ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাগরিকদের ৩২ হাজার টন মজুত স্বর্ণ বাজারে ফেরাতে চান মোদি, কারণ কী?

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / 10

ভারতীয়দের স্বর্ণের প্রতি ভালোবাসা নতুন কিছু নয়। বিয়ে, উৎসব, উত্তরাধিকার কিংবা বিনিয়োগ—ভারতীয় পরিবারগুলোতে এ মূল্যবান ধাতুর অবস্থান সবসময়ই অনন্য। কিন্তু প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কেনার পাশাপাশি, দেশটির ঘরে ঘরে এবং লকারে বিশাল এক অব্যবহৃত স্বর্ণের মজুত জমে রয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন নতুন আমদানিকৃত স্বর্ণের ওপর নির্ভর না করে ঘরে পড়ে থাকা ‘অব্যবহৃত’ স্বর্ণ রিসাইকেল বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ করেন। মূল ভাবনাটি খুবই সহজ: বিদেশ থেকে নতুন করে কেনার আগে দেশের ভেতরের সম্পদকেই কাজে লাগানো।

বাজার সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন পরিবার এবং মন্দির ট্রাস্টগুলোর কাছে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৩২ হাজার টন স্বর্ণ মজুত রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। কোনো কোনো সংস্থার মতে এই পরিমাণ ৩৫ হাজার টনও হতে পারে। এ বিপুল সম্পদের সিংহভাগই পড়ে রয়েছে লকার, আলমারি কিংবা সিন্দুকে। এই মজুদের সামান্য অংশও যদি মূল অর্থনীতিতে ফিরে আসে, তবে দেশের অর্থনীতিতে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

স্বর্ণের রিসাইক্লিং আসলে কী?

স্বর্ণের রিসাইক্লিং বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ হলো পুরোনো অলংকার, ভাঙা গহনা, কয়েন, স্বর্ণের বার এবং এমনকি ইলেকট্রনিক্স পণ্য থেকে স্ক্র্যাপ স্বর্ণ সংগ্রহ করে রিফাইনারির (পরিশোধনাগার) মাধ্যমে আবার খাঁটি স্বর্ণয় রূপান্তর করা।

প্রথমে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করা হয়। এরপর তা গলিয়ে এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিশোধন করে প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ পর্যন্ত খাঁটি স্বর্ণে রূপান্তর করা হয়। পরে এই স্বর্ণ দিয়ে আবার নতুন গহনা, কয়েন বা বার তৈরি করে বাজারে ছাড়া হয়।

মুথুট এক্সিমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কেয়ুর শাহ বলেন, পুরোনো স্বর্ণকে ২৪ ক্যারেটের খাঁটি স্বর্ণয় রূপান্তর করে পুনরায় সরবরাহ চেইনে ফিরিয়ে আনাই হলো স্বর্ণের রিসাইক্লিং।

অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি এর একটি বড় পরিবেশগত দিকও রয়েছে। খনি থেকে নতুন স্বর্ণ উত্তোলন অত্যন্ত জ্বালানি-নিবিড় এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। রিসাইক্লিংয়ের ফলে নতুন খনির প্রয়োজনীয়তা কমে, যা পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

কেন এই রিসাইক্লিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার?

এর মূল কারণ লুকিয়ে আছে ভারতের আমদানি ব্যয়ের খতিয়ানে। কেবল ২০২২৫-২৬ অর্থবছরেই দেশের ভেতরের চাহিদা মেটাতে ভারতকে প্রায় ৭ হাজার ২৪০ কোটি (৭২.৪ বিলিয়ন) ডলারের স্বর্ণ আমদানি করতে হয়েছে।

চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে মেটানোর কারণে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যায়। এতে দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট বা চলতি হিসাবের ঘাটতির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়।

সোয়স্তিকা ইনভেস্টমার্টের গবেষণা প্রধান সন্তোষ মীনা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বর্ণ রিসাইকেল করা গেলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমবে, চলতি হিসাবের ঘাটতি কমবে এবং সরকারের ‘স্বনির্ভর ভারত’ নীতি গতি পাবে।

সহজ কথায়, প্রতি গ্রাম পুনঃপ্রক্রিয়াজাত স্বর্ণ মানে এক গ্রাম স্বর্ণ কম আমদানি করা। চয়েস ব্রোকিংয়ের কমোডিটি অ্যানালিস্ট কাভেরি মোরে বলেন, গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো এই অলস সম্পদকে সচল করা। এর মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের ভেতরের মজুত দিয়েই একটি শক্তিশালী সরবরাহ চেইন তৈরি করা সম্ভব।

সামান্য পরিবর্তন, বিশাল প্রভাব

এই উদ্যোগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, আমদানির চিত্র বদলে দিতে অভ্যাসের খুব বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মোট পারিবারিক ও মন্দিরের মজুদের মাত্র ১ শতাংশ স্বর্ণও যদি প্রতি বছর রিসাইকেল করা যায়, তবে স্বর্ণ আমদানি প্রায় ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।

আমদানি কমে এলে তা কেবল স্বর্ণশিল্পেই প্রভাব ফেলবে না, বরং দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং অভ্যন্তরীণ রিফাইনিং ও গহনা উৎপাদন শিল্পকে চাঙ্গা করবে।

কেন এত স্বর্ণ অলস পড়ে থাকে?

