ঢাকা ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাগরপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২০
  • / 88

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর বাংলার বীর সন্তানরা পাকিস্থানী বাহিনীর কবল থেকে নাগরপুর উপজেলাকে মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। সে দিন জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো উপজেলা। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের জন্য দিবসটি স্বল্প পরিসরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। দেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিবাহিনীর বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক বাহিনী গড়ে উঠে। টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনী ও বাতেন বাহিনী অন্যতম। কাদেরিয়া বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের কাহিনী সে সময় দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। কাদেরিয়া বাহিনী ও বাতেন বাহিনী যুদ্ধের শুরু থেকে টাঙ্গাইলসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় যুদ্ধে অংশ নেয়। সারাদেশের মতো হানাদারদের দ্বারা ক্ষত-বিক্ষত টাঙ্গাইলের সর্বদক্ষিণে ধলেশ্বরী নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন নাগরপুরকে শত্রুমুক্ত করতে কাদেরিয়া বাহিনী ও বাতেন বাহিনী বেশ কয়েকবার আক্রমণ করলেও চূড়ান্ত সফলতা আসে ৯ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে। ১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর উপজেলার কেদারপুরে প্রায় চার হাজার মুক্তিযোদ্ধা নাগরপুর থানা আক্রমণের জন্য সমবেত হয়।এ খবরে পেয়ে হানাদার বাহিনী দুইটি যুদ্ধ বিমান নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর আক্রমণ করে তাদের এ পরিকল্পনা তা নস্যাৎ করে দেয়। পরে পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে নাগরপুর থানা দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। অবশেষে আজকের এই দিনে কাদেরিয়া বাহিনীর কোম্পানী কমান্ডার হুমায়ুন বাঙ্গাল, রবিউল আলম, সাইদুর রহমান, সবুর খান ও বাতেন বাহিনীর কয়েকটি কোম্পানীর যৌথ আক্রমণে পাক হানাদারদের বেশ কয়েকটি ট্যাংক ধ্বংস করে। এ যুদ্ধে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত পাক সেনা নিয়ে হানাদার বাহিনী নাগরপুর ছেড়ে পালিয়ে যায়। নাগরপুর উপজেলা হানাদার মুক্ত হয়। সেদিন নাগরপুরবাসী সকল দুঃখ বেদনা মুহূর্তেই ভূলে গিয়ে সমস্বরে জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তোলে।

নতুন প্রজন্মের অনলাইন টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নাগরপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ

আপডেট সময় : ১২:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২০

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর হানাদার মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর বাংলার বীর সন্তানরা পাকিস্থানী বাহিনীর কবল থেকে নাগরপুর উপজেলাকে মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। সে দিন জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো উপজেলা। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের জন্য দিবসটি স্বল্প পরিসরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। দেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিবাহিনীর বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক বাহিনী গড়ে উঠে। টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনী ও বাতেন বাহিনী অন্যতম। কাদেরিয়া বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের কাহিনী সে সময় দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। কাদেরিয়া বাহিনী ও বাতেন বাহিনী যুদ্ধের শুরু থেকে টাঙ্গাইলসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় যুদ্ধে অংশ নেয়। সারাদেশের মতো হানাদারদের দ্বারা ক্ষত-বিক্ষত টাঙ্গাইলের সর্বদক্ষিণে ধলেশ্বরী নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন নাগরপুরকে শত্রুমুক্ত করতে কাদেরিয়া বাহিনী ও বাতেন বাহিনী বেশ কয়েকবার আক্রমণ করলেও চূড়ান্ত সফলতা আসে ৯ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে। ১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর উপজেলার কেদারপুরে প্রায় চার হাজার মুক্তিযোদ্ধা নাগরপুর থানা আক্রমণের জন্য সমবেত হয়।এ খবরে পেয়ে হানাদার বাহিনী দুইটি যুদ্ধ বিমান নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর আক্রমণ করে তাদের এ পরিকল্পনা তা নস্যাৎ করে দেয়। পরে পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে নাগরপুর থানা দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। অবশেষে আজকের এই দিনে কাদেরিয়া বাহিনীর কোম্পানী কমান্ডার হুমায়ুন বাঙ্গাল, রবিউল আলম, সাইদুর রহমান, সবুর খান ও বাতেন বাহিনীর কয়েকটি কোম্পানীর যৌথ আক্রমণে পাক হানাদারদের বেশ কয়েকটি ট্যাংক ধ্বংস করে। এ যুদ্ধে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত পাক সেনা নিয়ে হানাদার বাহিনী নাগরপুর ছেড়ে পালিয়ে যায়। নাগরপুর উপজেলা হানাদার মুক্ত হয়। সেদিন নাগরপুরবাসী সকল দুঃখ বেদনা মুহূর্তেই ভূলে গিয়ে সমস্বরে জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তোলে।