Ritesh Beghi
৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৫২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

আপিলে ঝুলে আছে বিচার, বাবার আক্ষেপ

‘ ছোট ভাইকে হত্যার বিচার চেয়ে কত জায়গায় গেলাম, কিন্তু বিচার পাইলাম কই! শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভেবেছিলাম, আমরা বিচার পাব। এই সরকারও আমার ভাই হত্যার বিষয় আমলে নেয়নি। একটা প্রকাশ্য হত্যার বিচার ১৩ বছর ধরে ঝুলে আছে।’ এভাবেই বিশ্বজিৎ দাস হত্যার বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেন তাঁর বড় ভাই উত্তম দাস।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশে নৃশংসভাবে কুপিয়ে দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে হত্যা করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীরা। উত্তম দাস সমকালকে বলেন, ‘জজকোর্টে রায় হওয়ার পর উচ্চ আদালতে বিচার থেমে আছে। এগুলো ছিল আওয়ামী সরকারের কারসাজি। অনেক আগে থেকেই আসামিরা খালাস পেয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছে। তবে অন্য দলের কেউ হত্যা করলে ঠিকই বিচার হতো। শুধু বিচারটাই চাওয়া ছিল, আর তো কিছু চাইনি। শেখ হাসিনার পতনের পরপরই বিচার পাব বলে আশায় বুক বেঁধেছিলাম। ছোট ভাইটাকে হাত ধরে ঢাকায় আনলাম, তারপর হত্যার শিকার হলো। এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু নেই।’

বিচারের আশায় বুক বেঁধে আছেন বিশ্বজিতের বাবা ৭৪ বছর বয়সী অনন্ত দাসও। তিনি বলেন, ‘এটা তো সরকার বাদী মামলা। আপিল হচ্ছে, রায়ে কী হচ্ছে এটা আর বলার মতো না। হাসিনার আমলে আপিলে অনেককে ছেড়ে দিয়েছে। বিচার আর হই কই? এখন তো আর হাসিনা নেই, এখন বিচার করতে সমস্যা কোথায়? ছেলে হত্যার বিচার দেখার অপেক্ষাতেই বেঁচে আছি।’

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধ চলার সময় ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে বিশ্বজিৎকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শাঁখারীবাজারে দর্জির দোকান ছিল বিশ্বজিতের। তাঁর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর। রাজধানীর লক্ষ্মীবাজারে বড় ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি। হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ২৫ জনকে আসামি করে রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় মামলা করে পুলিশ। ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ২১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রায়ে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট হাইকোর্ট নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন এবং অন্য দুজনকে খালাস দিয়ে রায় দেন। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে আপিল করে খালাস পেয়েছিলেন দুজন।  বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে তাদের নিজস্ব কিছু আইনজীবীর মাধ্যমে অনেক আসামি জামিন নিয়েছে। আলোচিত এই মামলা দ্রুত শেষ করার পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত অ্যার্টনি জেনারেল মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার ভুঞা সমকালকে বলেন, ‘আইন ও বিচার বিভাগে আগে যারা ছিল তারা এ ধরনের মামলাগুলো নামমাত্র একটা ফাইল করে রেখেছিল। আমরা এই মামলাসহ এ রকম যেসব ঘটনা আছে সেগুলো আবার বিচারের আওতায় আনব।’

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ধর্ম নয়, সবার বড় পরিচয় বাংলাদেশি : তারেক রহমান

১

অর্থনীতি স্থিতিশীল হতে দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী

২

চলতি মাসেই বাড়তি বেতন পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

৩

আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু

৪

ইরান যুদ্ধে ‘গুরুতর ব্যর্থতা’ স্বীকার জেডি ভ্যান্সের

৫

ক্যালিফোর্নিয়ায় বিধ্বংসী দাবানল, পুড়ল শত শত একর জমি

৬

প্রশাসনে বড় রদবদল: সাত সচিবের দপ্তর বদল

৭

পুলিশ প্রশাসনে রদবদল: ১১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি

৮

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বন্দরে ‘বাংলাদেশ সনাতন সংঘ’র গীতা দান

৯

বাপার সিদ্ধিরগঞ্জ আঞ্চলিক সমন্বয় কমিটি গঠন

১০

ইউরিয়া সার কারখানা স্কুল এন্ড কলেজের পুনর্মিলনী-২০২৬: অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু

১১

বিরোধীরা না থাকলেও বাস্তবায়িত হবে ‘জুলাই সনদ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১২

বিএনপির মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ : হাসনাত আবদুল্লাহ

১৩

এখন কেমন আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যা জানালেন সফরসঙ্গী

১৪

ইতালিতে কর্মী নিতে ঢাকায় বিশেষ আয়োজন, কবে— সরকারকে জানালেন রাষ্ট্রদূত

১৫

ইসরাইলের সহায়তার প্রস্তাবে যা জানালেন সৌদি যুবরাজ

১৬

বিরোধী দলের নেতাদের চায়ের আমন্ত্রণ রাহুল গান্ধীর

১৭

বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চায় বাংলাদেশ

১৮

ইউনূসকে হেনস্তার সম্পূর্ণ দায় শেখ হাসিনার : জামায়াত আমির

১৯

নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষা, পরে মিলল মৃত্যুর খবর—কাশ্মীরে হাহাকার

২০