ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের বিপক্ষে দুই পাকিস্তানি ‘অস্ত্র’ হয়ে উঠবে– প্রত্যাশা মেন্ডিসের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 43

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আগামীকাল (রোববার) হাইভোল্টেজ ম্যাচে লড়বে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভারত-পাকিস্তান। সেখানকার অনুশীলন নেটে অফ ও লেগ স্টাম্প বরাবর সরলরেখায় দু’টি দড়ি টানানো হয়েছে। দড়ি দুটির মাঝখানে এক বাঁ–হাতি ব্যাটসম্যান সামনে–পেছনে, এপাশ–ওপাশে সরে শট খেলার অনুশীলন করছেন। বিপরীতে আরও নিখুঁত হওয়ার চেষ্টায় পাকিস্তানের স্পিনাররা। যারা ভারতের বিপক্ষে অস্ত্র হয়ে উঠতে পারেন বলে প্রত্যাশা সাবেক শ্রীলঙ্কান তারকার।

অজন্তা মেন্ডিস মূলত আসন্ন রোমাঞ্চকর ম্যাচের আগে পাকিস্তানি দুই স্পিনার আবরার আহমেদ ও সাইম আইয়ুবকে নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। অফ ও লেগ স্টাম্প বরাবর দুটি দড়ি রেখে তাদের অনুশীলনের লক্ষ্য– বল ওই ‘ট্রামলাইন’-এর ভেতরে রেখে ব্যাটারদের বিভ্রান্তিতে ফেলা, যেন কব্জির মোচড় দেওয়ার আগে বল রহস্যময় হয়ে ওঠে। ইতিহাসে পাকিস্তানের পেস বনাম ভারতের ব্যাটিং দক্ষতার লড়াই হিসেবে পরিচিত এই দ্বৈরথ এবার ভিন্ন রূপ নিতে চলেছে। যেখানে কব্জির মোচড় ও ক্যারম বলের স্কিডের মাঝে নির্ধারিত হতে পারে জয়-পরাজয়।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে রহস্যময় স্পিনার হিসেবে ভারতের কঠিন পরীক্ষা নেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে অজন্তা মেন্ডিসের। ক্যারম বলের জাদুতে তিনি ব্যাটারদের বহুবার হতবুদ্ধি করেছেন। প্রেমাদাসায় তার ঝুলিতে ছিল ১১৬ উইকেট– এই মাঠই ছিল তার ব্যাটারদের দ্বিধায় ফেলার মঞ্চ। ক্যারম বল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেন্ডিসের কণ্ঠে অতীত অভিজ্ঞতার সুর শোনা যায়। তিনি আবরার-আইয়ুবের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘ব্যাক-স্পিন দিয়ে করা ক্যারম বল এখানে স্কিড করবে। আবরার ও সাইম উভয়েই ব্যাক–স্পিনের ওপর নির্ভর করে। ফলে প্রেমাদাসায় তারা স্বাভাবিকভাবেই সুবিধা পাবে।’

Image

কলম্বোর শুষ্ক উইকেট ক্যারম বলকে শুধু চমক নয়, প্রাণঘাতী অস্ত্রে পরিণত করে বলে দাবি অজন্তা মেন্ডিসের। সাবেক এই লঙ্কান তারকা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে বলেন, ‘শুকনো পিচে বল স্কিড করলে বোল্ড ও এলবিডব্লিউ- দু’ভাবে উইকেট নেওয়ার সুযোগ বাড়ে। টি–টোয়েন্টিতে ব্যাটসম্যানরা দ্রুত শট খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। ক্যারম বল পড়তে না পারলে দেরিতে সামঞ্জস্য করা যায় না। আর টি-টোয়েন্টিতে বোলিংয়ে বৈচিত্র্য জরুরি। ছয় বলই যদি ক্যারম বল হয়, ব্যাটসম্যান মানিয়ে নেবে। চমক হিসেবেই এটি (স্কিড বল) ব্যবহার করা উচিত।’

