দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও উচ্চতর মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মোঃ মহিববুর রহমান বলেছেন,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে আধুনিক রূপ পাওয়া বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও উচ্চতর মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার । অংশগ্রহণমুলক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ও ‘স্মার্ট সোনার বাংলা’ গড়তে চাই আমরা । এই স্মার্ট সোনার বাংলা গড়ার অংশীদার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তারই অংশ হিসেবে আমরা স্মার্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চাই। পরিকল্পিত কর্মকান্ডের মাধ্যমে আমরা হোল অফ সোসাইটি এপ্রোচে কাজ করতে চাই। সুতরাং স্মার্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গড়ার যাত্রায় আপনারাও অংশীজন ।

প্রতিমন্ত্রী আজ ঢাকায় একটি হোটেলে “Early Warning for Ensuring All and creating futuristic Disaster Risk Management through partnership efforts”শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং শরণার্থী সেলের প্রধান মোঃ হাসান সারওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান,বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব কাজী শফিকুল আজম,ডব্লিউএফপিএ’র সিনিয়র পার্টনারশিপস এডভাইজার ও সরকারের সাবেক সচিব মোঃ মোহসীন এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর ডোমেনিকো স্কালপেলি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন,বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা যে সারা বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে সম্মান পেয়েছে, সেটির একটি উল্লেখযোগ্য কারণ অংশী প্রতিষ্ঠানসমূহের অকুণ্ঠ সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ, আপনারাও এই কৃতিত্বের অংশীদার। আমি আপনাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনমুখী করতে চাই।
আজ আমরা ‘আর্লি ওয়ার্নিং ফর অল’ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানলাম ও অবগত হলাম । এটিকে গতিশীল করতে রোড ম্যাপ প্রণয়ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য আমাদেরকে আরও কাজ করতে হবে। এ বিষয়ে আমার সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
এছাড়া কয়েকটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও প্রস্তাবনা নির্ধারণ করে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গড়া। সর্বশেষ প্রযুক্তিগুলো বিশেষতঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, ড্রোন টেকনোলজি গ্রহণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে তাল মিলিয়ে চলার উপযোগী করা। এর পাশাপাশি আমাদের অবকাঠামোগত পরিকল্পনা ও প্রকল্পগুলো অব্যাহত থাকবে। সেগুলোকে আধুনিক ও সম্প্রসারিত করার জন্য আমরা আরও পরামর্শ সভা করবো। মোটকথা আমরা সবাই মিলে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম অংশীদার হতে চাই।

তিনি বলেন,আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এমনভাবে গড়ে উঠবে, যাতে উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগঘটিত সকল বাধা দূর হবে। যে সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমরা প্রতিরোধ করতে পারব না, সেগুলোর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা যেন সর্বনিম্ন থাকে। আমরা জীবনহানির সংখ্যাকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পেরেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য হবে অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানো, মানুষের জীবন-জীবিকাকে রক্ষা করা। দুর্যোগের শিকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোসমূহকে দুর্যোগের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা। আমাদের মূল উদ্দেশ্য উন্নয়নকে টেকসই করা। এর পাশাপাশি দুর্যোগ সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলাও আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত দপ্তরসমূহ, সহযোগী সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, আই/এনজিও,অন্যান্য অংশীজন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা/গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়া প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও চিফ ইনোভেশন অফিসার কে এম আবদুল ওয়াদুদ এবং মূল উপস্থাপনা সঞ্চালন করেন ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি(সিপিপি)’র পরিচালক আহমাদুল হক ।

কর্মশালার মূল কার্যক্রম ছিল:
১। জাতিসংঘ উদ্যোগ ‘সকলের জন্য আগাম সতর্কবার্তা (২০২৩-২০২৭) এর সর্বশেষ অগ্রগতি সম্বন্ধে অবহিতি এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ
২। বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বর্তমান চাহিদা এবং ভবিষ্যতের অগ্রাধিকারসমূহ বিবেচনা করে অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ হিসেবে ১৭টি প্রস্তাবনা ও ৭টি বৃহত্তর ক্ষেত্র উপস্থাপন এবং সকলের অংশগ্রহণ আহবান
৩। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক ‘স্মার্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্লাটফর্ম’ লঞ্চিং। এই অনলাইন প্লাটফর্মে মন্ত্রণালয় কর্তৃক উপস্থাপিত প্রস্তাব ও ক্ষেত্রসমূহে সহযোগী সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, এনজিও,অন্যান্য অংশী প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণ,পদ্ধতিগত উন্নয়ন,বাস্তবায়ন অগ্রগতি, মূল্যায়ন ও মনিটরিং।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Title