এর পেছনে রয়েছে সাংস্কৃতিক ও আর্থিক মনস্তত্ত্ব। যুগ যুগ ধরে ভারতীয়রা স্বর্ণকে বিপদের বন্ধু, মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে ঢাল এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় হিসেবে দেখে আসছে। বিয়ে বা উপহারের মাধ্যমে পাওয়া গহনাগুলো আবেগের কারণে বছরের পর বছর হাতবদল হয় না। অনেক পরিবারে পুরোনো আমলের বা ভাঙা গহনা থাকে, যা আর পরা হয় না; কিন্তু লকারেই পড়ে থাকে।

রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকেরা এ পুরোনো বা ভাঙা গহনাগুলো ব্যাংকে বা জুয়েলারি দোকানে জমা দিয়ে নগদ টাকা, নতুন ডিজাইনের গহনা কিংবা রিফাইন করা স্বর্ণ নিতে পারেন। এতে স্বর্ণের মালিকানাও বজায় থাকে, আবার তা অর্থনীতিতেও অবদান রাখে।

ভারতীয়রা কি রিসাইক্লিংয়ে ঝুঁকছে?

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। আগে সাধারণত বিয়ে, বাড়ি কেনা বা উচ্চশিক্ষার মতো বড় প্রয়োজনে মানুষ স্বর্ণ বিক্রি বা বিনিময় করত। তবে এখনকার পরিবর্তনটি হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে।

সন্তোষ মীনার মতে, বর্তমানে স্বর্ণের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি, জুয়েলার্সদের স্বচ্ছ এক্সচেঞ্জ পলিসি এবং বাড়তি সচেতনতার কারণে মানুষ এখন রিসাইক্লিংয়ের দিকে ঝুঁকছে। অনেক নামী প্রতিষ্ঠান এখন নামমাত্র বা শূন্য শতাংশ কর্তনে (জিরো ডিডাকশন) পুরোনো স্বর্ণ বদলে নতুন গহনা নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। লকারে অলস ফেলে রাখার চেয়ে চড়া বাজারে পুরোনো স্বর্ণের সঠিক মূল্য বুঝে নিতে অনেকেই এখন আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

নতুন প্রজন্মের অনলাইন টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নাগরিকদের ৩২ হাজার টন মজুত স্বর্ণ বাজারে ফেরাতে চান মোদি, কারণ কী?

আপডেট সময় : ১১:৫৪:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

ভারতীয়দের স্বর্ণের প্রতি ভালোবাসা নতুন কিছু নয়। বিয়ে, উৎসব, উত্তরাধিকার কিংবা বিনিয়োগ—ভারতীয় পরিবারগুলোতে এ মূল্যবান ধাতুর অবস্থান সবসময়ই অনন্য। কিন্তু প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কেনার পাশাপাশি, দেশটির ঘরে ঘরে এবং লকারে বিশাল এক অব্যবহৃত স্বর্ণের মজুত জমে রয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন নতুন আমদানিকৃত স্বর্ণের ওপর নির্ভর না করে ঘরে পড়ে থাকা ‘অব্যবহৃত’ স্বর্ণ রিসাইকেল বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ করেন। মূল ভাবনাটি খুবই সহজ: বিদেশ থেকে নতুন করে কেনার আগে দেশের ভেতরের সম্পদকেই কাজে লাগানো।

বাজার সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন পরিবার এবং মন্দির ট্রাস্টগুলোর কাছে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৩২ হাজার টন স্বর্ণ মজুত রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। কোনো কোনো সংস্থার মতে এই পরিমাণ ৩৫ হাজার টনও হতে পারে। এ বিপুল সম্পদের সিংহভাগই পড়ে রয়েছে লকার, আলমারি কিংবা সিন্দুকে। এই মজুদের সামান্য অংশও যদি মূল অর্থনীতিতে ফিরে আসে, তবে দেশের অর্থনীতিতে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

স্বর্ণের রিসাইক্লিং আসলে কী?

স্বর্ণের রিসাইক্লিং বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ হলো পুরোনো অলংকার, ভাঙা গহনা, কয়েন, স্বর্ণের বার এবং এমনকি ইলেকট্রনিক্স পণ্য থেকে স্ক্র্যাপ স্বর্ণ সংগ্রহ করে রিফাইনারির (পরিশোধনাগার) মাধ্যমে আবার খাঁটি স্বর্ণয় রূপান্তর করা।

প্রথমে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করা হয়। এরপর তা গলিয়ে এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিশোধন করে প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ পর্যন্ত খাঁটি স্বর্ণে রূপান্তর করা হয়। পরে এই স্বর্ণ দিয়ে আবার নতুন গহনা, কয়েন বা বার তৈরি করে বাজারে ছাড়া হয়।

মুথুট এক্সিমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কেয়ুর শাহ বলেন, পুরোনো স্বর্ণকে ২৪ ক্যারেটের খাঁটি স্বর্ণয় রূপান্তর করে পুনরায় সরবরাহ চেইনে ফিরিয়ে আনাই হলো স্বর্ণের রিসাইক্লিং।

অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি এর একটি বড় পরিবেশগত দিকও রয়েছে। খনি থেকে নতুন স্বর্ণ উত্তোলন অত্যন্ত জ্বালানি-নিবিড় এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। রিসাইক্লিংয়ের ফলে নতুন খনির প্রয়োজনীয়তা কমে, যা পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

কেন এই রিসাইক্লিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার?