মূলত বাঁ–হাতি ব্যাটিংয়ে বোলারদের ওপর রাজত্ব করার জন্য খ্যাত সাইম আইয়ুব। তবে পার্ট-টাইম স্পিনার থেকে তিনি ক্রমাগত পূর্ণ মেয়াদে স্পিনার হয়ে উঠছেন। ব্রেক-থ্রু এনে দিচ্ছেন প্রয়োজনমতো। প্রথমে লেগ-ব্রেক এবং পরবর্তীতে গুগলিও আয়ত্ত করেছেন সাইম। তার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের বোলিং কোচ অ্যাশলি নফকের স্পষ্ট বার্তা– শুধু বিস্ফোরক ব্যাটিং যথেষ্ট নয়। এরপরই শুরু হলো দীর্ঘ নেট সেশন, দড়ির ভেতরে নিয়মিত বল ফেলার অনুশীলন। টেনিস বল দিয়ে শুরু, পরে লাল বলে। নিখুঁত হওয়ার হওয়ার পাশাপাশি পেশিশক্তি কাজে লাগানো। টি-টোয়েন্টির পাওয়ারপ্লেতে ২৮ ইনিংসে ১১৮ ডট বল করেছেন সাইম, ৮.৪১ ইকোনমির সঙ্গে ১৪ উইকেট তার। বোঝাই যাচ্ছে তিনি স্পিনে আরও ধার বাড়াচ্ছেন।

অন্যদিকে, আবরার আহমেদের বিশেষত্বই লেগস্পিনে রহস্য তৈরি। ‘হ্যারি পটার’ ডাকনামে পরিচিত আবরারের মূলশক্তি ক্যারম বল। তিনি প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের মানসিক চাপে রাখতে জানেন। যদিও সর্বশেষ এশিয়া কাপে ভারত খুব একটা সুবিধা করতে দেয়নি আবরারকে। তার ৪ ওভারে তুলেছিল ৪২ রান। তবে শক্তির জায়গা হচ্ছে– তার মতো স্পিনাররা নিজেদের বদলে নিতে জানেন। মেন্ডিসের মতে, এখন আর ক্যারম বলের অপব্যবহার করেন না আবরার। বরং ভারতীয় ভয়ঙ্কর স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর মতো ভ্যারিয়েশনে যোগ করেছেন সাইড–স্পিন। কৌশল সহজ– কয়েকটি লোভনীয় ফ্লাইটেড বল, তারপর আচমকা আঘাত।

অজন্তা মেন্ডিস সাইম-আবরারের কথা বললেও, ব্যতিক্রমী বোলিং অ্যাকশনের জন্য উসমান তারিকও ‘তুরুপের তাস’ হতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে। ইতোমধ্যে তাকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর বাইরে শাদাব খান ও মোহাম্মদ নেওয়াজদের মতো আরও একাধিক স্পিন বিকল্পও হাতে আছে পাকিস্তানের।

নতুন প্রজন্মের অনলাইন টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভারতের বিপক্ষে দুই পাকিস্তানি ‘অস্ত্র’ হয়ে উঠবে– প্রত্যাশা মেন্ডিসের

আপডেট সময় : ১২:৪৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আগামীকাল (রোববার) হাইভোল্টেজ ম্যাচে লড়বে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভারত-পাকিস্তান। সেখানকার অনুশীলন নেটে অফ ও লেগ স্টাম্প বরাবর সরলরেখায় দু’টি দড়ি টানানো হয়েছে। দড়ি দুটির মাঝখানে এক বাঁ–হাতি ব্যাটসম্যান সামনে–পেছনে, এপাশ–ওপাশে সরে শট খেলার অনুশীলন করছেন। বিপরীতে আরও নিখুঁত হওয়ার চেষ্টায় পাকিস্তানের স্পিনাররা। যারা ভারতের বিপক্ষে অস্ত্র হয়ে উঠতে পারেন বলে প্রত্যাশা সাবেক শ্রীলঙ্কান তারকার।

অজন্তা মেন্ডিস মূলত আসন্ন রোমাঞ্চকর ম্যাচের আগে পাকিস্তানি দুই স্পিনার আবরার আহমেদ ও সাইম আইয়ুবকে নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। অফ ও লেগ স্টাম্প বরাবর দুটি দড়ি রেখে তাদের অনুশীলনের লক্ষ্য– বল ওই ‘ট্রামলাইন’-এর ভেতরে রেখে ব্যাটারদের বিভ্রান্তিতে ফেলা, যেন কব্জির মোচড় দেওয়ার আগে বল রহস্যময় হয়ে ওঠে। ইতিহাসে পাকিস্তানের পেস বনাম ভারতের ব্যাটিং দক্ষতার লড়াই হিসেবে পরিচিত এই দ্বৈরথ এবার ভিন্ন রূপ নিতে চলেছে। যেখানে কব্জির মোচড় ও ক্যারম বলের স্কিডের মাঝে নির্ধারিত হতে পারে জয়-পরাজয়।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে রহস্যময় স্পিনার হিসেবে ভারতের কঠিন পরীক্ষা নেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে অজন্তা মেন্ডিসের। ক্যারম বলের জাদুতে তিনি ব্যাটারদের বহুবার হতবুদ্ধি করেছেন। প্রেমাদাসায় তার ঝুলিতে ছিল ১১৬ উইকেট– এই মাঠই ছিল তার ব্যাটারদের দ্বিধায় ফেলার মঞ্চ। ক্যারম বল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেন্ডিসের কণ্ঠে অতীত অভিজ্ঞতার সুর শোনা যায়। তিনি আবরার-আইয়ুবের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘ব্যাক-স্পিন দিয়ে করা ক্যারম বল এখানে স্কিড করবে। আবরার ও সাইম উভয়েই ব্যাক–স্পিনের ওপর নির্ভর করে। ফলে প্রেমাদাসায় তারা স্বাভাবিকভাবেই সুবিধা পাবে।’

