ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরগুনায় হামের প্রকোপ: মেলার আয়োজনে জনস্বাস্থ্যের চরম ঝুঁকির আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 10

বরগুনায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতির যখন এই নাজুক দশা, ঠিক তখনই বরগুনায় মেলার আয়োজন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহল। তাদের আশঙ্কা, জনসমাগমের এই মেলা থেকে হাম ভয়াবহ মহামারিতে রূপ নিতে পারে।

বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৮৪ জনের মধ্যে ৩৭ জনের শরীরে হামের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া আরও ৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ২০৭ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

এমন এক সংকটকালীন সময়ে ১১ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিসিকের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বিসিক উদ্যোক্তা কুটির শিল্প মেলা শুরু হয়েছে। এছাড়া পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একদিনের বৈশাখী মেলার প্রস্তুতিও চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং মারাত্মক বায়ুবাহিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে গড়ে ১৮ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে মেলায় ব্যাপক জনসমাগম হলে এই ভাইরাস দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

বিসিকের এই মেলা আয়োজনের সমালোচনা করে জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, “আমরা যখন প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দিচ্ছি, তখন খোদ প্রশাসন কীভাবে এই মেলার অনুমতি দিল তা আমাদের বোধগম্য নয়। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর এই মেলার আয়োজন করা যেত।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরগুনা জেলা বিসিকের উপব্যবস্থাপক কাজী তোফাজ্জেল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বরগুনার স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং মেলার অনুমতি প্রসঙ্গে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, জেলা প্রশাসক ও বিসিকের উদ্যোগে এই মেলাটি শুরু হয়েছে এই মেলাটি হওয়ার কথা ছিল ১০ দিনের। যখন আমার স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ নেয়া হয়েছে তখন আমি বলেছি কোনভাবেই যেন মেলাটি শুরু না করে । যেহেতু মেলাটি আগে থেকেই আয়োজন করা ছিল তাই সকলের সাথে কথা বলে মেলাটি তিনদিনে নামিয়ে নিয়ে আসছে। এখানে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে একটি স্টল থাকবে সেখানে আমরা টিকা ধান করব। আমরা মানুষকে সচেতন করার জন্য হ্যান্ডবিল, বিলবোর্ড, লিফলেট বিতরণ করব। প্রোপার স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি মেলাটা করে হয়তোবা তেমন একটা প্রভাব পড়বে না।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের জনসমাগম পরিহার করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যথায় বরগুনার এই স্বাস্থ্য সংকট বড় ধরনের বিপর্যয়ে মোড় নিতে পারে।

নতুন প্রজন্মের অনলাইন টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বরগুনায় হামের প্রকোপ: মেলার আয়োজনে জনস্বাস্থ্যের চরম ঝুঁকির আশঙ্কা

আপডেট সময় : ১১:৫৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

বরগুনায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতির যখন এই নাজুক দশা, ঠিক তখনই বরগুনায় মেলার আয়োজন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহল। তাদের আশঙ্কা, জনসমাগমের এই মেলা থেকে হাম ভয়াবহ মহামারিতে রূপ নিতে পারে।

বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৮৪ জনের মধ্যে ৩৭ জনের শরীরে হামের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া আরও ৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ২০৭ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

এমন এক সংকটকালীন সময়ে ১১ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিসিকের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বিসিক উদ্যোক্তা কুটির শিল্প মেলা শুরু হয়েছে। এছাড়া পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একদিনের বৈশাখী মেলার প্রস্তুতিও চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং মারাত্মক বায়ুবাহিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে গড়ে ১৮ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে মেলায় ব্যাপক জনসমাগম হলে এই ভাইরাস দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

বিসিকের এই মেলা আয়োজনের সমালোচনা করে জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, “আমরা যখন প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দিচ্ছি, তখন খোদ প্রশাসন কীভাবে এই মেলার অনুমতি দিল তা আমাদের বোধগম্য নয়। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর এই মেলার আয়োজন করা যেত।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরগুনা জেলা বিসিকের উপব্যবস্থাপক কাজী তোফাজ্জেল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বরগুনার স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং মেলার অনুমতি প্রসঙ্গে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, জেলা প্রশাসক ও বিসিকের উদ্যোগে এই মেলাটি শুরু হয়েছে এই মেলাটি হওয়ার কথা ছিল ১০ দিনের। যখন আমার স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ নেয়া হয়েছে তখন আমি বলেছি কোনভাবেই যেন মেলাটি শুরু না করে । যেহেতু মেলাটি আগে থেকেই আয়োজন করা ছিল তাই সকলের সাথে কথা বলে মেলাটি তিনদিনে নামিয়ে নিয়ে আসছে। এখানে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে একটি স্টল থাকবে সেখানে আমরা টিকা ধান করব। আমরা মানুষকে সচেতন করার জন্য হ্যান্ডবিল, বিলবোর্ড, লিফলেট বিতরণ করব। প্রোপার স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি মেলাটা করে হয়তোবা তেমন একটা প্রভাব পড়বে না।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের জনসমাগম পরিহার করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যথায় বরগুনার এই স্বাস্থ্য সংকট বড় ধরনের বিপর্যয়ে মোড় নিতে পারে।