news desk
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ায় নদী গর্ভে বিলীনের পথে দুই প্রাথমিক বিদ্যালয়

দীপক সরকার, বগুড়া প্রতিনিধি: যমুনা ও বাঙালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন নদী গর্ভে বিলীনের উপক্রম হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার চরগোদাগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাঙালি নদীর ভাঙনে এবং চরদিঘাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই বিদ্যালয় নির্মিত হয়েছিল।

জানা গেছে, বাঙালি ও যমুনা নদী বেষ্টিত সারিয়াকান্দি পুরো উপজেলা। প্রতিবছর দফায় দফায় বন্যা আর নদীর অব্যাহত ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে এলাকার সিংহভাগ মানুষ। পাহাড়ি ঢলে উজান থেকে নেমে আসা সাত দিন ধরে যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি ওঠানামা করছে। এ অবস্থায় নদী ভাঙন প্রবল আকার ধারণ করছে। ভাঙনের কবলে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, অকাঠামোসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
উপজেলার চরগোদাগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ও বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের দ্বিতল ভবনটি ২০০২ সালে নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ২০ লাখ টাকা। প্রায় ৫ বছর ধরে বিদ্যালয় ভবনটি বাঙালি নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। অব্যাহত ভাঙনে চার দিন আগে বিদ্যালয় ভবনটি নিশ্চিহ্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা বিদ্যালয় ভবনটির প্রায় অর্ধেক অংশই বাঙালি নদীর গর্ভে চলে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এ ব্যাপারে চরগোদাগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজার রহমান বলেন, পাঁচ বছর আগে থেকে বিদ্যালয় ভবনটি নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। কিন্ত ভাঙনরোধ কিংবা বিদ্যালয় ভবনটি রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে শেষ রক্ষা হলো না বিদ্যালয় ভবনটি। এতে করে বিদ্যালয়ের অন্তত ২০০ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে চরদিঘাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের দ্বিতল ভবনটিও যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। এ ভবনটিও ২০০৫ সালে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি প্রবল ¯্রােত ও ঘূর্ণাবর্তে বিদ্যালয় ভবনটির কিছু অংশ নদীতে ভেঙে পড়েছে। যেকোনো সময় পুরো বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে চরদিঘাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক হাসানুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে আসছে। বিদ্যালয়ের ভবনটি নদী ভাঙনের কবলে পড়ায় উপজেলা থেকে ৫০ হাজার টাকা নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। করোনার কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি হলে কোথায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাবো তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে সারিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) গোলাম কবির বলেন, নদী গর্ভে বিলীনের পথে দুটি বিদ্যালয়ের ভবন আর রক্ষা করা সম্ভব না। উপজেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে এ দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুই মিনিটের ব্যবধানে দু’বার ভূমিকম্পে কাঁপল কোস্টারিকা

কফি উইথ করণে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সালমান, অতিথির তালিকায় আর কে?

দিল্লিতে বিরিয়ানিতে লবণ বেশি দেওয়ার অভিযোগে হোটেলকর্মীকে ছুরিকাঘাত, গ্রেফতার ২

নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি

দেশে স্বর্ণের দাম আরও বাড়ল

ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে রেকর্ডের সামনে মেসি

নতুন ক্লাবে এবার নায়ক সালাহ

শাহরুখকে নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র বানাতে চান অস্কারজয়ী নির্মাতা কেভিন

শিলিগুড়ির ‘চিকেনস নেক’র সুরক্ষায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক

নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর পুকুরে ভেসে উঠল দুই শিশুর মরদেহ

১০

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অপেক্ষায় বিশ্ববাজার, কমল তেলের দাম

১১

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি সিজেপির

১২

চার সমুদ্রবন্দরে সতর্কসংকেত, বৃষ্টি নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

১৩

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধকেই যুদ্ধ ভাবছে ইরান

১৪

ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে যাওয়া সামিয়া দিলেন দুঃসংবাদ

১৫

আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার আপিলের রায় আজ

১৬

ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, ডলারের দাম ছাড়াল ২০ লাখ রিয়াল

১৭

শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আর্সেনালের দারুণ শুরু

১৮

কোনো দৃশ্য বাদ না দিয়েই সেন্সর ছাড়পত্র পেল বিতর্কিত ‘টক্সিক’

১৯

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ

২০