Ritesh Beghi
১ অগাস্ট ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

তীব্র হচ্ছে এল নিনো, চরম তাপপ্রবাহ, বন্যা ও খরার সতর্কবার্তা দিল জাতিসংঘ

বিশ্বজুড়ে আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে শক্তিশালী এল নিনো’র প্রভাব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।

আবহাওয়ার এই বিশেষ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আটলান্টিক মহাসাগরের পৃষ্ঠে অস্বাভাবিক উষ্ণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ডব্লিউএমওর মতে, গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ এলাকাগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার তারতম্য ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা একটি শক্তিশালী এল নিনোরই স্পষ্ট ইঙ্গিত।

সংস্থাটি বলছে, এই আগাম পূর্বাভাসের ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার ও সাধারণ মানুষ সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার জন্য মূল্যবান সময় পাবে। আগাম পরিকল্পনা এবং ঝুঁকি হ্রাসের পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, তীব্র তাপপ্রবাহ, ভয়াবহ দাবানল এবং মহাসাগরের রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রাই প্রমাণ করে যে এল নিনো আমাদের এই অতি-উষ্ণ গ্রহের পরিস্থিতি আরও কতটা খারাপ করে তুলছে। এতে করে ভয়াবহ বন্যা ও খরার মুখোমুখি হতে পারে বিশ্ব।

তিনি মনে করেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অব্যাহত নির্ভরতাই মূলত জলবায়ু সংকটকে ত্বরান্বিত করছে। কয়লা, তেল এবং গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি ভবিষ্যতের ঝুঁকি আরও বাড়াবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জোর দিয়ে বলেন, এল নিনো বিশ্বের অন্যতম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জলবায়ুগত ঘটনা হলেও, শুধু পূর্বাভাস দিয়ে কখনো দুর্যোগ ঠেকানো যায় না।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান এল নিনোর প্রভাব এমন এক সময়ে দেখা যাচ্ছে যখন মহাসাগরের উষ্ণতা এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা নজিরবিহীনভাবে বাড়ছে। তাই আগাম প্রস্তুতির বিষয়টি এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য জলবায়ু তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দেশের সরকার, মানবিক সংস্থা এবং কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের মতো জরুরি বিভাগগুলো চরম আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনতে পারে এবং এতে করে মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করা সহজ হবে।

সূত্র: ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাম উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৮৪০

দুই মেট্রো স্টেশনে বোমা আতঙ্ক, বস্তায় পাওয়া গেল জর্দার কৌটা-পান

তীব্র হচ্ছে এল নিনো, চরম তাপপ্রবাহ, বন্যা ও খরার সতর্কবার্তা দিল জাতিসংঘ

ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত অন্তত ৯

ভারতে নেওয়ার আগে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও টিএফআই সেলে রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

‘জৈন্তাপুরে পাটওয়ারীর গাড়িবহরকে কড়া নিরাপত্তায় সীমান্ত পার করে দেওয়া হয়’ — হামলার দাবি নাকচ ওসির

‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে মেজর জাহিদকে হত্যা, স্ত্রী-সন্তানকে গুমের অভিযোগ

ট্রাম্পের ১৫ দফার রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে ‘বোর্ড অব পিস’

বগুড়ায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪

র‍্যাবের ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক-প্রসিকিউশন

১০

বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরছে, বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

১১

গ্যাসের দাম বাড়ালে আমরা পেট্রোবাংলা ঘেরাও করব: নাহিদ ইসলাম

১২

বিশ্বকাপ স্বত্ব বিক্রি থেকে পিছু হটলেন ফিফা সভাপতি

১৩

অনুষ্ঠান শেষে একা ঘুরছিল ২ বছরের শিশু, পরিবারকে খুঁজছে পুলিশ

১৪

বেগুনের কেজি ১৫০ আর ৪০০ ছুঁই ছুঁই কাঁচা মরিচ

১৫

সিলেটে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলার দাবি, অস্বীকার পুলিশের

১৬

আনোয়ারায় চারতলা থেকে পড়ে তিন বছরের শিশুর মৃত্যু

১৭

এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

১৮

বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনলেন বিরাট-আনুশকা, কী আছে এতে

১৯

ফিফার নতুন পদক্ষেপ, বিপাকে আর্জেন্টিনা

২০