গ্রেফতার কর্মীদের পরিবারের পাশে শিরিন শারমিন থাকবেন দাবি করে পুরনো ভিডিও প্রচার
- আপডেট সময় : ০৫:২৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
- / 4
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জরুরি নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, গ্রেফতার হওয়া নেতা-কর্মীদের পরিবারের পাশে থাকবেন এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কেউ গ্রেফতার হলে তাদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নামে খোলা একটু ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি প্রচারের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ কর্মীদের গ্রেফতার কিংবা পরিবারের স্বজনদের পাশে থাকার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সামাল দিতে সংসদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ২০২০ সালে তার দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিওকে সাম্প্রতিক সময়ে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Inter-Parliamentary Union (IPU)’ নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০২০ সালের ১৯ আগস্টে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়, যার সঙ্গে আলোচিত দাবি সংবলিত ভিডিওর মিল রয়েছে।
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে এবং এর বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, এটি সংসদ কীভাবে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে সে বিষয়ে শিরিন শারমিনের বক্তব্যের অংশ। ২০২০ সালের আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত ‘Fifth World Conference of Speakers of Parliament’ এবং ’13th Summit of Women Speakers of Parliament’ এর অংশ হিসেবে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে বলেও জানা যায়।
পাশাপাশি, একই দিনে অর্থাৎ ২০২০ সালের ১৯ আগস্টে ‘Inter-Parliamentary Union’ এর ফেসবুক পেজেও আলোচিত ভিডিওটি প্রচার হতে দেখা যায়। উক্ত ভিডিও এবং ক্যাপশন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।
এছাড়া, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণেও ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গত ৭ এপ্রিল গ্রেফতার হন সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। মামলার এজাহার অনুযায়ী, আন্দোলন চলাকালীন সংঘর্ষে হত্যাচেষ্টাসহ গুরুতর অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে তাকে আসামি করা হয়েছিল। তবে শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেখান যে, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ড. শিরীন শারমিনের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। পরবর্তীতে, গত ১২ এপ্রিল তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান।
সুতরাং, শিরিন শারমিন গ্রেফতার হওয়া দলীয় কর্মীদের পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন শীর্ষক এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।





















