গণমাধ্যম কর্মীকে হেনস্তা,যুবলীগের নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : সম্প্রতি করোনা ভাইরাস মোকাবিলা ও ত্রাণ সহায়তা নিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কার্যক্রমের সংবাদ গুরুত্বসহকারে ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরে গ্লোবাল টিভিতে প্রচার করতে গত ২১.০৪.২০২০ইং তারিখে ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ যায় গ্লোবাল টিভি নিউজ টিম। গ্লোবাল টিভির সিনিয়র রিপোর্টার আনিসুর রহমান সাব্বির, ক্যামেরাম্যান আনসার উদ্দিন রাজা কোভিড-১৯ ভাইরাস বিষয়ে জেলা ব্যাপী সচেতনা বৃদ্ধিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সদূরপ্রসারী ত্রাণ সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহ করতে মানিকগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন স্থানে গেলে জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাদিকুল ইসলাম সোহা ও তার সঙ্গীয় ব্যক্তিবর্গ দ্বারা বাঁধার সম্মুখীন হন। বিভিন্ন স্থান থেকে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার কথা বলে নিজ বাড়িতে ত্রাণ জমা করার বিষয় সাদিকুল ইসলাম সোহার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয় তার ব্যক্তিগত আর মানিকগঞ্জ ত্রাণ কার্যক্রমের কোন সংবাদ করতে গেলে তার(সাদিকুল ইসল সোহার) কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। সাথে-সাথে গ্লোবাল টিভি নিউজ টিমকে জেলা ত্যাগ করতে বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ ও মারধোরের হুমকি দেয় সোহা।

ঐদিন রাতে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে করোনা রোগী আছে বলে মিথ্যা তথ্য সরবারহ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে সিনিয়র রিপোর্টার আনিসুর রহমানকে হেনস্থা করতে তার গ্রামের বাড়িতে পাঠায়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন গণমাধ্যম কর্মীর পরিচয় পেয়ে সেখান থেকে চলে যান। এরপর সেখানে সোহা তার লোকজন নিয়ে এসে আবারো চড়াও হয় গণমাধ্যম কর্মী আনিসুর রহমানের উপর। পরে এলাকাবাসী জড়ো হলে সোহা তার সঙ্গী সাথী নিয়ে চলে যায়। এরপর ঐ রাতেই নারায়ণগঞ্জ থেকে মানিকগঞ্জে বেশ কয়েকজন করোনা রোগী আছে বলে এলাকাজুরে গুজব ছড়ায়।
মঙ্গলবার গ্লোবাল টিভি টিম মানিকগঞ্জে ত্রাণ সহায়তার সংবাদ সংগ্রহে গেলে এক গুজবের মুখোমুখী হয়। যুবলীগ মানিকগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাদেকুল ইসলাম সোহা নারায়ণগঞ্জ থেকে করোনা রোগীসহ একদল বহিরাগত মানুষ মানিকগঞ্জ প্রবেশ করেছে বলে অপপ্রচার চালান ও এলাকাবাসীর মাঝে ভীতি সঞ্চার করেন। সেই সাথে গণমাধ্যম কর্মীদের লাঞ্চিত করেন। পরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাতের আধাঁরে গণমাধ্যম কর্মীদের হয়রানি করার চেষ্টাও করেন তিনি। তবে গণমাধ্যম কর্মীর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন ঘটনা¯’ল ত্যাগ করেন
সাদিকুল ইসলাম সোহার মত ব্যক্তিদের করোনা নিয়ে গুজব রটনাকারীদের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও বিদ্বেষের সৃষ্টি হয় বলে জানান মানিকগঞ্জবাসী।

এদিকে গুজব রটনাকারী যেই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান,মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেল।

গুজব রটনাকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন। জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজা গ্লোবাল টিভিকে মুঠোফোনে বলেন,তদন্তপূর্বক সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাদেকুল ইসলাম সোহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে কোন গুজব রটনাকারী, অপরাধী বা দুর্নিতীবাজের স্থান যুবলীগে নেই এবং ভবিষ্যৎতেও হবে না বলে কঠোর হঁশিয়ারী দিয়েছেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল ।

আইনের উর্দ্ধে কেউ নেই উল্লেখ করে, পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, করোনা নিয়ে গুজব রটনাকারী যেই হোক তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখী করা হবে । করোনা নিয়ে গুজব রটনাকারী ও প্রশাসনকে অযথা হয়রানিকারীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে জানান, মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস ।

কোন প্রপাগান্ডা-গুজব রটনকারী ও করোনা নিয়ে কাউকে  দেশে হবে না উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গ্লোবাল টিভিকে মুঠোফোনে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কঠোর হস্তে দমন করতে মাঠে কাজ করছে। মানিকগঞ্জে গণমাধ্যমকর্মীদের হেনস্তার বিষয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়ে, জেষ্ঠ্য সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও শাবান মাহবুদ গ্লোবাল টিভিকে মুঠোফোনে জানান, গণমাধ্যকর্মী নির্যাতন কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না ।

অপরাধ বিজ্ঞানী এ বি এম নাজমুস সাকিব মনে করেন, গুজব রটনাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে, তারা দেশ ও জাতির জন্য হুমকি হয়ে দাড়াতে পারে ।

উল্লেখ্য ২০১৫ সালের ৬ নভেম্বর দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকাসহ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় দেখা যায়, একই বছরের ২৩ জুলাই ১৫৪ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সম্মেলনের পর থেকে কমিটির সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সোহা ও সাধারণ সম্পাদক চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনায় ২৫ জুলাই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বহিষ্কার চেয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালামসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা, স্থানীয় সাংসদ এবং তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এ নিয়ে একই বছরে ২৭ জুলাই প্রথম আলো ‘জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি- সম্পাদককে বহিষ্কার দাবি’ শিরোনামে আরো একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। সম্মেলনের তিন দিন পর সভাপতি পদে সাদিকুল ইসলাম সোহা ও সাধারণ সম্পাদক পদে এনামুল হকের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই তাঁরা প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকা- শুরু করেন জেলা জুড়ে।
সবশেষ জেলা ছাত্রলীগের কতিপয় সদস্যদের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অন্য সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তার জন্য কেন্দ্রীয় সংসদের নির্দেশে ঐ কমিটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এসব বিষয়ে সাদেকুল ইসলাম সোহার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কোন কথা বলতে রাজি হননি। পরে তার বাসার সামনে গিয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যাস্ত আছেন বলে সংযোগটি কেটে দেন ।

পুনারয় বেশ কয়েকবার তার সাথে আবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি ।করোনার গুজবে পড়ে হেনস্তা হলো গণমাধ্যম কর্মী।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Title