ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সহিংস ঘটনায় যা জানালো আইএসপিআর মব সংস্কৃতির নতুন প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছে : ড. কামাল হোসেন আহত নুরুল হক নুর ঢাকা মেডিকেলে রোহিঙ্গা ইস্যু আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে দেখা দেবে ‘মঞ্চ ৭১’ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে ১ সপ্তাহের আল্টিমেটাম ইউক্রেনের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিলো রাশিয়া দুবাইয়ের আদলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বানাবে পাকিস্তান শুধু প্রচার নয়, ধর্মীয় নেতাদের ‘উঠে দাঁড়াতে’ বলল মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পথে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি দ্বিগুণ শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ভারত: সম্পর্কের টানাপোড়নে ওয়াশিংটন-দিল্লি

সাংবাদিকের পালসার মোটরসাইকেল চুরি

থানার সামনে থেকে, সাংবাদিকের পালসার মোটরসাইকেল চুরি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫ ১৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জেলা প্রতিনিধিঃ থানার সামনে থেকে, সাংবাদিকের পালসার মোটরসাইকেল চুরি সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার আহলাদিপুর হাইওয়ে থানার সামনে থেকে, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার রাজবাড়ী জেলা সংবাদদাতা মোঃ নজরুল ইসলাম পালসার ব্র্যান্ডের একটি মোটরসাইকেল (নম্বর: চুয়াডাঙ্গা‑ল‑১১‑০২৪৮) চুরি হয়ে যায়, তিনি মোটরসাইকেলটি পার্ক করে সংবাদ সংগ্রহে যায়, মাত্র ১০ মিনিট পর ফিরে এসে সাইকেলটি আর দেখতে পাননি। ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবিলম্বে মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন।

রাজবাড়ী জেলা সংবাদদাতা মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন:
“আমি প্রতিদিনের মতোই সংবাদ সংগ্রহে বের হয়েছিলাম। আহলাদিপুর হাইওয়ে থানার সামনে কয়েক মিনিটের জন্য মোটরসাইকেল রেখে পাশেই যাই। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ফিরে এসে দেখি বাইকটা নেই। প্রথমে ভেবেছিলাম কেউ হয়তো সরিয়ে রেখেছে। পরে বুঝলাম—চুরি হয়েছে।

আমি তৎক্ষণাৎ বিষয়টি থানায় মৌখিকভাবে জানাই। একজন সাংবাদিক হিসেবে পুলিশের চোখের সামনেই এমন ঘটনা ঘটবে, এটা কল্পনাও করিনি। এখন শুধু বাইক নয়, নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

স্থানীয় একটি চায়ের দোকানের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন:
“আমি বাইকের দিকে খেয়াল করছিলাম না। তবে হঠাৎ দেখি সামনে রাখা বাইকটা আর নেই। কিছুক্ষণ আগে এক যুবককে ওখানে ঘোরাফেরা করতে দেখেছিলাম। চেহারা মনে নেই, কিন্তু আচরণটা সন্দেহজনক লেগেছিল। আমরা ভাবিনি, থানার সামনে কেউ সাহস করে বাইক চুরি করতে পারে!”

তিনি আরও বলেন:
“এখানে সিসিটিভি থাকলেও ঠিকভাবে কাজ করে না। মাঝে মাঝে লোডশেডিংয়ের কারণে বন্ধ থাকে। পুলিশেরও নজর কম থাকে বাইরের দিকে।”

রাজবাড়ীতে মোটরসাইকেল চুরির প্রবণতা এমন ঘটনা নতুন নয়। গত বছরের (২৩ মে, ২০২৫) একটি ঘটনার রিপোর্ট অনুযায়ী, আদালত প্রাঙ্গণে তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা মোটরসাইকেল চুরি হয়; পুলিশ তদন্তে তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এবং চুরি করা সাইকেল ফরিদপুর থেকে উদ্ধার করে।

থানার সামনে থেকে
আরো এক ঘটনায়, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযান শেষে চোরাই মোটরসাইকেল ও সরঞ্জামসহ দুই চোরকে গ্রেফতার করে।

