ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নববর্ষ উদযাপন ঘিরে যেসব নির্দেশনা সরকারের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 15

বাঙালি জীবনের অসাম্প্রদায়িক, সর্বজনীন একটি উৎসব হলো পহেলা বৈশাখ। ব্যস্ত নগর কিংবা গ্রামীণ জীবন যেটাই বলা হোক না কেন, এ নববর্ষই বাঙালি জাতিকে একত্র করে জাতীয়তাবোধে। 

এ অনুষ্ঠান পরিণত হয় প্রত্যেকটি বাঙালির কাছে শিকড়ের মিলনমেলায়। ধর্ম, বর্ণ সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বাঙালি জাতি এ নববর্ষকে সাদরে আমন্ত্রণ জানায়। আসছে বাঙালির প্রাণের উৎসবের দিন পহেলা বৈশাখ। বছরের প্রথম দিনটি বাঙালিরই শুধু নয়, বাংলা ভাষাভাষী আদিবাসী ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের জীবন-জগতে স্বপ্নময় নতুন বছরের শুভ সূচনা ঘটায়।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নববর্ষের সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল, রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশব্যাপী আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’কে কেন্দ্র করে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে অংশ নিতে পারবেন না, তবে হাতে বহন করতে পারবেন। প্রদর্শনীর মুখোশ এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না, যাতে মুখ ঢেকে যায়। শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পর মাঝপথে কেউ যোগ দিতে পারবেন না।

নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস ওড়ানো, আতশবাজি ফোটানো, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০০ ফুট এলাকায় মোটরসাইকেল ও গাড়ির রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হবে। বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হবে ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে। ইভ টিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে। বড় অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে। রমনা লেকে দুর্ঘটনা এড়াতে ডুবুরি দল মোতায়েন করা হবে।

পয়লা বৈশাখের দিন (১৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার (টিএসসি) মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। সাধারণ মানুষকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দেশলাই বা লাইটার বহন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিশুদের সঙ্গে তাদের পরিচয়পত্র রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রজন্মের অনলাইন টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নববর্ষ উদযাপন ঘিরে যেসব নির্দেশনা সরকারের

আপডেট সময় : ০৯:৪২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

বাঙালি জীবনের অসাম্প্রদায়িক, সর্বজনীন একটি উৎসব হলো পহেলা বৈশাখ। ব্যস্ত নগর কিংবা গ্রামীণ জীবন যেটাই বলা হোক না কেন, এ নববর্ষই বাঙালি জাতিকে একত্র করে জাতীয়তাবোধে। 

এ অনুষ্ঠান পরিণত হয় প্রত্যেকটি বাঙালির কাছে শিকড়ের মিলনমেলায়। ধর্ম, বর্ণ সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বাঙালি জাতি এ নববর্ষকে সাদরে আমন্ত্রণ জানায়। আসছে বাঙালির প্রাণের উৎসবের দিন পহেলা বৈশাখ। বছরের প্রথম দিনটি বাঙালিরই শুধু নয়, বাংলা ভাষাভাষী আদিবাসী ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের জীবন-জগতে স্বপ্নময় নতুন বছরের শুভ সূচনা ঘটায়।

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নববর্ষের সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল, রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশব্যাপী আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’কে কেন্দ্র করে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে অংশ নিতে পারবেন না, তবে হাতে বহন করতে পারবেন। প্রদর্শনীর মুখোশ এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না, যাতে মুখ ঢেকে যায়। শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পর মাঝপথে কেউ যোগ দিতে পারবেন না।

নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস ওড়ানো, আতশবাজি ফোটানো, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০০ ফুট এলাকায় মোটরসাইকেল ও গাড়ির রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হবে। বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হবে ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে। ইভ টিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে। বড় অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে। রমনা লেকে দুর্ঘটনা এড়াতে ডুবুরি দল মোতায়েন করা হবে।

পয়লা বৈশাখের দিন (১৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার (টিএসসি) মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। সাধারণ মানুষকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দেশলাই বা লাইটার বহন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিশুদের সঙ্গে তাদের পরিচয়পত্র রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।