দুই প্লেট চিকেন বিরিয়ানি খাওয়ার পর খাবারে স্বাদ নেই ও অতিরিক্ত লবণ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ভারতের দিল্লিতে এক হোটেলকর্মীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১৪ ও ১৫ বছর বয়সি দুই কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব দিল্লির ওয়েলকাম এলাকার কাবুতর মার্কেটের একটি হোটেলে গত ২১ আগস্ট এ ঘটনা ঘটে। দুই কিশোর সেখানে দুই প্লেট চিকেন বিরিয়ানি খাওয়ার পর খাবারের স্বাদ নিয়ে আপত্তি জানায়। পরে বিল পরিশোধ করা নিয়ে হোটেলকর্মীর সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ওই দুই কিশোর প্রথমে দুই প্লেট চিকেন বিরিয়ানি অর্ডার করে এবং পুরো খাবার শেষ করে। এরপর হোটেলকর্মী এহসান তাদের খাবারের বিল পরিশোধ করতে বললে তারা বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ ছিল, বিরিয়ানিতে কোনো স্বাদ নেই এবং এতে অতিরিক্ত লবণ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এহসান প্রথমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার এবং দুই কিশোরকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা তর্ক চালিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের একজন সবজি কাটার ছুরি বের করে এহসানকে ছুরিকাঘাত করে। এরপর দুজনই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর এহসানের এক প্রতিবেশী তাকে জেপিসি হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত ৯টা ৭ মিনিটের দিকে হাসপাতাল থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। পরে এহসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আরএমএল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফরেনসিক দলের সদস্যরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। এ ঘটনায় ওয়েলকাম থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এবং ৩(৫) ধারায়, অর্থাৎ অভিন্ন অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। বিভিন্ন সূত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়।
এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ কন্ট্রোল রুমের (পিসিআর) কল পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। পরে দুই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে আটক করা হয়। যাচাইয়ের পর দেখা যায়, তাদের বয়স ১৪ ও ১৫ বছর। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্তদের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত বলে ধারণা করা সবজি কাটার ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্য করুন