প্রিমিয়াম স্মার্টফোন কেনার সময় ক্যামেরা, প্রসেসর বা ডিসপ্লের পাশাপাশি সফটওয়্যার আপডেটের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘদিন অপারেটিং সিস্টেম ও নিরাপত্তা আপডেট পাওয়া একটি ফোন বাজারে আসার বহু বছর পরও কার্যকর রাখা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে অ্যাপলের আইফোন ও গুগলের পিক্সেল—দুই ব্র্যান্ডই দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্ট দিয়ে থাকে। তবে তাদের নীতিতে রয়েছে কিছু পার্থক্য।
গুগলের সাত বছরের নিশ্চয়তা
পিক্সেল ৮ সিরিজ থেকে গুগল সাত বছরের সফটওয়্যার সাপোর্ট নীতি চালু করেছে। এই নীতির আওতায় নির্দিষ্ট পিক্সেল ফোনগুলো প্রথম বাজারে আসার সময় থেকে সাত বছর পর্যন্ত অপারেটিং সিস্টেম ও নিরাপত্তা আপডেট পাবে।
ফলে যারা একটি স্মার্টফোন ছয় বা সাত বছর পর্যন্ত ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য গুগলের এই নীতি বাড়তি নিশ্চয়তা দেয়।
উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালে বাজারে আসা পিক্সেল ১০ সাত বছরের নীতি অনুযায়ী ২০৩২ সালের আগস্ট পর্যন্ত আপডেট পাওয়ার কথা। ফলে দীর্ঘদিন ফোনটি প্রধান ডিভাইস হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলে পিক্সেল বেশ আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।
অ্যাপলের পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন
অ্যাপল সাধারণত গুগলের মতো নির্দিষ্ট করে সাত বছরের আইওএস আপডেটের প্রতিশ্রুতি দেয় না। তবে পুরনো আইফোনে দীর্ঘ সময় ধরে নতুন আইওএস সংস্করণ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির বেশ ভালো রেকর্ড রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে আইফোন ১৭ নিয়ে অ্যাপলের নথিতেও সফটওয়্যার ও নিরাপত্তা আপডেটের ন্যূনতম পাঁচ বছরের সময়সীমার কথা উল্লেখ রয়েছে। বাস্তবে অবশ্য অ্যাপলের পুরোনো আইফোনগুলোর অনেকগুলোই পাঁচ বছরের পরও বড় আইওএস আপডেট পেয়েছে।
এ কারণে শুধু ঘোষিত সময়সীমার ভিত্তিতে আইফোন ও পিক্সেলের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা পুরোপুরি সহজ নয়।
ফোন কতদিন কার্যকর থাকবে, তা নির্ভর করবে পারফরম্যান্সের ওপরও
সফটওয়্যার আপডেটই একটি ফোনের আয়ুষ্কাল নির্ধারণের একমাত্র বিষয় নয়। কোনো ফোন নিয়মিত নিরাপত্তা আপডেট পেলেও নতুন অ্যাপ, গেম কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফিচার চালাতে গিয়ে প্রসেসর দুর্বল হয়ে পড়লে সেটি ব্যবহারে ধীরগতির অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
আইফোন ১৭-এ রয়েছে অ্যাপলের এ১৯ চিপ। অন্যদিকে পিক্সেল ১০-এ ব্যবহার করা হয়েছে গুগলের টেনসর জি৫ প্রসেসর। বিভিন্ন বেঞ্চমার্ক পরীক্ষায় আইফোন ১৭ গিকবেঞ্চ ৬-এর সিঙ্গেল-কোর ও মাল্টি-কোর পারফরম্যান্সে পিক্সেল ১০-এর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
তবে বেঞ্চমার্ক স্কোর দিয়ে প্রতিদিনের ব্যবহারের পুরো অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা যায় না। গুগলের টেনসর চিপ মূলত মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফিচারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। অন্যদিকে অ্যাপলের চিপ সাধারণ পারফরম্যান্স ও শক্তি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত।
স্মার্টফোনের অভিজ্ঞতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। গুগল পিক্সেল ফোনে জেমিনি এআই এবং জিমেইল, ম্যাপস ও ক্রোমের মতো গুগলের বিভিন্ন সেবার সঙ্গে গভীরভাবে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করেছে।
ভবিষ্যতে স্মার্টফোনের দৈনন্দিন কাজে এআইয়ের ব্যবহার আরও বাড়লে পিক্সেলের এই সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে কোনো ফোন দীর্ঘ সময় সফটওয়্যার আপডেট পেলেই যে নতুন সব ফিচার সেটিতে পাওয়া যাবে, এমন নয়। কিছু এআই ফিচারের জন্য নতুন হার্ডওয়্যার প্রয়োজন হতে পারে। ফলে পুরনো পিক্সেল ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ও নিরাপত্তা আপডেট চললেও নতুন কিছু এআই সুবিধা কেবল নতুন প্রজন্মের ডিভাইসের জন্য সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
তাহলে কোনটি বেছে নেবেন?
যারা দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্টের বিষয়ে স্পষ্ট ও লিখিত নিশ্চয়তা চান, তাদের জন্য গুগল পিক্সেলের সুবিধা বেশি। সাত বছরের আপডেট প্রতিশ্রুতি একটি ব্যয়বহুল স্মার্টফোন কেনার পর কতদিন সেটি অফিসিয়াল সফটওয়্যার সাপোর্ট পাবে—সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দেয়।
অন্যদিকে পুরোনো আইফোনে দীর্ঘদিন সফটওয়্যার আপডেট দেওয়ার রেকর্ড এবং শক্তিশালী হার্ডওয়্যারের কারণে অ্যাপলও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই।
যারা তিন-চার বছর পরপর স্মার্টফোন পরিবর্তন করেন, তাদের ক্ষেত্রে আইফোন ও পিক্সেলের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সাপোর্টের পার্থক্য খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। তবে যারা একটি ফ্ল্যাগশিপ ফোন ছয় বা সাত বছর ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য গুগলের সাত বছরের আপডেট প্রতিশ্রুতি পিক্সেলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার সাপোর্টের ক্ষেত্রে পিক্সেল বেশি নিশ্চয়তা দেয়। আর আইফোন দীর্ঘদিনের সফটওয়্যার সাপোর্টের রেকর্ড, শক্তিশালী হার্ডওয়্যার ও পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোনটি বেশি দিন টিকবে, তা নির্ভর করবে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন ও পছন্দের ওপর।
সূত্র: সামা টিভি অনলাইন
মন্তব্য করুন