Image

কলম্বোর শুষ্ক উইকেট ক্যারম বলকে শুধু চমক নয়, প্রাণঘাতী অস্ত্রে পরিণত করে বলে দাবি অজন্তা মেন্ডিসের। সাবেক এই লঙ্কান তারকা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে বলেন, ‘শুকনো পিচে বল স্কিড করলে বোল্ড ও এলবিডব্লিউ- দু’ভাবে উইকেট নেওয়ার সুযোগ বাড়ে। টি–টোয়েন্টিতে ব্যাটসম্যানরা দ্রুত শট খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। ক্যারম বল পড়তে না পারলে দেরিতে সামঞ্জস্য করা যায় না। আর টি-টোয়েন্টিতে বোলিংয়ে বৈচিত্র্য জরুরি। ছয় বলই যদি ক্যারম বল হয়, ব্যাটসম্যান মানিয়ে নেবে। চমক হিসেবেই এটি (স্কিড বল) ব্যবহার করা উচিত।’

মূলত বাঁ–হাতি ব্যাটিংয়ে বোলারদের ওপর রাজত্ব করার জন্য খ্যাত সাইম আইয়ুব। তবে পার্ট-টাইম স্পিনার থেকে তিনি ক্রমাগত পূর্ণ মেয়াদে স্পিনার হয়ে উঠছেন। ব্রেক-থ্রু এনে দিচ্ছেন প্রয়োজনমতো। প্রথমে লেগ-ব্রেক এবং পরবর্তীতে গুগলিও আয়ত্ত করেছেন সাইম। তার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের বোলিং কোচ অ্যাশলি নফকের স্পষ্ট বার্তা– শুধু বিস্ফোরক ব্যাটিং যথেষ্ট নয়। এরপরই শুরু হলো দীর্ঘ নেট সেশন, দড়ির ভেতরে নিয়মিত বল ফেলার অনুশীলন। টেনিস বল দিয়ে শুরু, পরে লাল বলে। নিখুঁত হওয়ার হওয়ার পাশাপাশি পেশিশক্তি কাজে লাগানো। টি-টোয়েন্টির পাওয়ারপ্লেতে ২৮ ইনিংসে ১১৮ ডট বল করেছেন সাইম, ৮.৪১ ইকোনমির সঙ্গে ১৪ উইকেট তার। বোঝাই যাচ্ছে তিনি স্পিনে আরও ধার বাড়াচ্ছেন।

অন্যদিকে, আবরার আহমেদের বিশেষত্বই লেগস্পিনে রহস্য তৈরি। ‘হ্যারি পটার’ ডাকনামে পরিচিত আবরারের মূলশক্তি ক্যারম বল। তিনি প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের মানসিক চাপে রাখতে জানেন। যদিও সর্বশেষ এশিয়া কাপে ভারত খুব একটা সুবিধা করতে দেয়নি আবরারকে। তার ৪ ওভারে তুলেছিল ৪২ রান। তবে শক্তির জায়গা হচ্ছে– তার মতো স্পিনাররা নিজেদের বদলে নিতে জানেন। মেন্ডিসের মতে, এখন আর ক্যারম বলের অপব্যবহার করেন না আবরার। বরং ভারতীয় ভয়ঙ্কর স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর মতো ভ্যারিয়েশনে যোগ করেছেন সাইড–স্পিন। কৌশল সহজ– কয়েকটি লোভনীয় ফ্লাইটেড বল, তারপর আচমকা আঘাত।

অজন্তা মেন্ডিস সাইম-আবরারের কথা বললেও, ব্যতিক্রমী বোলিং অ্যাকশনের জন্য উসমান তারিকও ‘তুরুপের তাস’ হতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে। ইতোমধ্যে তাকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর বাইরে শাদাব খান ও মোহাম্মদ নেওয়াজদের মতো আরও একাধিক স্পিন বিকল্পও হাতে আছে পাকিস্তানের।