হামলা চালান। পরে ফিরোজা বেগমকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। ঘটনাস্থলেই ফারজানা নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফারুক হোসেন আরও বলেন, হামলার পর শিপন তাদের এক বছর বয়সি ছেলে রায়হানকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত শিপনকে গ্রেফতার করে। শিপনের বাড়ি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়।
কলাবাগান থানার ওসি মো. ফজলে আশিক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে শাশুড়ি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত হৃদয় ওরফে শিপন ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে স্ত্রী এবং পরে শাশুড়ির ওপর হামলা চালান। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, ফিরোজা বেগমের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অপর লাশেরও ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন