Ritesh Beghi
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আবুল কাশেম ফজলুল হক শুধু কৃষক সমাজের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা। তার সংবেদনশীলতা, মমতা ও রাজনৈতিক আপসহীনতা তাকে সর্বভারতীয় রাজনীতির উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল।

শেরে বাংলার ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বার্তায় ফজলুল হককে অবিভক্ত বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বিশিষ্ট নেতা হিসেবে স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি, কৃষি, অর্থনীতি ও কৃষকদের স্বার্থে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদান স্মরণ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এই অঞ্চলের রাজনৈতিক উন্নয়নে প্রয়াত নেতার অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তার ঐতিহাসিক ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এই উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। প্রস্তাবটি আজও ঐতিহাসিকদের মধ্যে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এটি তার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতিফলন।

তারেক রহমান কৃষকদের কল্যাণের প্রতি ফজলুল হকের অঙ্গীকারের ওপর জোর দেন এবং তাকে বাংলার কৃষকদের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে বর্ণনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফজলুল হক ছিলেন বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের বন্ধু। তিনিই প্রথম উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি বাংলার কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দূরদর্শিতা এবং অন্তঃর্দৃষ্টির মাধ্যমে তিনি কৃষক সমাজের স্বার্থকে রাজনৈতিক কাঠামোয় নিয়ে আসতে সক্ষম হন।

ফজলুল হক প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। কৃষক-শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার পথ সুগম করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেরে বাংলার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক।

শেরে বাংলা ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামের মিঞা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং আইনসভার সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনেও তার অবদান ছিল। ১৯৪০ সালে তিনি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি ২১ দফারও প্রণেতা ছিলেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুই মিনিটের ব্যবধানে দু’বার ভূমিকম্পে কাঁপল কোস্টারিকা

কফি উইথ করণে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সালমান, অতিথির তালিকায় আর কে?

দিল্লিতে বিরিয়ানিতে লবণ বেশি দেওয়ার অভিযোগে হোটেলকর্মীকে ছুরিকাঘাত, গ্রেফতার ২

নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি

দেশে স্বর্ণের দাম আরও বাড়ল

ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে রেকর্ডের সামনে মেসি

নতুন ক্লাবে এবার নায়ক সালাহ

শাহরুখকে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র বানাতে চান অস্কারজয়ী নির্মাতা কেভিন

শিলিগুড়ির ‘চিকেনস নেক’র সুরক্ষায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক

নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর পুকুরে ভেসে উঠল দুই শিশুর মরদেহ

১০

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অপেক্ষায় বিশ্ববাজার, কমল তেলের দাম

১১

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি সিজেপির

১২

চার সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত, বৃষ্টি নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

১৩

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধকেই যুদ্ধ ভাবছে ইরান

১৪

ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে যাওয়া সামিয়া দিলেন দুঃসংবাদ

১৫

আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার আপিলের রায় আজ

১৬

ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, ডলারের দাম ছাড়াল ২০ লাখ রিয়াল

১৭

শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আর্সেনালের দারুণ শুরু

১৮

কোনো দৃশ্য বাদ না দিয়েই সেন্সর ছাড়পত্র পেল বিতর্কিত ‘টক্সিক’

১৯

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ

২০