
অনলাইন ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর পদক্ষেপে ‘অনেক ভুল ও গুরুতর ব্যর্থতা’ ছিল বলে স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সংঘাতের কারণে ক্রমবর্ধমান প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের একটি টাউন হলে প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়ে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন।
প্রয়াত মাস্টার সার্জেন্ট নিকোল আমোরের স্বামী জোয়ি আমোরের এক প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স এই মন্তব্য করেন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় কুয়েতের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় নিহত ছয়জন মার্কিন সেনা রিজার্ভের মধ্যে নিকোল আমোর ছিলেন। এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে অন্তত ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শত শত আহত হয়েছেন।
সামরিক স্থাপনাটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনের দিকে ইঙ্গিত করে জোয়ি আমোর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করেন।
আমোর বলেন, ‘যদিও ইরানি ড্রোন দিয়ে আমার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছিল, তবে এর পেছনে অনেক ভুল এবং মারাত্মক ব্যর্থতা ছিল।’
সামরিক কৌশলে ঘাটতি থাকার বিষয়টি মেনে নিয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘কখনো কখনো সব তথ্য আমার কাছে পৌঁছায় না।’ এ সময় তিনি ‘প্রতিটি ব্যর্থতাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখার’ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও স্বীকার করেন যে, সেনাদের অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে সামরিক কৌশলে দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘উদাহরণস্বরূপ আমি জানি যে কিছু সমস্যা ছিল… সেনাদের কোথায় মোতায়েন করা হয়েছিল, যা আমাদের কাছে পরে এক বিরাট ভুল বলে মনে হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। তবে আমরা সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন এনেছি।’
তুলনামূলক কম দামি ড্রোনের ক্রমবর্ধমান হুমকির কথা উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, সেনাদের আরও সুরক্ষিত রাখতে এবং ভবিষ্যৎ হতাহতের ঘটনা এড়াতে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের রণকৌশলে পরিবর্তন এনেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রত্যাশা সত্ত্বেও কেন ওয়াশিংটন এখনও চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারেনি—এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স যুক্তি দেখান যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘কিছুটা হলেও চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছে’। তবে তিনি এ-ও স্বীকার করেন যে যুদ্ধের ফলাফল ইরানের পদক্ষেপের ওপরও নির্ভর করে। তিনি বলেন, ‘এখানে শত্রুরও একটি ভূমিকা রয়েছে।’
বর্তমান প্রশাসনের কৌশলগত অবস্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ভ্যান্স বলেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করবে না—তেহরানের কাছ থেকে এমন একটি ‘চূড়ান্ত ও দৃঢ় প্রতিশ্রুতি’ আদায় করতে চায় ওয়াশিংটন।
মন্তব্য করুন