একাধিক মাইলফলকের সামনে মেসি
- আপডেট সময় : ১০:৫৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
- / 5
ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম সোনালি অক্ষরে লিখে রেখেছেন লিওনেল মেসি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়ে অনেকের চোখে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতাও পূরণ করেছেন। তবে তার গল্প এখনও শেষ হয়নি। ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন কিছু রেকর্ড গড়ার সুযোগ অপেক্ষা করছে এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার জন্য।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপ মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি তিনি এই আসরে অংশ নেন, তাহলে সেটি হবে তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আসরে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের কাতারে জায়গা করে নেবেন। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপ অভিষেকের পর টানা দুই দশক ধরে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলছেন তিনি।
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকাতেও বড় এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মেসি। বর্তমানে তার গোলসংখ্যা ১৩, যেখানে শীর্ষে থাকা জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার গোল ১৬টি। ফলে আসন্ন বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্স করলে এই রেকর্ড স্পর্শ কিংবা ভাঙার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এ ক্ষেত্রে তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, যার ঝুলিতেও ইতোমধ্যে ১২টি বিশ্বকাপ গোল রয়েছে।
শুধু গোল নয়, অ্যাসিস্টের ক্ষেত্রেও ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখতে পারেন মেসি। বিশ্বকাপে বর্তমানে তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৮। এই তালিকার শীর্ষে থাকা পেলের রেকর্ড ১০ অ্যাসিস্টের খুব কাছেই অবস্থান করছেন তিনি। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী মেসি ইতোমধ্যেই সর্বাধিক অ্যাসিস্টদাতাদের অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও বর্তমানে মেসির দখলে। এখন পর্যন্ত তিনি ২৬টি ম্যাচ খেলেছেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নতুন ফরম্যাটের বিশ্বকাপে দলগুলো আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে, ফলে এই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকবে তার সামনে।
এ ছাড়া বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকার কৃতিত্বও তার ঝুলিতে রয়েছে। ২,৩০০ মিনিটের বেশি সময় খেলে তিনি ইতোমধ্যে এই তালিকায় শীর্ষস্থান শক্তভাবে ধরে রেখেছেন।
সবকিছু মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ মেসির জন্য শুধু শিরোপা রক্ষার মিশন নয়, বরং নিজের কিংবদন্তি ক্যারিয়ারকে আরও উজ্জ্বল করে তোলার এক অনন্য সুযোগ। যদি এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ হয়, তবে সেটি হতে পারে একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ডের সাক্ষী হয়ে থাকা একটি স্মরণীয় বিদায়মঞ্চ।




















