Ritesh Beghi
২ মে ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের অন্ধকার যুগ যেভাবে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ধারার জন্ম দিচ্ছে

লন্ডনে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও ডি আগুইয়ার প্যাট্রিওটা সম্প্রতি এক বক্তৃতায় আধুনিক বিশ্বের এক হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরেছেন। তার মতে, বর্তমান পৃথিবী বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, পরিবেশের বিপর্যয়, একের পর এক যুদ্ধ এবং লাগামহীন সামরিক বাজেটের মতো সংকটে জর্জরিত। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিকতার চরম অবমাননা, বাণিজ্যে প্রতিবন্ধকতা, গণতান্ত্রিক শাসনের দুর্বলতা এবং একই সঙ্গে আশা ও ভীতি জাগানো প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ আমাদের এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তবে এই চরম নৈরাজ্যের মধ্যেও তিনি আশার এক নতুন সুর শুনতে পাচ্ছেন। তার মতে, আপাতদৃষ্টিতে সবকিছু থমকে গেছে মনে হলেও ভেতরে ভেতরে এক বিশাল পরিবর্তন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তথাকথিত ‘গ্লোবাল নর্থ’ বা উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে। একদিকে রয়েছে একক আধিপত্যবাদী পরাশক্তি এবং অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আছে বহুপাক্ষিকবাদে বিশ্বাসী এক বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠী।

এই পরিবর্তনের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে ইরানের যুদ্ধ। ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের মতে, ইরানে পরিচালিত অত্যন্ত অজনপ্রিয় এবং অবৈধ যুদ্ধটি একতরফা আধিপত্যবাদের কারণে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এই সংঘাত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বিশ্বকে আর কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে বা একমুখী মেরুকরণে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা নীতি এবং আইন অমান্য করে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের অন্ধকার যুগটি এখন দ্রুত সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালির সংকটের মধ্য দিয়ে যেন আমেরিকার এই একক আধিপত্যের পতন ঘটছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে পশ্চিমা অন্যান্য দেশগুলো এখন নতুন করে নিজেদের অবস্থান সাজিয়ে নিচ্ছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল থাকার দিন শেষ।

পারস্য উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর ক্ষেত্রে আমেরিকার দেওয়া নিরাপত্তা বলয় কতটা ভঙ্গুর ছিল, তা আজ সবার সামনে স্পষ্ট। এমনকি ইউক্রেন সংকটের ক্ষেত্রেও এই নিরাপত্তা নীতি ইউরোপের স্বার্থ রক্ষায় তেমন কোনো কাজে আসেনি। এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বের অনেক দেশই এখন উপলব্ধি করতে পারছে যে কোনো একটি নির্দিষ্ট শক্তির পেছনে না ছুটে বরং বিভিন্ন দেশের সাথে বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলাই তাদের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও বুদ্ধিমানের কাজ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত মৎস্যজীবী দল নেতা টুটুলকে জাকির খানের অর্থসহায়তা

জুনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ

লেবাননে গির্জায় হামলা চালিয়েও ‘খ্রিষ্টানদের রক্ষাকর্তা’ সাজার দাবি নেতানিয়াহুর

‘২৩ বছর ধরে আমাকে শেষ করতে চেয়েছেন, পারেননি’

তেহরানে খামেনির শোক র‌্যালিতে জনসমুদ্র

১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সাগরে নিম্নচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

যে ৪ কারণে বাদ পড়ল ব্রাজিল

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নিহত বেড়ে ৯

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

১০

বিয়ের সাজে আমির-গৌরী, প্রথম ছবি প্রকাশ্যে

১১

বিশ্বকাপে ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে বড় আকর্ষণ হালান্ড-গ্যাব্রিয়েল দ্বৈরথ

১২

জামায়াত-শিবিরের বাঁচার জন্য হলেও বিএনপিকে ক্ষমতায় রাখা প্রয়োজন: রাশেদ

১৩

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন

১৪

রোনালদো এখনো যেকোনো দলের জন্য ভয়ঙ্কর: স্পেন গোলরক্ষক

১৫

আবার দেখা হতে যাচ্ছে দুই বন্ধুর

১৬

এলপি গ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ

১৭

নরওয়েকে হারালে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কারা

১৮

২০ সেকেন্ডের স্পাইডার-ম্যান টিজারে মেসির আয় ১৮৩ কোটি টাকা

১৯

তেলের দামের প্রভাবে ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম

২০