Publisher
২০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:০১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

অর্থনীতি স্থিতিশীল হতে দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে অন্তত দুই বছর এবং এটি পূর্ণাঙ্গ মাত্রায় সচল হতে পাঁচ বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই অন্তর্বর্তী সময়ে বাড়তি পরিচালন ব্যয় ও জ্বালানি সংকটের চাপ সামলানোর জন্য তিনি শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজধানীর একটি হোটেলে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। অর্থমন্ত্রী জানান, জ্বালানি খাতসহ পুরো অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সরকার কাজ করছে। তৃতীয় বছরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে গিয়ে অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াবে। চটজলদি সংকট সমাধানের আশ্বাস দেওয়া বাস্তবতা বিবর্জিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে গিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত প্রায় ৭০০ কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এই ব্যয়ের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এখনো অনিশ্চিত। আন্তর্জাতিক এই সংকট অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদক ও শিল্পমালিকদের বাড়তি ব্যয়ের মুখে ফেলেছে।

সংকট উত্তরণে সরকার ৩ থেকে ৪টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব টার্মিনালে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণে কমপক্ষে ১৮ মাস সময়ের প্রয়োজন হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়ার বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে উপকূলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের আলোচনা চলছে। পরিবহন খরচ কমাতে এবং বড় আকারের জ্বালানিবাহী জাহাজ ভেড়ানোর সুবিধার জন্য মাতারবাড়ী ও খুলনার গভীর সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলকে সমন্বিত জ্বালানি হাব হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে বাপেক্সের মাধ্যমে ১৫০টি নতুন কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সাথে জরুরি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ১০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসাবাড়ির ছাদে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ মূল গ্রিডে বিক্রির সুবিধা এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রম আলাদা করার সংস্কার চলছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা ও বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অব্যাহত সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে। আগামী জুনের মধ্যে একটি সমন্বিত জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে এবং পরবর্তী আড়াই বছরের মধ্যে প্রধান অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হবে।

অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ধর্ম নয়, সবার বড় পরিচয় বাংলাদেশি : তারেক রহমান

১

অর্থনীতি স্থিতিশীল হতে দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী

২

চলতি মাসেই বাড়তি বেতন পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

৩

আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু

৪

ইরান যুদ্ধে ‘গুরুতর ব্যর্থতা’ স্বীকার জেডি ভ্যান্সের

৫

ক্যালিফোর্নিয়ায় বিধ্বংসী দাবানল, পুড়ল শত শত একর জমি

৬

প্রশাসনে বড় রদবদল: সাত সচিবের দপ্তর বদল

৭

পুলিশ প্রশাসনে রদবদল: ১১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি

৮

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বন্দরে ‘বাংলাদেশ সনাতন সংঘ’র গীতা দান

৯

বাপার সিদ্ধিরগঞ্জ আঞ্চলিক সমন্বয় কমিটি গঠন

১০

ইউরিয়া সার কারখানা স্কুল এন্ড কলেজের পুনর্মিলনী-২০২৬: অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু

১১

বিরোধীরা না থাকলেও বাস্তবায়িত হবে ‘জুলাই সনদ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১২

বিএনপির মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ : হাসনাত আবদুল্লাহ

১৩

এখন কেমন আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যা জানালেন সফরসঙ্গী

১৪

ইতালিতে কর্মী নিতে ঢাকায় বিশেষ আয়োজন, কবে— সরকারকে জানালেন রাষ্ট্রদূত

১৫

ইসরাইলের সহায়তার প্রস্তাবে যা জানালেন সৌদি যুবরাজ

১৬

বিরোধী দলের নেতাদের চায়ের আমন্ত্রণ রাহুল গান্ধীর

১৭

বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চায় বাংলাদেশ

১৮

ইউনূসকে হেনস্তার সম্পূর্ণ দায় শেখ হাসিনার : জামায়াত আমির

১৯

নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষা, পরে মিলল মৃত্যুর খবর—কাশ্মীরে হাহাকার

২০