চোরের প্রযুক্তিগত কৌশল কেবল চুরির কারণে নয়, চোররা দ্রুত গতিতে ওই চালনায় চুরি অনুসরণ করে — নারায়ণগঞ্জে র‌্যাব-৩ কার্যক্রমে প্রকাশ করেছে, একটি সাইকেল মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই চুরি করা হয়েছে, এবং ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর পরিবর্তন করে তা বিক্রি করা হয়। মানে, সময়ের সঙ্গে বদলেছে চোরদের দক্ষতা ও সরঞ্জাম।

সামগ্রিক বিশ্লেষণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি: পুলিশ থানার সামনে থেকেও সাইকেল চুরি সম্ভব এই বাস্তবতা পুলিশি নিরাপত্তা জবাবদিহি প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সাংবাদিকদের ঝুঁকি: সংবাদ সংগ্রহের সময় বা ওয়াজাতের কাজে যেখানে সময়মতো সাইডে রেখে ফিরে যাচ্ছেন সাংবাদিক—তাতে ঝুঁকি বেড়েছে অনেক গুণ।

তথ্য প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা: যদিও কিছু ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ কাজে লাগলেও, সর্বত্র এটা সমানভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না বা যথেষ্ট কার্যকর নয়।
দ্রুততম তদন্ত ও তথ্য প্রকাশ: পুলিশ তদন্ত শুরু করুক, সময়সীমা নির্ধারণ করা হোক।

নিরাপত্তা জোরদার: থানা চত্বর, হাইওয়ে থানাগুলোর আশপাশে নিরাপত্তার দৃশ্যমান উন্নয়ন জরুরি।

সাংবাদিক নিরাপত্তা আইন: সাংবাদিকদের নিরাপত্তা আইনগতভাবে নিশ্চিত করার জম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।

প্রতিবাদ কিংবা প্রতিরোধ কথা সাংবাদিক নিরাপত্তা শুধু একটি লেখকের ব্যক্তিগত বিষয় নয় — এটি সামগ্রিক গণমাধ্যমের স্থিতিশীলতা ও সাংবাদিকতা স্বাধীনতার প্রতীক। এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে যৌথ উদ্যোগ দরকার — প্রশাসন, মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের।

রাজবাড়ীতে হাইওয়ে থানার সামনে থেকে সাংবাদিক মোঃ নজরুল ইসলামের মোটরসাইকেল চুরি হওয়ার ঘটনা স্থানীয় ও মিডিয়া নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি সতর্কবাণী। এগুলি শুধু একটিবার ঘটনা নয়—প্রবণতা যা প্রতিনিয়ত বিকাশমান। দ্রুত তদন্ত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন, এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি।

নতুন প্রজন্মের অনলাইন টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

সাংবাদিকের পালসার মোটরসাইকেল চুরি

থানার সামনে থেকে, সাংবাদিকের পালসার মোটরসাইকেল চুরি

আপডেট সময় : ১১:৪৬:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

জেলা প্রতিনিধিঃ থানার সামনে থেকে, সাংবাদিকের পালসার মোটরসাইকেল চুরি সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার আহলাদিপুর হাইওয়ে থানার সামনে থেকে, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার রাজবাড়ী জেলা সংবাদদাতা মোঃ নজরুল ইসলাম পালসার ব্র্যান্ডের একটি মোটরসাইকেল (নম্বর: চুয়াডাঙ্গা‑ল‑১১‑০২৪৮) চুরি হয়ে যায়, তিনি মোটরসাইকেলটি পার্ক করে সংবাদ সংগ্রহে যায়, মাত্র ১০ মিনিট পর ফিরে এসে সাইকেলটি আর দেখতে পাননি। ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবিলম্বে মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন।

রাজবাড়ী জেলা সংবাদদাতা মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন:
“আমি প্রতিদিনের মতোই সংবাদ সংগ্রহে বের হয়েছিলাম। আহলাদিপুর হাইওয়ে থানার সামনে কয়েক মিনিটের জন্য মোটরসাইকেল রেখে পাশেই যাই। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ফিরে এসে দেখি বাইকটা নেই। প্রথমে ভেবেছিলাম কেউ হয়তো সরিয়ে রেখেছে। পরে বুঝলাম—চুরি হয়েছে।

আমি তৎক্ষণাৎ বিষয়টি থানায় মৌখিকভাবে জানাই। একজন সাংবাদিক হিসেবে পুলিশের চোখের সামনেই এমন ঘটনা ঘটবে, এটা কল্পনাও করিনি। এখন শুধু বাইক নয়, নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

