সরকারি দপ্তরে নিষিদ্ধ হচ্ছে প্লাস্টিকের বোতল

 

নিজস্ব প্রতি‌বেদক: দেশকে ২০২৬ সালের মধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য (ওয়ান টাইম) প্লাস্টিকমুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এই লক্ষ্য অর্জনে সবার আগে সরকারি দপ্তরগুলোয় প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সরকারি দপ্তরগুলোয় প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাচের বোতলে পানি রাখার জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পাশাপাশি সরকারি আমন্ত্রণপত্র, নিমন্ত্রণপত্র, ভিজিটিং কার্ড এবং ফাইল ফোল্ডারে প্লাস্টিকের ব্যবহার ও লেমিনেটিং করা বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়কমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন সরকারি দপ্তরে ওয়ান টাইম প্লাস্টিকসামগ্রী বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিকের অবাধ ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকসামগ্রীর ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এসব প্লাস্টিক পরে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণায় পরিণত হয়ে মাছসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে ঢুকে পড়ছে। খাদ্যপণ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরে তা বিষাক্ত রাসায়নিক অণু হিসেবে প্রবেশ করে ক্যানসারসহ নানা রোগের সৃষ্টি করছে। এসব বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দিয়েছি।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশে কঠিন বর্জ্যের ১০ শতাংশই প্লাস্টিক। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী (রিসাইক্লিং) করা হয়। বাকি ৬০ শতাংশ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়। দেশে এ ধরনের প্লাস্টিক উৎপাদিত হয় বছরে ৩ হাজার ৭৪৪ টন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের কাপ, ড্রিংকিং স্ট্র, কটন বাড, খাবারের পাত্র, পানির বোতল, প্লাস্টিকের প্লেট, চামচ ও পলিথিন ব্যাগ। একবার ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া এসব প্লাস্টিকসামগ্রী খাল-বিল, নদী-নালা হয়ে সাগরে চলে যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চাপা পড়ছে মাটির নিচে। এতে একদিকে মাটি যেমন উর্বরতা হারাচ্ছে, তেমনি প্লাস্টিক দূষণের শিকার হচ্ছে সমুদ্র।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) সম্প্রতি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়। শুধু ঢাকায় প্রতিবছর ৬৪৬ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে ৪৮ শতাংশ ভাগাড়ে যায়, ৩৭ শতাংশ পুনঃ ব্যবহার করা হয়, ১২ শতাংশ নদীতে ফেলা হয় এবং বাকি ৩ শতাংশ রাস্তার কাছে ফেলা হয়।

করোনা মহামারির পর দেশে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকসামগ্রীর ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে। এটি ঠেকাতে সরকার এর মধ্যে ‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২১’ তৈরি করেছে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বন্ধে প্রাথমিকভাবে দেশের ১২ জেলার উপকূলীয় ৪০টি উপজেলাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলোর পাশাপাশি এসব উপজেলায় এ-সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সরাসরি নিষিদ্ধ করেছে। আবার কেউ কেউ ধাপে ধাপে নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু দেশে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন থাকলেও তার বাস্তবায়ন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Title