কেরানীগঞ্জে ৫শত ভাড়াটিয়া পরিবারের অসহায় মানবেতর জীবনযাপন

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি : করোনাভাইরাসে পরিস্থিতিতে কর্মহীন মানুষের মাঝে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। পাওয়া না পাওয়ার অভিযোগের ভীরে মানবেতর জীবন যাপন করছে কয়েকশত পরিবার। রাজধানী কেরানীগঞ্জ উপজেলার রোহিতপুর ইউনিযনের নতুন সোনাকান্দায় অবস্থিত ঢাকা বিসিক শিল্পনগরী এলাকার প্রায় ৫শত ভাড়াটিয়া পরিবার অসহায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। গ্রামের কিছু জায়গায় ত্রাণ সহায়তা দিতে দেখা গেলেও বাদ পড়েছে উত্তরবঙ্গ থেকে আসা এই পরিবার গুলো। অসহায় এই লোক গুলো চেয়ে আছে সরকার সহ স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং অর্থশালী মানুষের দিকে। এলাকার ছোট বড় প্রায় অর্ধশতাধিক কলোনিতে ৪/৫শ এর অধিক পরিবারের বসবাস। যারা স্থানীয় বিসিক শিল্পনগরী, বিভিন্ন ফ্যাক্টরি, গার্মেন্টস ও রিক্সা, ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে সব। কল কারখানা বন্ধ, লোকজন ঘরের বাহিরে না যাওয়ায় রিকসার চাকাও ঘুরছেনা। সাথে বন্ধ সকল প্রকার রোজি রোজগারয়াও। একদিকে খাবার সমস্যা অন্যদিকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় জীবন যাপন করছে অসহায় দিন মজুর এই মানুষ গুলো।

স্থানীয় মেম্বার মোঃ শাহাবুদ্দিন জানান, আমাদের এলাকা টি শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে প্রচুর অস্থায়ী লোকের বসবাস। যাদের সবাই গরীব অসহায়। যেখানে তাদের ২ বেলা খাবার জুটেন সেখানে আবার রুম ভাড়ার চিন্তাও আছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোন ত্রাণ আসেনি। ব্যক্তি উদ্যোগে কিছু স্থানীয় মানুষকে দেওয়া হলেও ভাড়াটিয়ারা কিছুই পায়নি। আমি সরকার ও বিত্তশালীদের বলবো দয়া করে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসুন।

উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলো বেগম বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের কাছ থেকে আমরা ২০০ প্যাকেট ত্রাণ পেয়েছি যা স্থানীয় গরীব অসহায়দের মাঝে দেওয়া হয়েছে।আর আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে কিছু ত্রাণ ভাড়াটিয়াদেরও দেওয়া হয়েছে তবে তা অপ্রতুল। তবে এলাকার হতদরিদ্র পরিবার বেশি হওয়ায় চাহিদার তুলনায় স্বল্প ত্রাণ সহায়তা সবাইকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই জরুরী ভিত্তিতে আরো ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধির জন্য প্রসাশনের মাধ্যমে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বল্রন, ইতোমধ্যেই আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে অস্থায়ী ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করা শুরু করেছি। তথ্য পাওয়া মাত্র তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে।একটি মানুষও অনাহারে থাকবেনা ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Title