স্থানীয় একটি চায়ের দোকানের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন:
“আমি বাইকের দিকে খেয়াল করছিলাম না। তবে হঠাৎ দেখি সামনে রাখা বাইকটা আর নেই। কিছুক্ষণ আগে এক যুবককে ওখানে ঘোরাফেরা করতে দেখেছিলাম। চেহারা মনে নেই, কিন্তু আচরণটা সন্দেহজনক লেগেছিল। আমরা ভাবিনি, থানার সামনে কেউ সাহস করে বাইক চুরি করতে পারে!”

তিনি আরও বলেন:
“এখানে সিসিটিভি থাকলেও ঠিকভাবে কাজ করে না। মাঝে মাঝে লোডশেডিংয়ের কারণে বন্ধ থাকে। পুলিশেরও নজর কম থাকে বাইরের দিকে।”

রাজবাড়ীতে মোটরসাইকেল চুরির প্রবণতা এমন ঘটনা নতুন নয়। গত বছরের (২৩ মে, ২০২৫) একটি ঘটনার রিপোর্ট অনুযায়ী, আদালত প্রাঙ্গণে তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা মোটরসাইকেল চুরি হয়; পুলিশ তদন্তে তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এবং চুরি করা সাইকেল ফরিদপুর থেকে উদ্ধার করে।

থানার সামনে থেকে
আরো এক ঘটনায়, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযান শেষে চোরাই মোটরসাইকেল ও সরঞ্জামসহ দুই চোরকে গ্রেফতার করে।

চোরের প্রযুক্তিগত কৌশল কেবল চুরির কারণে নয়, চোররা দ্রুত গতিতে ওই চালনায় চুরি অনুসরণ করে — নারায়ণগঞ্জে র‌্যাব-৩ কার্যক্রমে প্রকাশ করেছে, একটি সাইকেল মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই চুরি করা হয়েছে, এবং ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর পরিবর্তন করে তা বিক্রি করা হয়। মানে, সময়ের সঙ্গে বদলেছে চোরদের দক্ষতা ও সরঞ্জাম।

সামগ্রিক বিশ্লেষণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি: পুলিশ থানার সামনে থেকেও সাইকেল চুরি সম্ভব এই বাস্তবতা পুলিশি নিরাপত্তা জবাবদিহি প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সাংবাদিকদের ঝুঁকি: সংবাদ সংগ্রহের সময় বা ওয়াজাতের কাজে যেখানে সময়মতো সাইডে রেখে ফিরে যাচ্ছেন সাংবাদিক—তাতে ঝুঁকি বেড়েছে অনেক গুণ।

তথ্য প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা: যদিও কিছু ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ কাজে লাগলেও, সর্বত্র এটা সমানভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না বা যথেষ্ট কার্যকর নয়।
দ্রুততম তদন্ত ও তথ্য প্রকাশ: পুলিশ তদন্ত শুরু করুক, সময়সীমা নির্ধারণ করা হোক।

নিরাপত্তা জোরদার: থানা চত্বর, হাইওয়ে থানাগুলোর আশপাশে নিরাপত্তার দৃশ্যমান উন্নয়ন জরুরি।

সাংবাদিক নিরাপত্তা আইন: সাংবাদিকদের নিরাপত্তা আইনগতভাবে নিশ্চিত করার জম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।

প্রতিবাদ কিংবা প্রতিরোধ কথা সাংবাদিক নিরাপত্তা শুধু একটি লেখকের ব্যক্তিগত বিষয় নয় — এটি সামগ্রিক গণমাধ্যমের স্থিতিশীলতা ও সাংবাদিকতা স্বাধীনতার প্রতীক। এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে যৌথ উদ্যোগ দরকার — প্রশাসন, মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের।

রাজবাড়ীতে হাইওয়ে থানার সামনে থেকে সাংবাদিক মোঃ নজরুল ইসলামের মোটরসাইকেল চুরি হওয়ার ঘটনা স্থানীয় ও মিডিয়া নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি সতর্কবাণী। এগুলি শুধু একটিবার ঘটনা নয়—প্রবণতা যা প্রতিনিয়ত বিকাশমান। দ্রুত তদন্ত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন, এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি।