news desk
২৪ অগাস্ট ২০২০, ৩:১৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী ১৪ পৌরসভায় নির্বাচনীয় হওয়া

বাগমারা রাজশাহীঃ রাজশাহীতে ১৪টি পৌরসভার আসন্ন নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এগুলোয় সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসেবে চলতি বছরের শেষের দিকে নির্বাচন হওয়ার কথা। আর সময়ের অঙ্ক কষেই নেতারা মাঠে নেমেছেন।

পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন নিতে বেশ কয়েক মাস ধরে বড় দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা লবিং ও গ্রুপিং শুরু করেছেন। জেলা ও কেন্দ্রের শীর্ষ নেতাদের আশীর্বাদ পেতে তারা প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন। আর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন পেতে বাড়িয়েছেন সাংগঠনিক তৎপরতা। সর্বশেষ ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে মেয়র প্রার্থী হিসেবে অনেকেই আলোচনায় এসেছেন। ফলে রাজশাহীর পৌরসভাগুলোতে ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

রাজশাহী জেলার ১৪টি পৌরসভা গুলো হলো- গোদাগাড়ী, কাকনহাট, তানোর, মুন্ডুমালা, নওহাটা, কাটাখালি, কেশরহাট, ভবনীগঞ্জ, তাহেরপুর, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, চারঘাট, বাঘা ও আড়ানী। এ সব পৌরসভার সবগুলোতেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা তৎপরতা শুরু করেছেন।

এর মধ্যে গোদাগাড়ী পৌরসভায় বর্তমান মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু এবং ওয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। এ পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক মেয়র আনোয়ারুল চৌধুরী ও গোলাম কিবরিয়া রুনুর নাম শোনা যাচ্ছে।

গোদাগাড়ী উপজেলার অপর পৌরসভা কাঁকনহাটের বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মজিদ আবারও নির্বাচন করবেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন যুবলীগের সাবেক নেতা আবদুল্লাহ হিল কাফি। আর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক ও হাফিজুর রহমান।

তানোরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ইমরুল হক এবং আবুল বাশার সুজনের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান মেয়র মিজানুর রহমান মিজান। তানোরের অপর পৌরসভা মুণ্ডমালার বর্তমান মেয়র তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী আর নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন গোলাম মোস্তফা, সাইদুর রহমান ও শরিফ খান। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মোজাম্মেল হক, ফিরোজ কবির ও আতাউর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে।

পবা উপজেলার দুটি পৌরসভা নওহাটা ও কাটাখালি। নওহাটায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল বারী খান এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল কবির রুনুর নাম শোনা যাচ্ছে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান মেয়র মকবুল হোসেন, ওয়াদুদ হাসান পিন্টু ও মামুনুর সরকার জেড। কাটাখালি পৌরসভার বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আব্বাস আলী আবারও মেয়র প্রার্থী। বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সিরাজুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম।

মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ, বর্তমান কাউন্সিলর রুস্তম আলী প্রামাণিক এবং শাহিনুর আলমের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কেবল সাবেক মেয়র আলাউদ্দিন আলোর নাম শোনা যাচ্ছে।

বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র আবদুল মালেক ও মামুন অর রশিদ মামুন। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মেয়র আবদুর রাজ্জাক প্রামাণিক ও শাহিনুর রহমান শাহিন। বাগমারা উপজেলার অপর পৌরসভা তাহেরপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে কেবল বর্তমান মেয়র আবুল কালাম আজাদের নাম শোনা যাচ্ছে। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মেয়র আবু নাঈম শামসুর রহমান মিন্টু।

দুর্গাপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান মেয়র তোফাজ্জল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান ফিরোজ, আবদুর রাজ্জাক ও আজাহার আলী। বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জার্জিস হোসেন সোহেল ও সাইদুর রহমান মন্টু।

পুঠিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র রবিউল ইসলাম রবি, খালেদ হোসেন লালন, হাবিবুর রহমান হাবিব এবং ইব্রাহিম সরকারের নাম শোনা যাচ্ছে। বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে মামুন খান, আসাদুল হক আসাদ ও বাবুল হোসেন আলোচনায় রয়েছেন।

চারঘাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মধ্যে একরামুল হক ও কাজী মাহমুদুল ইসলাম মামুনের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া বিএনপির একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র জাকিরুল ইসলাম বিকুল মাঠে রয়েছেন।

বাঘা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন সাবেক মেয়র আক্কাছ আলী, মাসুদ রানা তিলু, শাহিনুর রহমান পিন্টু ও ওয়াহেদ সাদেক কবির। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান মেয়র আবদুর রাজ্জাক ও কামাল হোসেন। আড়ানি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়র মুক্তার আলী, শহীদুজ্জামান শহীদ, মতিউর রহমান মতি এবং রিবন আহম্মেদ বাপ্পী মাঠে রয়েছেন। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম ও সুজাত আহমেদ তুফান।

এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা বলেন, আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন। দলীয়ভাবে যাদের মনোনয়ন দেয়া হবে, নেতাকর্মীরা তাদের পাশেই থাকবেন।

পৌরসভা নির্বাচন সম্পর্কে রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার বলেন, আগামী পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না তা দলের হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত দেবে। তবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য বিএনপি নেতারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ

১

১৫ দিনের মধ্যে অবৈধ চুনাকারখানা বন্ধ করতে হবে: এমপি মান্নান

২

চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন নির্ধারণে ৮ নির্দেশনা

৩

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঙ্গলবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক তারেক রহমানের

৪

ধর্ম নয়, সবার বড় পরিচয় বাংলাদেশি : তারেক রহমান

৫

অর্থনীতি স্থিতিশীল হতে দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী

৬

চলতি মাসেই বাড়তি বেতন পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

৭

আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু

৮

ইরান যুদ্ধে ‘গুরুতর ব্যর্থতা’ স্বীকার জেডি ভ্যান্সের

৯

ক্যালিফোর্নিয়ায় বিধ্বংসী দাবানল, পুড়ল শত শত একর জমি

১০

প্রশাসনে বড় রদবদল: সাত সচিবের দপ্তর বদল

১১

পুলিশ প্রশাসনে রদবদল: ১১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি

১২

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বন্দরে ‘বাংলাদেশ সনাতন সংঘ’র গীতা দান

১৩

বাপার সিদ্ধিরগঞ্জ আঞ্চলিক সমন্বয় কমিটি গঠন

১৪

ইউরিয়া সার কারখানা স্কুল এন্ড কলেজের পুনর্মিলনী-২০২৬: অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু

১৫

বিরোধীরা না থাকলেও বাস্তবায়িত হবে ‘জুলাই সনদ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৬

বিএনপির মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ : হাসনাত আবদুল্লাহ

১৭

এখন কেমন আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যা জানালেন সফরসঙ্গী

১৮

ইতালিতে কর্মী নিতে ঢাকায় বিশেষ আয়োজন, কবে— সরকারকে জানালেন রাষ্ট্রদূত

১৯

ইসরাইলের সহায়তার প্রস্তাবে যা জানালেন সৌদি যুবরাজ

২০