Publisher
২৬ মে ২০২১, ১:০৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ইয়াসের প্রভাবে বরগুনায় অর্ধ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত

রাসেল হাওলাদার, বরগুনা প্রতিনিধি :ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জোয়ারের চাপে বরগুনার নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অর্ধ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায়া চরম বিপাকে পড়েছেন এসব এলাকার হাজারো মানুষ। স্বল্প উচ্চতার বেড়িবাঁধের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ও নাজুক বাঁধের কারণে এসব এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

এছাড়া উঁচু জোয়ারের কারণে বরগুনার বাইনচটকি, বড়ইতলা ও পুরাকাটা ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কসহ গ্যাংওয়ে তলিয়ে গেছে। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফেরি চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে বরগুনার পশ্চিম গুলবুনিয়া, বড়ইতলা এবং ঢালভাঙা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকার নদীর তীরের লোকালয় স¤পূর্ণ তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। ভেসে গেছে এসব এলাকার বেশ কিছু পুকুরের মাছ।

পাথরঘাটা পূর্ব রুপদোন এলাকার বাসিন্দা মো. শামসুল হক বলেন, এই এলাকায় জোয়ারের চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধসে পড়েছে। সেই পানির চাপে তার বসবাসের ঘরটিও ভেঙে গেছে।

বড়ইতলা এলাকার বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এই এলাকায় বাঁধ বলতে কিছু নেই। বেশি উচ্চতার জোয়ারে আমাদের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়া। প্লাবিত হওয়ায় এসব এলাকার হাজারো মানুষের ঘরে আজ রান্না হবে না বলেও জানান তিনি।

পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা গ্রামের বাসিন্দা মোসলেম আলী বলেন, বরগুনা জেলার মধ্যে সব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে পদ্মা এলাকা। এখানে কোনো বেড়িবাঁধ নেই। জিও ব্যাগ দিয়ে এখানে নদীর পানির প্রবাহ প্রতিহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তা কোনো কাজে আসছে না। এখান থেকে লোকালয় পানি প্রবেশ করে অন্তত সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ভেসে গেছে ফসলের মাঠসহ পুকুর ও মাছের ঘের।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬০ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বরগুনা জেলায় ২২টি পোল্ডারে ৮০৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে জেলার ২৯ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।

বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক মো. মাহতাব হোসেন বলেন, বরগুনার নদ-নদীতে আজ ৩.৩২ মিটার উচ্চতায় জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়েছে। যা বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার উপরে।

এ বিষয়ে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার আলম বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে ২৯ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। উঁচু জোয়ারের কারণে এসব বাঁধ দিয়ে লোকালয় পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়াও উচু জোয়ারের কারণে বাঁধের বাইরের এলাকাগুলোও প্লাবিত হয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পৃথিবী কাঁধে বয়ে বেড়াচ্ছেন ট্রাম্প, ছবি নিয়ে হাস্যরস

ভাঙ্গায় মাদকবিরোধী সভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২০

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বভাব: ইরান

বাংলাদেশি ভক্তরাও একভাবে আর্জেন্টাইনই: এমি মার্তিনেজ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরান ফিরছে মাথা উঁচু করে

হাবিবুর রহমানসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, চঞ্চলের ২০ বছরের কারাদণ্ড

জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার ক্ষতি ৮.৭ বিলিয়ন ডলার: জাতিসংঘ

ফুটবল ভক্তদের জন্য নোরা-সঞ্জয় দেবের নতুন উপহার

যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই ইরাক সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্পারসো’ আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

১০

‘ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই’, আর্জেন্টিনাকে হুঁশিয়ারি কেপ ভার্দের

১১

ইতালিতে একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, আহত ছেলে

১২

মা-বোনসহ ঢাবি ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতকের পরিচয় নিয়ে যা জানা গেল

১৩

বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

১৪

‘কোনো কিছুই অসম্ভব নয়’ – আর্জেন্টিনাকে পেয়ে বলল কেপ ভার্দে

১৫

ফেসবুক স্ট্যাটাসে ক্ষমা চাইলেন, সন্ধ্যায় মিলল গাছে ঝুলন্ত মরদেহ

১৬

ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের

১৭

ইসরাইল-লেবানন চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

১৮

ইরানের হৃদয় ভেঙে ইতিহাস গড়ে নকআউটে মিশর

১৯

দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ

২০