এর মূল কারণ লুকিয়ে আছে ভারতের আমদানি ব্যয়ের খতিয়ানে। কেবল ২০২২৫-২৬ অর্থবছরেই দেশের ভেতরের চাহিদা মেটাতে ভারতকে প্রায় ৭ হাজার ২৪০ কোটি (৭২.৪ বিলিয়ন) ডলারের স্বর্ণ আমদানি করতে হয়েছে।

চাহিদার বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে মেটানোর কারণে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যায়। এতে দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট বা চলতি হিসাবের ঘাটতির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়।

সোয়স্তিকা ইনভেস্টমার্টের গবেষণা প্রধান সন্তোষ মীনা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বর্ণ রিসাইকেল করা গেলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমবে, চলতি হিসাবের ঘাটতি কমবে এবং সরকারের ‘স্বনির্ভর ভারত’ নীতি গতি পাবে।

সহজ কথায়, প্রতি গ্রাম পুনঃপ্রক্রিয়াজাত স্বর্ণ মানে এক গ্রাম স্বর্ণ কম আমদানি করা। চয়েস ব্রোকিংয়ের কমোডিটি অ্যানালিস্ট কাভেরি মোরে বলেন, গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো এই অলস সম্পদকে সচল করা। এর মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের ভেতরের মজুত দিয়েই একটি শক্তিশালী সরবরাহ চেইন তৈরি করা সম্ভব।

সামান্য পরিবর্তন, বিশাল প্রভাব

এই উদ্যোগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, আমদানির চিত্র বদলে দিতে অভ্যাসের খুব বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মোট পারিবারিক ও মন্দিরের মজুদের মাত্র ১ শতাংশ স্বর্ণও যদি প্রতি বছর রিসাইকেল করা যায়, তবে স্বর্ণ আমদানি প্রায় ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।

আমদানি কমে এলে তা কেবল স্বর্ণশিল্পেই প্রভাব ফেলবে না, বরং দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে এবং অভ্যন্তরীণ রিফাইনিং ও গহনা উৎপাদন শিল্পকে চাঙ্গা করবে।

কেন এত স্বর্ণ অলস পড়ে থাকে?

এর পেছনে রয়েছে সাংস্কৃতিক ও আর্থিক মনস্তত্ত্ব। যুগ যুগ ধরে ভারতীয়রা স্বর্ণকে বিপদের বন্ধু, মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে ঢাল এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় হিসেবে দেখে আসছে। বিয়ে বা উপহারের মাধ্যমে পাওয়া গহনাগুলো আবেগের কারণে বছরের পর বছর হাতবদল হয় না। অনেক পরিবারে পুরোনো আমলের বা ভাঙা গহনা থাকে, যা আর পরা হয় না; কিন্তু লকারেই পড়ে থাকে।

রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকেরা এ পুরোনো বা ভাঙা গহনাগুলো ব্যাংকে বা জুয়েলারি দোকানে জমা দিয়ে নগদ টাকা, নতুন ডিজাইনের গহনা কিংবা রিফাইন করা স্বর্ণ নিতে পারেন। এতে স্বর্ণের মালিকানাও বজায় থাকে, আবার তা অর্থনীতিতেও অবদান রাখে।

ভারতীয়রা কি রিসাইক্লিংয়ে ঝুঁকছে?

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। আগে সাধারণত বিয়ে, বাড়ি কেনা বা উচ্চশিক্ষার মতো বড় প্রয়োজনে মানুষ স্বর্ণ বিক্রি বা বিনিময় করত। তবে এখনকার পরিবর্তনটি হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে।

সন্তোষ মীনার মতে, বর্তমানে স্বর্ণের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি, জুয়েলার্সদের স্বচ্ছ এক্সচেঞ্জ পলিসি এবং বাড়তি সচেতনতার কারণে মানুষ এখন রিসাইক্লিংয়ের দিকে ঝুঁকছে। অনেক নামী প্রতিষ্ঠান এখন নামমাত্র বা শূন্য শতাংশ কর্তনে (জিরো ডিডাকশন) পুরোনো স্বর্ণ বদলে নতুন গহনা নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। লকারে অলস ফেলে রাখার চেয়ে চড়া বাজারে পুরোনো স্বর্ণের সঠিক মূল্য বুঝে নিতে অনেকেই এখন আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সূত্র: এনডিটিভি