ঢাকা ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘প্ল্যান বি নেই’—সতর্ক করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৩১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 14

ইসলামাবাদে আজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ঘিরে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটনের কোনো বিকল্প পরিকল্পনা (প্ল্যান বি) নেই।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার কোনো ব্যাকআপ প্ল্যানের দরকার নেই। তাদের সামরিক শক্তি ভেঙে পড়েছে। আমরা সবকিছু একীভূত করেছি। তাদের খুব অল্প ক্ষেপণাস্ত্র আছে, উৎপাদন সক্ষমতাও সীমিত। আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হেনেছি। আমাদের সেনাবাহিনী অসাধারণ কাজ করেছে।’

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে পাকিস্তানে এই আলোচনা শুরু হবে। মধ্যপ্রাচ্যে টানা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি ভঙ্গুর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে তারা ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।

বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স। প্যারিস ছাড়ার আগে তিনি তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, ‘তারা যদি আমাদের সঙ্গে খেলা করার চেষ্টা করে, তাহলে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দল কঠোর অবস্থান নেবে।’

আলোচনার আগে থেকেই দুই দেশের মধ্যে শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ১৫ দফা প্রস্তাব তৈরি করেছে, যেখানে ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ এবং সামরিক সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিপরীতে, ইরান ১০ দফা প্রস্তাবে ক্ষতিপূরণ দাবি এবং হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, আরেক ফ্রন্টে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যেও আগামী সপ্তাহে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। সাম্প্রতিক তীব্র হামলার পর সাময়িক বিরতি তৈরি হওয়ায় কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের বৈঠককে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

নতুন প্রজন্মের অনলাইন টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

‘প্ল্যান বি নেই’—সতর্ক করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১২:৩১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামাবাদে আজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ঘিরে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটনের কোনো বিকল্প পরিকল্পনা (প্ল্যান বি) নেই।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার কোনো ব্যাকআপ প্ল্যানের দরকার নেই। তাদের সামরিক শক্তি ভেঙে পড়েছে। আমরা সবকিছু একীভূত করেছি। তাদের খুব অল্প ক্ষেপণাস্ত্র আছে, উৎপাদন সক্ষমতাও সীমিত। আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হেনেছি। আমাদের সেনাবাহিনী অসাধারণ কাজ করেছে।’

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকালে পাকিস্তানে এই আলোচনা শুরু হবে। মধ্যপ্রাচ্যে টানা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি ভঙ্গুর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে তারা ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।

বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স। প্যারিস ছাড়ার আগে তিনি তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, ‘তারা যদি আমাদের সঙ্গে খেলা করার চেষ্টা করে, তাহলে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দল কঠোর অবস্থান নেবে।’

আলোচনার আগে থেকেই দুই দেশের মধ্যে শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ১৫ দফা প্রস্তাব তৈরি করেছে, যেখানে ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ এবং সামরিক সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিপরীতে, ইরান ১০ দফা প্রস্তাবে ক্ষতিপূরণ দাবি এবং হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে, আরেক ফ্রন্টে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যেও আগামী সপ্তাহে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। সাম্প্রতিক তীব্র হামলার পর সাময়িক বিরতি তৈরি হওয়ায় কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের বৈঠককে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি