Ritesh Beghi
৫ মার্চ ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

তেলের দাম ছাড়াতে পারে ১৫০ ডলার : বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এড হারস সতর্ক করেছেন, কৌশলগত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার এড হারস আল জাজিরাকে বলেন, ‘যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জ্বালানি তেলের অর্ধেক সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়, যদি মার্কিন নৌবাহিনী ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যেতে না পারে, তাহলে পরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে এবং এটি আমরা দেখতেও পারি।’

তিনি আরও যোগ করেন, আমরা ইতিমধ্যেই এলএনজি (LNG) বাজারে এর প্রভাব দেখতে পাচ্ছি। হামলার প্রথম দিনেই দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এমনকি সোমবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

হারস জানান, তেলের পাশাপাশি ডিজেলের দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। অনেক দেশ গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এখনই পেট্রোলিয়াম মজুত করতে শুরু করেছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যের ভবিষ্যতের জ্বালানি অর্ডারগুলোও প্রভাবিত হচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই পরিস্থিতির মারাত্মক প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইংল্যান্ড অঙ্গরাজ্যগুলোতে। যদি এমনটা ঘটে, তবে ঘরোয়া রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল হয়ে উঠবে।’ কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন (Midterm Elections)। ওই নির্বাচনে এর প্রভাব পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

dhakapost
বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায় / ছবি- সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ

হরমুজ প্রণালী হলো ওমান এবং ইরানের মাঝখানে অবস্থিত একটি সরু জলপথ, যা পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘অয়েল ট্রানজিট চোক পয়েন্ট’ বলা হয়। এর গুরুত্বের মূল কারণগুলো হলো— বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই সরু পথ দিয়েই যায়। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় রপ্তানিকারকদের প্রধান পথ এটি।

অন্যদিকে, কাতার থেকে বিশ্ববাজারে সরবরাহকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় পুরোটাই এই প্রণালী দিয়ে পার হয়। বর্তমানে ইউরোপে গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হওয়ার পেছনে এই পথের নিরাপত্তাহীনতা বড় ভূমিকা রাখছে।

এই প্রণালীর বিকল্প হিসেবে খুব কম পাইপলাইন রয়েছে এবং সেগুলোর ধারণক্ষমতাও সীমিত। ফলে এই পথ বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানির হাহাকার।

অর্থনীতিবিদ এড হারসের মতে, সরবরাহ সামান্য বিঘ্নিত হলেও তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে উঠে যেতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দেবে।

সূত্র : আল-জাজিরা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত মৎস্যজীবী দল নেতা টুটুলকে জাকির খানের অর্থসহায়তা

জুনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ

লেবাননে গির্জায় হামলা চালিয়েও ‘খ্রিষ্টানদের রক্ষাকর্তা’ সাজার দাবি নেতানিয়াহুর

‘২৩ বছর ধরে আমাকে শেষ করতে চেয়েছেন, পারেননি’

তেহরানে খামেনির শোক র‌্যালিতে জনসমুদ্র

১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সাগরে নিম্নচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

যে ৪ কারণে বাদ পড়ল ব্রাজিল

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে নিহত বেড়ে ৯

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

১০

বিয়ের সাজে আমির-গৌরী, প্রথম ছবি প্রকাশ্যে

১১

বিশ্বকাপে ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে বড় আকর্ষণ হালান্ড-গ্যাব্রিয়েল দ্বৈরথ

১২

জামায়াত-শিবিরের বাঁচার জন্য হলেও বিএনপিকে ক্ষমতায় রাখা প্রয়োজন: রাশেদ

১৩

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন

১৪

রোনালদো এখনো যেকোনো দলের জন্য ভয়ঙ্কর: স্পেন গোলরক্ষক

১৫

আবার দেখা হতে যাচ্ছে দুই বন্ধুর

১৬

এলপি গ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ

১৭

নরওয়েকে হারালে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কারা

১৮

২০ সেকেন্ডের স্পাইডার-ম্যান টিজারে মেসির আয় ১৮৩ কোটি টাকা

১৯

তেলের দামের প্রভাবে ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম

২০